অফিসে আমি যেমন

429
gb

মো: নাসির নিউ জার্সি আমেরিকা থেকে ||
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি…গানের কথার মত বগলদাবা করতে পারি আমরা চাকরিটা। কিন্তু কজনে পারি এই চাকরিটাকে সুন্দর করে-উপভোগ্য করে তুলতে?
অফিসে আমাদের কিছু বদঅভ্যাস নানাভাবে ক্ষতি বয়ে আনে আমাদের ক্যারিয়ারে। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের কিছু অভ্যাস রয়েছে যেগুলো আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কাজের ধারা, উন্নয়নের পথ রোধ করে। মিলিয়ে নিন তেমনই কিছু অভ্যাস যা আপনারও নেই তো। তাহলে কিন্তু নিজের ক্ষতি নিজেই বয়ে আনবেন।

সবসময় বসকে নেতিবাচকভাবে দেখা

বসের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা বা আপনি যার দায়িত্বে রয়েছেন তাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করলে সেটা আপনার জন্যই সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দেখা দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি এমনটাই করে চলেন তাহলে বাড়তি প্রমোশন বা চাকরির স্থায়ীত্ব আশা করাটাও ভুল হবে।

অফিস কিছুই শেখাচ্ছে না

আপনি অফিস থেকে কিছুই শিখতে পারছেন না এমনটা বোঝাতে গেলেও আপনাকেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এতে করে আপনাকে নাকউঁচু স্বভাবের হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে। এবং সত্যিকারের কোনো উন্নয়নের সুযোগও আপনি হারাবেন।

অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো

কর্ম দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সঠিক ব্যবহার বা অন্যান্য কোনো দিকে বার বার আঙুল তুললে আপনার অগ্রহণযোগ্যতাই প্রমাণিত হবে। শুধু শুধু সেসব না করে নিজের কাজটা গুরুত্ব দিয়ে করুন।

আবেগের ব্যবহার সবসময় নয়

কথায় কথায় রাগ দেখানো, হতাশা প্রকাশ করা বা নাটুকে কান্নাও আপনার বস বা অফিসের অন্যান্য কর্মীদের কাছে ভুলভাবে আপনাকে উপস্থাপন করতে পারে। সবাই ভাববে আপনি কখনোই আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

আত্মবিশ্বাস না থাকা

আপনি কোনো কাজ করতে পারেন না সেটা কখনো ভাববেনই না। আপনার এই ভাবনাই আপনার জন্য বেশি ক্ষতিকর। কাজে মনোযোগ দিন দেখবেন অনেক ভালো কিছু করতে পারছেন।

সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকা

নিজের ক্যারিয়ার গোছাতে কোনো কাজ সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ফেলে রাখবেন না। প্রত্যেকটা সময়ই সঠিক সময়। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে থাকলে দেখবেন আপনার সামনে রাখা কেকটা প্লেট থেকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে। সেটা কি আপনার জন্য ভালো হবে?

কর্মক্ষেত্রে সবসময় অভিযোগ

ক্রমাগত অভিযোগ আপনার অবস্থান খারাপ করবে কিন্তু কোনো পরিবর্তন আনবে না। তার চেয়ে বরং অফিসের পলিসি, নিয়ম কানুন এবং মানুষ সম্পর্কে জানুন। শুধু সেসব বিষয়েই কথা বলুন যেসব ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন বয়ে আনবে।

ছোট নই আমিও

অন্যকে যেমন কখনো ছোট করে দেখবেননা, তেমনি নিজেকেও কখনো ছোট হিসেবে ভাববেন না। সবসময় আত্নবিশ্বাস ধরে রাখুন। দ্বিধা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর, ঠিক তেমনই বাড়তি আত্নবিশ্বাসও ক্ষতিকর।

কাজ করি ভালোবেসে

নিজের কাজকে পছন্দ না করলে ঠিক যতোটা আপনার কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয় বা আপনি জীবনে যতটা উন্নতি চান তার কোনোটাই হবে না। নিজের কাজকে অপছন্দ করলে তা কখনোই ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না।