Bangla Newspaper

ইউএস-বাংলার ৫০ যাত্রী নিহত: হট লাইন চালু (ভিডিও)

54

জিবিনিউজ ডেস্ক:: নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। বিমানটিতে বাংলাদেশের ৩২ জন, নেপালের ৩৩ জন এবং মালদ্বীপ ও চীনের ১ জন করে যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ২৭ জন নারী, দুই শিশু ও ৩৭ জন পুরুষ ছিলেন। হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে এটি ছেড়ে যায়। নেপালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) এটি বিধ্বস্ত হয়। তবে প্রাথমিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি। ৭৮ আসন বিশিষ্ট ইউএস বাংলার বিএস-২১১ বিমানটির ৭১ আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী, আর ৪ জন ক্রু ছিলেন।
এদিকে নেপালে বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় তথ্য পেতে হট লাইন চালু করেছে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এই তথ্য দেন। ফোন নাম্বার দুটি হলো +৯৭৭৯৮১০১০০৪০১, +৯৭৭৯৮৬১৪৬৭৪২২। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম জানান, দূতাবাসের সকল কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও বিমানবন্দরে আছেন।
নেপালের কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের এরই মধ্যে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সব ধরণের বিমান উঠা-নামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুরেশ আচার্য জানিয়েছেন, বিমানটির যাত্রীদের মধ্যে ৩০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এয়ারপোর্টের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, দমকল বাহিনী এবং নেপাল সেনাবাহিনীর তরফ থেকে ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হয়েছে। নেপালের স্থানীয় দৈনিক দ্য হিমালয় টাইমস বলছে, বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনায় প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইএ। তবে নিহতের সঠিক সংখ্যা এখনও কেউ প্রকাশ করেনি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এরই মধ্যে বেশ কিছু যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করলেও পুড়ে যাওয়া বিমানটির ৫০ যাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুরেশ আচার্য বলেছেন, বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে ২০ যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেছেন, রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টার সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
ইউএস-বাংলার এস২-এজিইউ বিমানটি ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পৌঁছায়। নেপাল সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

Comments
Loading...