আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (International Mother Language Day – IMLD) আজ কেবল একটি স্মরণদিবস নয়; এটি ভাষাগত বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ এবং মানবাধিকারের এক বৈশ্বিক প্রতীক। এই দিবসকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচার, প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও জনপ্রিয়করণে টেকসই সমর্থন আদায়ে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কানাডা প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক, ও গবেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে ১৯৯৯ সালে UNESCO আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু এই স্বীকৃতিকে প্রবাসী সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কাজটি সহজ ছিল না। দেলোয়ার জাহিদ এই শূন্যস্থান পূরণে সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও জনশিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
কানাডায় প্রবাসী উদ্যোগ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কানাডার মূলধারার মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার এবং গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় মন দেন.
কানাডায়, বিশেষ করে আলবার্টা প্রদেশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সমাজের মূলধারায় যুক্ত করতে দেলোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে Bangladesh Heritage and Ethnic Society of Alberta (BHESA)। এই সংগঠনের মাধ্যমে—
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিয়মিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজন
বহুজাতিক ও বহুভাষিক সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে ভাষার অধিকার ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি
স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিভার্সিটি, শিক্ষা বোর্ড ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরার জন্য নানামুখী সাংস্কৃতিক প্রয়াস গ্রহণ করেন। যা এখন বিশ্ববিদ্যালয়
এসব উদ্যোগ IMLD–কে কেবল প্রবাসী বাঙালিদের অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বহুজাতিক, সমন্বিত ও বহুসাংস্কৃতিক দিবসে রূপান্তরিত করেছে।
সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও জনশিক্ষার সমন্বয় করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন দেলোয়ার জাহিদ এবং তার টিম।
দেলোয়ার জাহিদের কাজের বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি রাষ্ট্রীয় কূটনীতির বাইরে থেকেও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে জনশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে মানবাধিকারের আলোচনার সঙ্গে সংযুক্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রবাসী সমাজও আন্তর্জাতিক নীতিগত আলোচনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উপসংহার
বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেবল একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং ভাষাগত ন্যায়, সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বৈশ্বিক আন্দোলনে রূপ দিতে সহায়তা করেছে। তাঁর সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন