আতিকুর রহমান মাহমুদ, ছাতক থেকে ছাতকে কালারুকা সাত গ্রামবাসীর ব্যানারে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বড়হাওরের বেরিবাঁধ নামক স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ২৮ জুলাই কাজীহাটা নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী কালারুকা গ্রাম ও গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট, পোর্টাল, ফেসবুক পেইজ লাইভে মিথ্যা বানোয়াট মানহানীকর বক্তব্যের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কালারুকা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার শফিক মিয়ার সভাপতি ও সবুজ আলী পাপলুর পরিচালনায় মানববন্ধন চলাকালে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, প্রবীন মুরব্বি মকসুদ আলী, এ্যাডভোকেট মুহিবুর রহমান মানিক, সাবেক মেম্বার নূর ইসলাম, মুরব্বী মর্তুজ আলী, মাওলানা তোফায়েল আহমদ মিনার, ইউপি সদস্য আবু সাদাত দুলাল, সাবেক মেম্বার ওয়াছির আলী, জসিম উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুম, মখলিছ আলী, তৈয়ব আলী, বাবুল মিয়া, সাজ্জাদ মিয়া প্রমুখ।
এসময় কালারুকা লামাপাড়া গ্রামের মুরব্বি ফখর উদ্দিন, কালারুকা শঙ্করপুরের রজব আলী, নূর আলী, নিজাম উদ্দিন, কালারুকা নজমপুরের চান্দ আলী, হেলাল মিয়া, কালারুকা খালপাড়ের রহিম বাদশা, পূর্বপাড়ার শফিউল আলম জহির, তেরাব আলী, বুরহান উদ্দিন, সমছু মিয়া, উকিল আলী, খছরু মিয়া, আনোয়ার হোসেন সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার নোমান, আরজান আলী, শাহজাহান মিয়া, আব্দুল মতিন, জালাল উদ্দিন, আব্দুর রহিম, কয়েছ মিয়া, ফজর আলী, আনছার আলী, খলিলুর রহমান কালন, কালারুকা বিল্লাই গ্রামের দুদু মিয়া, সাব্বির আহমদ, আজাদুর রহমান, কচির মিয়া, শাহজাহান, আজির উদ্দিন, লামাপাড়ার আঞ্জব আলী, মঈনুদ্দিন, কফিল মিয়া, চানপুরের হাশিম মিয়া, ছাদ মিয়া, কালা মিয়া, আবদুস সালাম, ফখর উদ্দিনসহ কালারুকা, খালপাড়, শঙ্করপুর পিরিল্লাপাড়া, বিল্লাই, লামাপাড়া, চানপুর, নজমপুর গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্থরের প্রায় ৫শতাধিক লোকজন মানববন্ধ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধ চলাকালে প্রতিবাদ সামাবেশে বক্তারা বলেন, কালারুকা পয়েন্টের পশ্চিম দিকে বড় হাওর বেরিবাঁধ এলাকার সব জমিগুলো কালারুকা গ্রামের। কাজীহাটা নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন কালারুকা পয়েন্টে আসার কোন রাস্তাঘাট ছিলনা। হেমন্তে পায়ে ও বর্ষায় তারা ভিজে কিংবা নৌকা যোগে তারা চলাচল করতো। এক সময় কাজীহাটা নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজনের অনুরোধে কালারুকা গ্রামের পূর্ব পুরুষরা তাদের রেকর্ডিও ভূমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করে দেন। যাতে কাজীহাটা নোয়াগাঁওসহ আশপাশ গ্রামের লোকজন ছাড়াও স্কুল কলেজ মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচল করতে পারে। পরবর্তীতে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হয়। এ কারণে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে।
এর পর থেকে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কালারুকা গ্রামবাসীর দেওয়া রেকর্ডিও জায়গার উপর রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে আসছে। এতে কালারুকা গ্রামের মানুষ তাদেরকে কোন প্রকার চলাচলে বাঁধা নিষেধ করেন নাই। প্রতিবেশি হিসেবে তারা মিলেমিশে চলাফেরাসহ বসবাস করে আসছিলেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ২৮ জুলাই কিছু প্রিন্ট ও লাইভ অনলাইন পোর্টালে কাজীহাটা নোয়াগাঁও গ্রামের মানুষ বক্তব্যে বলেছে এই রাস্তা না কি তাদের! এমন বক্তব্য চরম মিথ্যাচার। তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত এইসমস্থ মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্যে প্রত্যাহার করে নেয়ার দাবী জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, গত ২৫জুন সকালে ছাতক-সিলেট রেল পথের জায়গা থেকে মাটি কাটা শুরু করেছিল সাদক আলীসহ কয়েকজন লোক। এতে সরকারি জায়গা থেকে মাটি কাটতে নিষেধ করেন, কালারুকা গ্রামের ফরজন্দ আলীর পুত্র সুহেল মিয়া। এ নিয়ে সুহেল মিয়ার উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষের সাদক আলী গংরা। এতে সুহেল, তার চাচাতো ভাই ছুরাব আলীসহ বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়। এদের মধ্যে মুমুর্ষ অবস্থায় ছুরাব আলী (৫৫) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। বাঁচবে কি মরবে তার ঠিক নেই। কিন্তু এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামীরা গ্রেফতার হচ্ছেনা। বক্তারা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন