হাউস অব কমন্সে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

391
gb
জিবি নিউজ২৪.কম || লন্ডন, ২৭ মার্চ ||
যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে ব্রিটিশ এমপিদের নিয়ে আড়ম্বরপূর্ণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করলো যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।  এই অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাশিক ব্রিটিশ এমপি উপস্থিত ছিলেন।  মঙ্গলবার (২৭ মার্চ ২০১৮) যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের দি টেরেস প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।  এর আগে গত বছর একইরকমভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।  বক্তব্যে ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তারা বিভ্ন্নি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইসু্তে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকার কথা করেন এবং দেশের বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  বিট্রিশ এমপিরা  বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
 এই আয়োজনের শুরুতে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের হোস্ট জিম ফিজপেট্রিক এমপি।  তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যে সংখ্যক এমপি হাজির হয়েছেন অন্য কোনো অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমনটি আর ঘটেনি।  লেবারদলীয় এই এমপি আরো বলেন, স্বাধীনতার সূচনা থেকে বাংলাদেশ ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতার ৪৭তম বার্ষিকীর এই আয়োজনে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।  সম্প্রতি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষে ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এমপি বলেন, বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বাঙালির মানবিকতা আজ বিশ্বব্যাপি সমাদৃত।রোহিঙ্গাদের মানবিক দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর প্রশংসা করে মিনিষ্টার মার্ক ফিল্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে।  তিনি বলেন, কক্সবাজারের মতো একটি জনবহুল এলাকার মানুষ নিজেদের কষ্ট অগ্রাহ্য করে লক্ষ, লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও উদার রাষ্ট্র।  এই ভূখণ্ডের মানুষ মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ।  বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে রাষ্ট্রের জন্ম তা আজ বিশ্ব সভায় সমাদৃত এবং ৪৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে।
সঙ্গীতা আহমেদ ও সৈয়দা সায়মা আহমদের যৌথ পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, তার বক্তৃতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তর সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনে আসার কথা উল্লেখ করেন।  সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের ভূমিকাও স্মরণ করেন শাহরিয়ার আলম এমপি।
বাংলাদেশের বন্ধু হিসাবে পরিচত এন মেইন এমপি বলেন, সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন,  যা না বললেই নয়।  বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন মাত্র ৪৭ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা সত্যই অকল্পনীয়।  শেখ হাসিনার ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়া আপনাদের সকলের উচিত।সারা বিশ্বকে বাংলাদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে তাদের সক্ষমতা।
এডিংবার সাউথ ইস্ট এর এমপি জোয়েনা চ্যারি ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনারা আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর উদযাপন করছেন,  আমি আশাবাদী স্কটল্যান্ড একদিন স্বাধীনতা অর্জন করবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের মানবিক ভুমিকার ও প্রসংশা করেন স্টিভেন স্টিংস এম পি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  তিনি বাংলাদেশের  শিক্ষাক্ষেত্রে  অভাবনীয় সফলতার উল্লেখ করেন।
 বৃটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন, যে কোন দেশে জাতীয় দিবস উদযাপন অবশ্যই গৌরবের।  দেশ এখন জাতির জনকের কন্যার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে।  এই অগ্রযাত্রায়  ব্রিটেনের সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
লিস ম্যাকানিজ এমপি বাংলাদেশের  মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেটা আবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ।
যুক্তরাজ্যের সরকারী দল কনজারভেটিভ, বিরোধী দল লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির এমপিসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্রিটিশ এমপি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।  ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে ৬৩ জন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে নিজেদের উপস্থিতি স্বাক্ষর বইয়ে রেকর্ডভুক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে দুটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।  বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণও প্রদর্শন করা হয়।  এছাড়া দেশাত্ববোধক গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়।  যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এমপিদের হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচার ইংরেজি সংস্করনসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান সম্বলিত তথ্য ব্রিটিশ এমপিদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য ব্রিটিশ এমপিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-  বৃটিশ মিডিয়া, লেকচার ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাইকেল এলিস এমপি, শ্যাডো সেক্রেটারি অফ স্টেট ডেভি আব্রাহাম, শ্যাডো লিডার অব দ্যা হাউজ অফ কমন্স ভ্যালেরী ভাজ এমপি, শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট জনথন আশওয়ার্থ এমপি, শ্যাডো এসএনপি স্পোকপার্সন জোয়ান্না চেরী এমপি, শ্যাডো মিনিষ্টার জুলিয়ে কুপার এমপি, শ্যাডো মিনিষ্টার ফ্যাবিয়ান হ্যামিল্টন এমপি, শ্যাডো চ্যান্সেলার অব এক্সচেকার জন ম্যাকডনাল এমপি, বিরেন্দ্র শর্মা এমপি, জেফ স্মীথ এমপি, নাজ শাহ এমপি, জেস ফিলিপস এমপি, জেসিকা মডার্ন এমপি, স্যান্ডি মার্টিন এমপি, জনাথন পরইনলডস এমপি, উইল কুইন্স এমপি, থেরেসা ভেলি এমপি,  স্টিফেন টিমস এমপি, সারাহ জোনস এমপি, লর্ড রাসেল ময়লি এমপি প্রমুখ।  অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জালাল উদ্দিন, সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, মারুফ আহমদ চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাজ্জাদ মিয়া, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, শাহ শামীম আহমদ, মাসুক ইবনে আনিস, রবিন পাল, সারব আলী, আসম মিসবাহ, মেহের নিগার চৌধুরী ও সিলেট জেলা আওয়ামাী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।