ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জে আলোচিত সেই হতদরিদ্র এতিম প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের মামলা দায়েরের ৫ মাস অতিবাহিত হলেও মামলার প্রভাবশালী আসামি চান মিয়াকে (৪৫) এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার পরিবারের দাবি, রহস্যজনক কারণে পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করছে না। অন্যদিকে পুলিশ বলছে ঘটনার পর থেকেই আসামি পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ধর্ষক চান মিয়া পলাতক রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে চান মিয়া প্রতিবেশী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে চানাচুর দেয়ার কথা বলে তার দোকানে ডেকে নেন। স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় প্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে নিজ শয়ন ঘরে নিয়ে জোপূর্বক ধর্ষণ করেন চান মিয়া। পরে বিষয়টি প্রতিবন্ধী তার পরিবারকে অবগত করান। ঘটনার ২দিন পর কিশোরীর জ্যাঠা আলমগীর হোসেন থানায় চান মিয়াকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যা পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী তার জ্যাঠার বাড়িতেই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় জানায়, বাবা মরা মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোথাও ঠাঁই হয়নি তার। মা ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করেন। সে কারণে জন্মের পর থেকেই সে জ্যাঠার বাড়িতেই থাকেন। জ্যাঠার সংসারে অভাব আছে কিন্তু কি আর করার। নিজের মেয়ের মতো দেখেন তিনি। বাবা নেই মা থেকেও নেই। সে কারণে পাড়ার সবাই মেয়েটিকে স্নেহশীল চোখে দেখতো। মেয়েটি ধর্ষণের স্বীকার হওয়ায় গ্রামের সবাই মর্মাহত। এ ধরণের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা। তবে আসামি না ধরা আর চার্জশীট জমা না দেয়ায় পুলিশের প্রতি ঘৃণা আর ক্ষোভ জন্মেছে তাদের মনে।
মামলার বাদী ও প্রতিবন্ধী কিশোরীর জ্যাঠা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘৭-৮ বছর আগে ওর বাবা ব্লাড ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তারও আগ থেকে ওর মা ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করেন। দেখার কেউ না থাকায় প্রতিবন্ধী মেয়েটি আমার বাসায় থাকে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মামলা করার প্রায় ৬ মাস হতে যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না আমরা। আসামি এবং তার স্বজনরা অনেক প্রভাবশালী। হুমকি ধামকিসহ বিভিন্ন ভয়ভিতিও দেখা্েছন আমাদের। মামলা হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫/২০ বার পুলিশ ফাঁড়িতে আমাদের ডেকে নেয়া হয়েছিলো। কাজের কোনো কথা নেই। শুধু বলেন ধৈর্য্য ধারণ করেন আমিতো আছি আপনাদের সাথে।’
প্রতিবন্ধী কিশোরীর বড় আম্মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। ঘটনার পর থেকে সে খুব ভয় পায়। বিশেষ করে পুরুষ মানুষ দেখলে আরও বেশি। সে কারণে ওকে একা রেখে কোথাও যেতে পারি না। কাজ কর্ম না করলে কি করি খাবো। মামলা করি বড় বিপদে পড়েছি। আসামি তো ধরতেই পারে না। উল্টো মাঝে-মধ্যেই ধর্ষকের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে এসে গাল-মন্দ করে যান। আর বলে আমরা নাকি টাকা খাওয়ার জন্য এসব করেছি। সখ মেটাবে আমাদের। এছাড়াও অনেক খারাপ খারাপ কথা শুনিয়ে যান। ভীষণ দুর্চিন্তায় দিন কাটছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আসামি মোবাইল ফোন ব্যাবহার করেন না। সেই সাথে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার কারনে ধরতে পারছি না। তবে ধরতে ব্যাপক তৎপর রয়েছি। এখনো ডিএনএ টেস্ট রেজাল্ট পাইনি। পেলেই চার্জশিট জমা দিবো।’
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন