ডিমলায় ওজনে সার কম দিয়েও ধরা ছোয়ার বাহিরে ডিলার!

249
gb

ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী\

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাইইউনিয়নের ঠাকুরগঞ্জ বাজারে সার ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে স্থানীয়
জনতার কাছে অবরুদ্ধ এক সারের ডিলার দীর্ঘ প্রায় ৬ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরঅবশেষে অজানা কারনে মুক্ত হয়ে ধরা ছোয়ার বাহিরেই রয়ে গেছে ডিলার!এমন কি ওই ডিলারকে ওজনে কম দেবার অপরাধে কোনো অর্থদন্ড,কারাদন্ড,গুদাম
সিলগালা,লাইসেন্স বাতিল সহ তার বিরুদ্ধে কোনো রকমের আইনানুগব্যবস্থা গ্রহন না করেই তাকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন একে অপরকে দোষারপ করলেওস্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন সমন্বয়হীনতার অভাবেই এমনটা ঘটেছে ।
অভিযুক্ত ওই সারের ডিলার নীলফামারী জেলা সদরের গাছবাড়ি এলাকার বিকাশবিশ্বাসের পুত্র ও ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন ঠাকুরগঞ্জবাজারের লাবনী এন্টার প্রাইজের মালিক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস।
জানা গেছে, রবিবার(২৫শে ফেব্রæয়ারী) বিকেলে উপজেলার ঠাকুরগঞ্জবাজারে লাবনী এন্টার প্রাইজ হতে প্রত্যেক ইউরিয়া ৫০কেজি সারেরবস্তা৮শত টাকা মুল্যে ক্রয় করেন একই এলাকার ইউনুস আলীর পুত্র কৃষক এমদাদুল
হক(৪০) মৃত হবিবর রহমানের পুত্র আঃ ছাত্তার কৃষক(৫০)ফরিদুল ইসলামের পুত্ররেজাউল করিম(৫৫) মোজাম্মেল হকের পুত্র ফারুক হোসেন(৩৩)সহ অনেকেই।পরে তাদের ক্রয়কৃত বস্তায় সার কম রয়েছে মর্মে সন্দেহ হলে তারা অন্যখানেসেই সারের বস্তা গুলো ওজন করে দেখেন তাদের প্রতি বস্তায় সার রয়েছে ৪৫
ও ৪৪কেজি করে। যা নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বস্তায় ৫/৬কেজি করে কম।
পরে তারা ওই সারের ডিলারের মালিক বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের কাছে এর কারনজানতে চাইলে তিনি কৃষকদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এক পর্যায়েপ্রতারিত হওয়া কৃষকদের সাথে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ওই ডিলারকে ঠাকুরগঞ্জ
বাজারে তার নিজস্ব সারের গুদামেই তাকে তালাবদ্ধ অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রেখে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার কে বিষয়টি অবগত করেন।খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা তপন কুমার,ইউনিয়নটির
কৃষি উপ-সহকারী সাইদুল বারী ঘটনাস্থলে পৌছে অবরুদ্ধ ডিলারকে তাদেরসাথে ডিমলায় নিয়ে আসতে চাইলে এতে বিক্ষুদ্ধ জনতা আরো বেশিউত্তেজিত হয়ে উঠেন।পরে ডিমলা থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেআনেন।
ঘটনার দিনগত রাতে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুননাহার,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর,ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান

আনোয়ারুল হক সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ডিলারকে দীর্ঘ প্রায়৬ঘন্টা পর উদ্ধার করেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই ডিলারের বিরুদ্ধে এর পুর্বেও সার ওজনে সার কমদেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো।
তাই ঘটনার দিনও অভিনব পন্থায় সার ওজনে কম দেয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করেনীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহিম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা নাজমুন নাহারের কাছে ঘটনাটি অবগত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুননাহার বলেন, কৃষি বিভাগ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারলেওকেনো করেননি তা আমার জানা নেই ।তবে বিশেষ কোনো মহল ঘটনাটিকে পুজি করে যাতে সারের কৃত্রিম
সংকট তৈরীর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে কৃষকদের বিপাকে ফেলতে না পারে সেদিকটি বিবেচনা করে ডিলারের কাছে অঙ্গিকার নামা নিয়েই ঘটনাটিউপস্থিত সমাধান করা হয়েছে। এবং ডিলারকে নির্দেশনা দেয়াহয়েছে,এখন থেকে সারের মুল্য বস্তা ওজন করে যত কেজি হবে তত কেজি মুল্যরশিদের মাধ্যমে নিতে। এ ছাড়াও উক্ত সার ডিলারের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরী
করে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্ততি চলছে ।ডিমলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ডিলারকে দন্ড দিতে পারলেওতিনি তা করেননি । আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই সারের ডিলারেরব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব