আশাহত

প্রতিটি মানুষ জন্মের পর থেকে কত বিচিত্র আশা আকাংখা , সাধ-আহলাদ মনের মণি কোঠায় ধারণ করে এ অবিনশ্বর পৃথিবীর বুকে

856
gb

মিজানুর রহমান মিজান ||
প্রতিটি মানুষ জন্মের পর থেকে কত বিচিত্র আশা আকাংখা , সাধ-আহলাদ মনের মণি কোঠায় ধারণ করে এ অবিনশ্বর পৃথিবীর বুকে কুসুমাস্তীর্ণ পথ চলায় বিভিন্ন প্রকারে আশাহত বেদনায় বিদুরিত হয়। তার হিসেব মিলানো অনেক কষ্ট সাধ্য। আবার কেউবা আকাংখা বাস্তবায়নে অতি উৎসাহে আনন্দ উল্লাসে জীবন সুখময় আনন্দে উদ্বেলিত। কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষ সন্তানকে লালন করে ভাবষ্যৎ বংশধর হিসেবে তাঁর আত্মার মাগফেরাত ও অন্তিম কালে সহযোগিতা,সহমর্মিতার প্রত্যাশায়। তাছাড়া সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রকৃতি প্রদত্ততায় সহজাত প্রবৃত্তি বলে জ্ঞাত। এখানে নেই কৃত্রিমতা। আছে স্নেহ , আদরমাখা সোহাগ মিশ্রিত জীবন উৎসর্গ। একজন পিতা অকাতরে বিলিয়ে দেয় সন্তানের জন্য সকল কিছু উজাড় করে , থাকে না কোনরুপ চাওয়া-পাওয়া। কিন্তু সন্তান থেকে যদি পিতা হয় বঞ্চিত ? সেক্ষেত্রে পিতৃ হৃদয়ের হাহাকার শুন্য হৃদয়ের আর্তি কত বেদনাদায়ক , সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তপ্ত মরুভুমির ধূ ধূ প্রান্তরে থাকে না সবুজের সমারোহ। ক্ষেত্র বিশেষে মানুষের প্রচেষ্টায় অনেক সময় হয় পরিবর্তন। পায় সজীবতা , পেলবতা , সবুজ শ্যামলিমায় হয়ে উঠে ভরপুর। এখানে চাই মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা , আন্তরিকতা পূর্ণ প্রীতি ভালবাসাসহ সদিচছা। মানুষের যৌবন কাল সর্বাধিক গুরুত্ব পূর্ণ , মুল্যবান। এ সময় মানুষ যৌবনের প্রারম্ভিক উচছল , উচছাস প্রেরণায় অনুপ্রাণিত। সত্যিকার মানুষ যারা সফলতার কাংখিত ফসল সংগ্রহ করতে চায় বাঅনুপ্রাণিত হয়ে আনন্দ বেদনার পাশাপাশি একটা সুস্থ , সুন্দর পরিবেশ , সমাজ , সামাজিকতা গঠনের অঙ্গীকারে দৃপ্ত পদক্ষেপে হয় অগ্রসর। কিন্তু এ শ্রেণীর মানুষের দীর্ঘশ্বাসে বাতাস হয়ে উঠে ভারী অধিকাংশ সময় বা ক্ষেত্রে। “ গাধার বোঝা বহনই সার ” এরুপ তথ্যে ও তত্তে¡ জীবন ক্ষয়িষ্ণুতায় পরিপূর্ণতা পায়। ওদের জীবনে একটা নেই নেই এবং হতাশার বড় সকরুণ সুর ধ্বনিত প্রতিধ্বনির মত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বৈচিত্রময় পৃথিবীর বুকে বিচিত্র চিন্তা চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে মানুষ জীবন ব্যয়িত করে। হাসান পিতামাতার এক মাত্র পুত্র সন্তান হয়ে ছয় বোনের লেখাপড়া , মান মর্যাদাসহ বিভিন্ন সামাজিকতায় সুন্দর , সুচারু ও সুষ্টু নৈতিকতায় দীক্ষা লাভের আশায় আত্ম-নিয়োগ করে পারিবারিক গন্ডির উৎকর্ষতায়। কিন্তু এ পথ কত বন্ধুর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু ও পিছপা হবার পাত্র নয় হাসান। দীপ্ত পদক্ষেপে উন্নত মন মানসিকতায় এগিয়ে চলে পারিবারিক বন্ধনঅটুটত্বের সুস্পষ্ট স্বাক্ষর চির জাগরুকের প্রত্যয়ী প্রত্যাশায়। সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় লেখাপড়ার পাশাপাশি বোনদের সাধ্যমত দীক্ষা দানের ক্ষেত্র তৈরীসহ বৃদ্ধ পিতামাতার সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা , সহমর্মিতা দানে কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে আত্ম-নিয়োগ করে। সুফল যথাসাধ্য বয়ে আনে। দায়িত্ববোধে সচেতন হাসান এর লক্ষা ঐকান্তিক পিতামাতা স্ত্রী সন্তান সবার প্রতি সমতাভিত্তিক।
জীবিকার্জনের অবলম্বন হিসেবে ছোট একটি ব্যবসা নিয়ে ভোর ছয়টা থেকে রাত্রি নয়/দশটা পর্যন্ত কর্মে নিয়োজিত। ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন , হাত মুখ ধুয়ে ব্যবসায় রওয়ানার প্রাক্কালে এক কাপ চায়ের প্রত্যাশায় ঘরময় চোখের চাহনী প্রসারিত করে প্রাপ্তির মনোভাবে। দৃষ্টিতে বন্দি হয় বৃদ্ধা মায়ের দু’টো হাত নামাজান্তে উনুনে চড়িয়েছেন হাড়ি চা তৈরীর নিমিত্তে। হাসানের হৃদয় পিঞ্জর , আত্বাটা উঠে শিউরে যে সময় মা বসে এক কাপ চা পানকরার কথা , সে সময়ে তীব্র শীতের মধ্যে চা তৈরী করে পানের দৃশ্য। স্ত্রীকে ডেকে উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে বিনা চা পানে কাজে যোগদানের নিমিত্তে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। বিবেকবোধ বাধা প্রদান করে হাসানকে মায়ের সারা জীবনের কষ্টময় দিন যাপনে আজ অতি বৃদ্ধ কালে ও মাবাবাসহ নিজে চা পান করতে। যে মা দিনভর অমানবিক তথা অন্যের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে হাসানকে লালন করেছেন , বড় করেছেন নিজে না খেয়ে। সেই মায়ের বিশ্রাম নেই , ছুটি নেই , নেইকাজের পরিসমাপ্তি। যে মা রোগাক্রান্ত থেকে ও বিনা কাজে বসতে অভ্যস্ত নয়। সামর্থহীন নি:শেষিত জীবনে এসে ও গ্রামের মায়েরা কাজ বিহীন বসা স্বভাবে বিলীন। লক্ষ্য করলে নিশ্চিত ধরা পড়বে মায়েরা এটা ওটা করছেনই। হাসানের চেতনায় বার বার উত্থিত হয় মায়ের কষ্ট মাখা মুখটির স্থির অবয়ব।
আধুনিক স্ত্রীর উদ্দেশ্য হল যদি সম্ভব হত কেউ ওর মুখে চারটি ভাত তুলে দিত , তাহলে জগতের সমস্ত চাওয়া পাওয়ায় চরম তৃপ্তিতে উদ্বেলিত হতেন। কি পরিমাণ কাজের চাপ বর্তমানে প্রত্যেক পরিবারে তা বিজ্ঞ জন জ্ঞাত। নেই পূর্বের মত মরিচ বাটা , হলুদ বাটা ইত্যাদি। যে স্ত্রী স্বামীকে এক কাপ চা তৈরী করে হাতে তুলে দিতে অক্ষম। সে স্বামীর কাছ থেকে ভালবাসা প্রাপ্তিটুকু কি পরিমাণ নিখাদ তা বলা বাহুল্য। কারন পূর্বেকার দিনে গ্রামের বধুরা স্বামীকে এক খিলিমিষ্টি পান মুখে তুলে বা এক কাপ চা দিয়ে তৃপ্ত হতেন অকৃত্রিম ভালবাসা পূর্ণতায় স্বামী সোহাগী রুপে। কিন্তু বর্তমান সময় , সমাজ ও সামাজিকতায় কৃত্রিমতা মিশ্রণে ভালবাসা প্রত্যাশিত কতটুকু সোহাগী তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। মাতাপিতার কথা বাদ দিলে ও স্বামীর প্রাপ্তি পূরণে অক্ষমতা নয় কি ? এ জগতে আদি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রখ্যাত ব্যক্তিরা কাজ করেই হয়েছেন জগৎখ্যাত। এক্ষেত্রে বিন্দু বিসর্গ ব্যতিক্রমী নয়। যা চরম সত্য ও পরিক্ষিত নিরেট সাফল্যেরচাবিকাঠি। কিন্তু কর্মবিমুখতা যদিও আরামদায়ক দৃশ্যত। কার্যত কিন্তু অন্তরে ধিকি ধিকি আগুনের লেলিহান শিখা প্রজ্জলিত উজ্জলতায় ভাষ্কর। এখানে প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবেরই পরিচায়ক। এ মনোভাব কাহার ও কোন কালে কাম্য হতে পারে না। সুখের পিছনে দৌড়াই আলেয়াকে ধরার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। কিন্তু বার বার হই প্রত্যাখাত। কারন কর্ম বিহীন কিছুই সংগ্রহ করা সম্ভব নয় এ ধরণীর নাট্য মঞ্চে। স্ত্রীকে কিছু বললে হবে নারী নির্যাতন। আর মায়েরমুখখানা মলিন দেখে না দেখার ভানে হবে আল্লাহর কাছে মহাপরাধী। যে মা দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে দু:সহ যাতনা ও বেদনা সহ্য করে প্রসব কালীন সীমাহীন কষ্ট সহ্যে নিজের জীবন বিপন্ন করে তিল তিল করে যৌবনের দ্বার প্রান্তে এনে দাড় করালেন , সেই মায়ের কষ্ট স্বচক্ষে দর্শনে কি হৃদয় ও বিবেকবোধে বাধবে না ? কোনটি করণীয় দ্বিধা-দ্বন্ধে ভোগে অবস্তা দৃষ্টে। স্ত্রীকে বুঝালে , তার মায়ের কথা বললে স্বামীর সামনে এটা ওটা করবে। অনুপস্থিতিতে ধারেকাছে ও যাবে না , এ কোন নীতি , এ কোন নিয়ম ? অনন্যুপায় হয়ে হাসানের দু’চোখের তপ্ত অশ্রু দু’গন্ড বেয়ে ঝরে অনবরত।
আমাকে অনেকে হয়ত ভাববেন বা অপবাদে করবেন জর্জরিত নারী বিদ্বেষী বলে , নারীর সমানাধিকারে ঈর্ষান্বিত। করজোড়ে বলছি আমি নারী বিদ্বেষী নই। হিংসাপরায়নতা মোটেই স্পর্শ করেনি। যা বাস্তব ও প্রকৃত সত্য ঘটনা বললে যদি এ অপবাদ দেন তবে করার কিছুই নেই। আপনি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন এ ধরণের ঘটনা কম বেশি আপনার চক্ষে দৃশ্যমান হয়নি ? আমি সাত বোনের এক ভাই। সুতরাং নারীর সংখ্যাধিক্যতার সংস্পর্শ আমার কাছেঅত্যধিক। আমারই পরিচিত একজন প্রাইমারী শিক্ষক শিশুকালে মাকে হারিয়ে যৌবনে সহোদর তিন ভাই এবং সৎ মায়ের পাচঁ সন্তান তথা ভাই বোনকে তথা সম্পূর্ণ পরিবারের অর্থনৈতিক যোগানসহ সমাজ সামাজিকতায় আমিত্বকে বিসর্জন দেন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে। সফলতা আসে পরিপূর্ণতায় খোদার অপার মহিমায়। একটু দুরত্বে থেকে কেহ অতি সহজে বিশ্বাস করতে পারবে না বা আঁচ করা মোটেই সম্ভব নয় সৎমা ও ভাইবোন বেষ্টিত পরিবারটি। এ শিক্ষক আমারজ্ঞান বা বোধশক্তি অর্জনের পর থেকেই দেখেছি আপনসহ সৎ ভাইবোনদের কাপড়চোপড় ধৌত নিজ হাতেই করেছেন। এজন্য সৎমা অবশ্যই এ পর্যন্ত শিক্ষকের গুণাগুণ বলতে কার্পন্য করেন না। এমন কি আপন ছেলের মত দেখেন ও। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী নামক ব্যক্তিত্বের কারনে সৎমা দুরে থাক সহোদর ভাইদের সাথে শালীনতাবোধ , শ্রদ্ধা , আদর ,স্নেহ , সামাজিকতা সব কিছুতেই বিমুখ। কিন্তু প্রত্যেকটি সদস্যের আন্তরিকতা পূর্ণ সদ্ভাব রয়েছে গোপনে। আর প্রকাশ্যেওদের সাথে অমিল রয়েছে। মান-সম্মান , ইজ্জতের ভয়ে শিক্ষক সব কিছু ত্যাগ করে জীবন যাপন করে যাচেছন স্ত্রী নামক ব্যক্তিত্বের কারনে। ঘর থেকে বের হলে হিসেব দিতে হবে টাকা এবং সময়ের। হিসেবের গরমিলে কথা আসে বোনকে টাকা দিয়েছ , ভাইকে সহায়তা করেছ , মাকে দেখতে গিয়েছিলে ইত্যাদি। টাকা এবং সময়ের গরমিলে মহাশোরগোলে ঝগড়া শুরু। ঝড়ের তান্ডব সমাপ্ত হতে বা তার রেশ কাটতে অনেক অনেক সময়ের প্রয়োজন। ভেবে দেখুনএকজনের যন্ত্রণায় কতজন কাতর। সমাজের এ দুষ্ট ক্ষত শেষ হবে কবে ? এক পাত্র ঘিয়ে এক ফুটা কেরোসিনই যথেষ্ট। অতিরিক্ত নিষ্প্রয়োজন। ম্যাচের এক কাঠির আগুন গৃহ থেকে গৃহান্তরে ছড়িয়ে লেলিহান শিখা ছাই করতে পারে। আবার এক গৃহ পোড়াতে ম্যাচের পর ম্যাচ শেষ হবে অতিরিক্ত তথা এক গৃহই সম্ভব নয় জ্বালানো!
কবি যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন নিজ অভিব্যক্তি “ মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় , আড়ালে তার সূর্য হাসে”। প্রকৃত বাস্তবতার পরখে আপনি পরিক্ষিত সত্যের প্রতীক হলে দু:খ , কষ্ট , বেদনা সাময়িক কাল ব্যাপী বিস্তৃত। সূর্যালোক বা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট ঘোর অমাবস্যা কেটে ভোরের সূর্য পূর্বাকাশে উদিত হবে প্রখর দীপ্তির আভা , আলো ছড়িয়ে চতুর্দিকে। হয়তবা একটু বিলম্ব হতে পারে। পরিণাম ফল অবশ্যম্ভাবী। কৃতকর্মের ফলাফল হাতে হাতে প্রাপ্য।এ জগতে প্রবীনরা অনেকটা বলে গেছেন যা তীক্ষ বা সুক্ষ ভাবে চিন্তা করলে অতি সহজে বেরিয়ে আসে যা অমুলক নয় । কারন তাঁদের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ছন্দবদ্ধ বা গীতি কাব্য রুপে পরিগণিত। যেমন “ নদীর এপার ভাঙ্গে , অপার গড়ে ঠাকুর ও কানাই” , “ ধন সম্পদ চিরস্থায়ী নয় ” , রুপ যৌবন অটুট থাকে না চিরকাল ”। সুতরাং আমি চাই সত্যাশ্রিত একটি আলোকিত সমাজ ব্যবস্তা যা মার্জিত , সুশীল শ্রেণীভুক্ত। অন্যায় , অত্যাচার , অনাচার ,অনৈতিকতা বর্জ্যতুল্য। এটা আমাদের চরিত্র থেকে পরিহার করে ডাস্টবিনে তথা যথাস্থানে জায়গা করে ফেলতে হবে। মনের কলুষিতাই সর্বক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা স্বরুপ। এ বর্জিত হলে সুন্দরতায় যাত্রা কোন কঠিন কাজ নয়।
সময়ের ব্যবধানে পরিবেশ সামাজিকতায় পরিবর্তন নিত্য নুতন কালচার যোগ-বিয়োগ অবশ্যম্ভাবী। পূর্বেকার মা চাচী , বধুরা হাতে তৈরী বা মরিচ বাটা , হলুদ বাটা , ঢেকিঁতে ধান বা গাইল ছিয়া সহযোগে ধান ভেঙ্গে রান্না-বান্না করাসহ দৈনন্দিন কার্য তালিকা রুটিন মাফিক চালিয়ে ও অন্যান্য কর্ম সম্পাদন করেছেন। তাদের মন মানসিকতা ছিল উন্নত ও প্রশ¯Í। কিন্তু বর্তমান সময়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সকল কাজের প্রস্তুতিপূর্ণ পরিবেশ প্রাপ্তিতে ও কাজের চাহিদাঅনেক অনেক সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকারে বিরাজমান থাকাবস্তায় সুখ শান্তি যেন নাগালের বাইরে। কাজ করলে মনের তৃপ্তি , উৎফুল্লতা , প্রসন্ন ও ঝরঝরে হালকা অনুভুতি অবশ্যই আসে , আসবে। এতে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কাজে আত্মমর্যাদা , মান সম্মান ও শরীরে সতেজতা বৃদ্ধি পায়। একটা মেশিন যদি অচল অবস্তায় দীর্ঘ দিন রাখা হয় , অচলতার কারনে অনেক প্রকার ক্রুটি বিচ্যুতি , গোলযোগ দেখা দেয়। আমাদের দেহ মেশিন অনুরুপ অলস জীবন যাপনেঅভ্যস্ত হলে রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। অনেকটা রোগ প্রতিরোধ শক্তি অর্জিত হয় কাজের মাধ্যমে ব্যায়াম সংগঠিত হবার ফলে। ঔষধের কার্যকারিতা অনেক ক্ষেত্রে নিস্প্রয়োজন। ব্যায়াম বা কাজই হল মহৌষধ। সুতরাং চিন্তা চেতনায় , ধ্যান ধারণায় সীমিত হলে ও কাজ একান্ত জরুরী। আবার মাত্রাতিরিক্ত কাজ সুফল বয়ে আনতে অক্ষম। অলসতা যেমন কাম্য নয় , মাত্রাতিরিক্ততা ও কাম্য হতে পারে না। নিয়মতান্ত্রিক পন্থাই সর্বোৎকৃষ্ট।