সাপাহার উপজেলা নামকরন ও ইতিহাস:নেপথ্যে রিপোর্টার্স ফোরামের অবদান

266
gb

সাংবাদিক হাফিজুল হক ||
সাপাহার উপজেলা নাম করন ও ইতিহাস বিষয়ে সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরামের সাংবাদিকরা অত্যান্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে প্রতিবেনটি তৈরী করেছে।প্রতিবেদন প্রদানের আগে জেনে নিন সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম এর জন্ম ও ইতিহাস বিষয়ে কিছু কথা ,২০০৬ সালের ১ জানুয়ারী মতামতের ভিত্তিতে ১০ জানুয়ারী সাপাহারের উন্নয়ন,কল্যান,অন্যায়ের বিরুধে রুখে দাঁড়াতে,সত্যের পথে ন্যায় নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষে একটি সৃজনশীল সাংবাদিক সংগঠন সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম গঠন করা হয়।মূলত সাংবাদিক হাফিজুল হক,শাহজাহান সিরাজ ও জাহাঙ্গীর আলম মানিকের কথোপকর্তনের ও অনুপ্রেরনায় সংগঠনটির জন্ম হয়।সংগঠন টি তৈরীর প্রধান কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল সেই সময় প্রেস ক্লাবের তসলিমউদ্দিন দির্ঘদিন ধরে সভাপতি পদে নিযুক্ত থাকায় বিভিন্ন সংগঠন ,অফিস আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারী,এমন কি সাধারন মানুষ পযন্ত এক মাত্র তাকেই জানতো ও চিনতো। ন্যায় নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বাঁধা প্রধানের সৃষ্টি করতো,সাপাহারে সাংবাদিকতায় নতুন মুখ জাগ্রত হওয়ার কেউ চেষ্টা করলে তাকে বিপদে ফেলতো। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে সে সময় নিজেকে শক্ত ভাবে টিকিয়ে রেখেছিল এমন এক সাংবাদিক যিনি ১৯৯৭ সালে কলেজ ছাত্র জীবন হতে ঢাকা হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাস ও মাসিক পল্লী বার্তা পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন,পরে ২০০০ সালে বগুড়া হতে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরাঞ্জল ও দৈনিক উত্তর বার্তা পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন সহ আব্দুল্লাহ আনসারী,এড.লুৎফর রহমান,নুরুল হক,ডাক্তার আশরাফুল ,সোহেল রানা সহ বেশ কয়েকজন কে নিয়ে প্রেস ক্লাব গঠন করেন বস্তু নিষ্ঠ সংবাদের কান্ডারী সাংবাদিক হাফিজুল হক।সময়ের আবর্তনে ও সাধারন সম্পাদক পদে থাকা আব্দুল্লাহ আনসারীর দলীয় পযায়ে মনোনিবেশ করায় সংগঠনটি অচলবস্থা হয়ে পড়লেও থেমে ছিলনা তার ন্যায় নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কার্যক্রম।এরই মধ্যে দিয়ে ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারী সাপাহার মাংসপট্রি মোড়ের সালামের ঔষুধের দোকানে মতামতের জন্য মিলিত হয় সাংবাদিক হাফিজুল হক,শাহজাহান সিরাজ, জাহাঙ্গীর আলম মানিক,আঃ রহিম,ছাদেকউদ্দিন প্রমুখ,মতামতের ভিত্তিতে উক্ত আলোচনায় প্রকাশ পায় যে,সাপাহারের জন্য ভাল কিছু করতে,অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সাপাহারের মহান ব্যাক্তিত্ব শিক্ষা,সাংস্কৃতি,সাহির্তিক মনোভাবাপন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফুল হক(আরব) চৌধুরীর ছত্র-ছায়ায় ও তার দিগ-নির্দেশনা মোতাবেক একটি সাংবাদিক সংগঠন গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।যার প্রেক্ষিতে ১০ জানুয়ারী সাংবাদিক হাফিজুল হক ও শাহজাহান সিরাজ এর নেতৃত্বে একটি সৃজনশীল সাংবাদিক সংগঠন সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম গঠন করা হয়।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকের দায়িত্ব নেয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফুল হক(আরব) চৌধুরী,সভাপতি আঃ রহিম,সহসভাপতি দছিরউদ্দিন,সাধারন সম্পাদক সাহজাহান সিরাজ, সহসাধারন সম্পাদক,জাহাঙ্গীর আলম মানিক,দপ্তর সম্পাদক হাফিজুল হক,সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদেকউদ্দিন,কোষাধ্যক্ষ শরিফতালুকদার,সদস্য জুয়েল রহমানও আলমঙ্গীর হোসেন কে নিয়ে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেন।দু”টি বছর অত্যান্ত জমজমাট ও সততার সাথে চলতে থাকে সংগঠনটি যার ফলে সাধারন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে পায় ভেঙ্গে যায় প্রেস ক্লাবের অস্তিত্ব,উপজেলা বাসি সকল সাংবাদিকদের চেনার সুফল পায়।সাংবাদিকতার সকল কাজে অর্থ সহ উৎসাহ ও উদ্দিপনা দিতেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকের দায়িত্বে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফুল হক(আরব) চৌধুরী ।এদিকে সাংবাদিক হাফিজুল হক ও শাহজাহান সিরাজ মিলিত ভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সাপাহার উপজেলা নাম করন ও ইতিহাস, পর্যটন কেন্দ্র ঐতিহাসিক দিবর দীঘি, জবই বিল ও নওগাঁ জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী এর প্রতিবেদন তৈরী করেন। পরবর্তীতে আঃ রহিম, দছিরউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, ছাদেকউদ্দিন, শরিফতালুকদার সেই ঝড়ে পড়া পূর্বের সংগঠন প্রেস ক্লাবে পূনরাই যোগদান করিলে থেমে যায় রিপোর্টার্স ফোরাম ও সাপাহারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা,অনেক কষ্ঠের বিনিময়ে সততার সাথে অদ্যবধী সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম কে উজ্জিবীত করে রেখেছে সাপাহার উপজেলা শেষ্ঠ সাংবাদিক হিসাবে ক্রেস প্রাপ্ত হাফিজুল হক। আলতাফুল হক(আরব) চৌধুরীর সৎ পরামর্শে তিনি সাংবাদিক তৈরীর কারিগর হিসাবে কাজ করতে শুরু করেন যার ফলে সে সময় হতে ২০১৪ সাল পযন্ত সাংবাদিকতার সম্মাননা অর্জন করেন সাংবাদিক নাজমা রহমান,মাহফুজ ফারুক,সাইফ মাহদী,আকবর হোসেন,সাইমুম হাবিব,আব্দুল মান্নান,শামিম হোসেন,নিলুফার জাহান কনা,জুলফিকার আলী সম্মাট,প্রদীপ সাহা,নয়ন বাবু ও আলমঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।এবং বর্তমানে সংগঠনে শিখনীয় পযায়ে ও কাজে নিয়োজিত রয়েছে সোহেল রানা,সাইফুল ইসলাম রয়েল,জাহাঙ্গীর আলম,মনোজ রায়,আঃআলিম,নাজমুল হোসাইন,আরিফ হোসেন,আজিজুল হাকিম,সাহজান হোসেন,আমজাদ আলী,ফজলুল হক,শরিফুল ইসলাম,সুলতান মাহমুদ,মাইনুল হক,সাইদুল ইসলাম,মহরম আলী,আল মামুন,সারোয়ার হোসেন নিলয়,গোলাম ছারোয়ার,গোলাম রাব্বানী,লাকী আক্তার, রীনা পারভীন,বিলকিছ আরা,মরিয়ম,আশা,আঃ মতিন,মোরশেদ,ওবাইদুল হক,রিয়াদুল ইসলাম,সুমন বাবু,রিফাত ইমাম,রিপন হাসান,খোরশেদ আলম প্রমুখ।তাছাড়াও ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে মনিরুল ইসলাম নামে একজন ভাল মানের সাংবাদিক এই সংগঠনে ভর্তি হলে তার কাজের দক্ষতা আর উৎসাহ উদ্দিপনায় জাগিয়ে তুলেছে পুরো সাপাহার উপজেলা বাসীকে, বিগত কমিটি গঠনে সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরামের কন্ঠ ভোটে তাকে এই প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি হাফিজুল হক,ও সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সাপাহার উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদকীয় প্রতিবেদন লেখে জানিয়েছে সাপাহারের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, ন্যায় নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন আর সততার জন্য সাপাহারে তিনটি সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠিত সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরাম। তাছাড়া ও হালিমনগর বধ্যভ‚মি,কে এই মহান ব্যাক্তি আলতাফুল হক আরব চৌধুরী , পলিথিন সপিং ব্যাগ ব্যাবহার , যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ড্রিংস ,চাই সাপাহার খঞ্জনপুর গবাদীপশুর বিট-করিডোর ,সাপাহারে মিনি স্টেডিয়াম , সাপাহারে ভয়াবহ ১৩ সেপ্টেম্বর ,গ্রাম পুলিশ এর দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়ক কলাম সহ অনেক উন্নয়ন মূলক প্রতিবেদন লেখার জন্য-অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন,ভাল কাজে সহযোগীতা,টাকার কাজে নিজেকে বিক্রিত না করা এ ধরনের গুনাবলীর কারনে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারী ঐতিহাসিক দিবর দীঘি প্রান্তরে শুভ-নববর্ষ,ফোরামের দশম বর্ষপূর্তি ও সাংবাদিক কনফারেন্স অনুষ্ঠানে সাপাহার উপজেলার সকল সাংবাদিকদের গুরু সকল সাংবাদিক ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফুল হক(আরব) চৌধুরী সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষে থাকা এই প্রতিষ্ঠিত সাপাহার রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাফিজুল হক কে উপজেলার সর্ব শেষ্ঠ সাংবাদিক হিসাবে ঘোষনা দিয়ে পুরঃস্কৃত করেছে,যার সুবাদে ৫ জানুয়ারী/২০১৬ সাপাহার বাজার জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান (রকেট) তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে ৫ হাজার টাকার চেক ও সম্মাননা ক্রেস প্রদান করেছে।
সাপাহার নাম করন ও ইতিহাস যোগ করার আগে অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি সাপাহারের উন্নয়নের লক্ষে ফোরামের সাংবাদিকদের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তা-ঘাট,বিরীজ-কালভার্ড,ঈদগাহ,মহজিদ-মন্দীর বিষয়ে লেখনীর মাধ্যমে সহজে বরাদ্দ হলে তাহা গিলার জন্য হ্যাঁ হয়ে থাকে বড় বড় আয়ুগ্রাস।
সাপাহার উপজেলার নামকরণ ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
নওগাঁ জেলার সীমান্ত ঘেঁষা এ উপজেলাটির নাম সাপাহার উপজেলা, সাপাহার নামকরণের নিখুঁত কোন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া না গেলেও এলাকার একাধীক প্রবীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে জানা গেছে বৃটিশ শাসনামলে এই এলাকা হিন্দু অধ্যসুতি এলাকা ছিল তৎকালে হিন্দু স¤প্রদায়ের মধ্যে শম্পা রানী নামে এক সুন্দরী বাঈঝি তার নাচ গানে এলাকাকে মাতিয়ে রেখেছিল। অনাকাঙ্খিত ভাবে সে সময়ে মুসলিম স¤প্রদায়ের এক সুফি সাধক সেই শম্পারাণীর প্রেমে পড়ে। হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন তখন হিন্দু মুসলিম স¤প্রদায়ের মধ্যকার এই প্রেম কিছুতেই মেনে নিতে না পারায় অবশেষে বাঈঝি শম্পাকে প্রেমের দায়ে সমাজচ্যুত হয়ে মৃত্যু বরণ করতে হয়। বাঈঝি শম্পার মৃত্যুতে প্রেমিক সুফি সাধক পাগল হয়ে যায় এবং বাঈঝি শম্পার নাম কাগজে লিখে হার বানিয়ে গলায় পরিধান করে ঘুরে বেড়ায়। পরবর্তীতে পাগল সুফি সাধকের ও মৃত্যু হলে উপজেলা সদর ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় তাকে কবরস্থ করা হয়। মুসলিম স¤প্রদায়ের সুফি সাধক ও হিন্দু স¤প্রদায়ের শম্পা রাণীর প্রেমর ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এলাকার নাম হয় শম্পাহার। কালের আবর্তনে সেই শম্পাহার থেকেই বর্তমান সাপাহার, যা এখন আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়ায় সাজানো গোছানো এক মিনি শহর। এ ছাড়া অনেকের মতে সাপাহার এর নাম করণের ইতিহাস ভিন্ন। কাহারো মতে প্রাচীন কালে এখানে এক উপজাতী বাস করত আর তাদের খাদ্য তালিকায় প্রাধান্য পেত বরেন্দ্র এই অ লের গুই সাপ। তারা এই গুই সাপগুলিকে নির্বিচারে ধরে খেত এবং তার চামড়া দিয়ে সুন্দর সুন্দর মানিব্যাগ ও তাদের বাচ্চাদের গলার হার তৈরী করত মূলত সেই থেকেই এই স্থানের নামকরন হয়েছে সাপাহার। ২৪৪.৪৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ১৩৯টি মৌজার উপজেলাটিতে গ্রাম রয়েছে ২৩২টি। এ উপজেলার লোক সংখ্যা ২০১১সালের আদম শুমারী অনুযায়ী ১লক্ষ ৪৯হাজার ৯৬জন। বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে উপজেলাটি পোরশা থানার অর্ন্তভূক্ত ছিল। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহযোগীতা ও উপজেলার প্রবীন রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট সমাজ সেবী আলহাজ্ব ডাঃ তাহের উদ্দীন আহম্মদ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের অক্টোবর মাসে পোরশা থানা হতে পৃথক হয় এবং প্রথম একটি মাটির ঘরে ফিতা কেটে ডাঃ তাহের উদ্দীন আহম্মদই সাপাহার থানার উদ্বোধন করেন। এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেন। এর পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে নওগাঁ জেলার দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম উপজেলা ১৯৮৩ সালের ২জুলাই হতে মান উন্নীত সাপাহার থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সাপাহার উপজেলাবাসীর শিষ্টাচার ও উন্নত মনমানষিকতায় উন্নয়নের দিক হতে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সাপাহার থানাকে। সাপাহার থানা / উপজেলা এখন নওগাঁ জেলার একটি সুন্দর ও উন্নত উপজেলা। মূলত ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ইউনিয়নগুলির নাম সাপাহার সদর, গোয়ালা, তিলনা, আইহাই, পাতাড়ী ও শিরন্টি। উপজেলার ঐতিহ্য হিসেবে এখনে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় যার নাম ঐতিহ্যবাহী জবই বিল। উপজেলার আইহাই ও পাতাড়ী ইউনিয়নকে উপজেলা সদর হতে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে এই বিল। গত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে ওই দু’ইউনিয়নের সাধারণ জনগনের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তৎকালীন সরকার বিলের উপর ৫শ’ মিটার এপ্রোচ সংযোগ সড়ক সহ ২শ মিটার একটি ব্রীজ নির্মান করেন। প্রাচীন কালে শীতকালে ঐতিহ্যবাহী এই বিলে সুদুর সাইবেরিয়া হতে অসংখ্য অতিথি পাখী আসত এবং রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে পাখী শিকারীরা এই বিলে পাখী শিকার করতে আসত বলে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। জেলার শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত ছোট্র পরিসরের উপজেলাটির পূর্বে পতœীতলা উপজেলা উত্তরে ও পশ্চিমে ভারত এবং দক্ষিনে পোরশা উপজেলা। উপজেলার পশ্চিম এলাকা ভারত সীমান্তের কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে পূর্নভবা নদী। এক কালে এ নদী দিয়ে ব্যাবসায়ীদের বড় বড় মাল বোঝাই নৌকা দেশের দিনাজপুর রহনপুর, চাপাই নবাব গঞ্জ ও রাজশাহী শহরে তাদের ব্যাবসা বানিজ্য পরিচালনা করত। বহু পূর্বে এ উপজেলায় যাতায়াতের তেমন কোন ব্যাবস্থা ছিলনা, সর্বত্রই কাঁচা কর্দমক্ত রাস্তা এ সব রাস্তা দিয়েই মানুষ অতি কষ্টে চলাচল করত। আধুনিক সভ্যতার যুগে আস্তে আস্তে এখন প্রায় সর্বত্রই সভ্যতার ছোঁয়া লেগে রাস্তা ঘাটের উন্নতি হয়েছে। সুদুর জেলা সদর হতে মহাদেবপুর, এবং জয়পুর হাট হতে পতœীতলায় মিলিত হয়ে একটি প্রধান রাস্তা এ উপজেলার উপর দিয়ে পোরশা উপজেলা হয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জের রহনপুর এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও রাজশাহী শহরে চলে গেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় উপজেলা সদরে এখন একটি উন্নত প্রানী সম্পদ কেন্দ্র, এলাকার জনগনের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনে ৫০শয্যা বিশিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কমপেক্স এছাড়া উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ক্লিনিক রয়েছে ০৫টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ১৭টি। শিক্ষাব্যাবস্থা উন্নতি করণে অনার্স কোর্স সহ সরকারী মহাবিদ্যালয় একটি, বে-সরকারী মহাবিদ্যালয় ৫টি তমধ্যে অনার্স কোর্স সহ মহিলা মহাবিদ্যালয় দ্যালয়একটি। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৪টি বে-সরকারী০১টি, উচ্চবিদ্যালয় সরকারী বালিকা বিদ্যলয় ০১টি, বে-সরকারী উচ্চবিদ্যালয় ৩৭টি, আলিয়া মাদ্রাসা ৪০টি কওমী মাদ্রাসা ১৭টি, মুসলিম স¤প্রদায়ের উপাসনালয় মসজিদ ৫২০টি, হিন্দু স¤প্রদায়ের উপাসনালয় মন্দির ১১ টি গির্জা বা প্যাগোডা রয়েছে ০২টি, টেলিফোন একচেঞ্জ ০১ টি, ব্যাংক ০৮টি, উপজেলায় শিক্ষার হার শতকরা ৪২.২। উপজেলা কৃষিবিভাগের তথ্য মতে উপজেলায় মোট কৃষি জমি ১৯,১৩৯হেঃ এর মধ্যে এক ফসলী ৩১৯০হেঃ দো ফসলী ৮৫৪০ হেঃ তিন ফসলী ৮১৬০ হেঃ এ উপজেলার মানুষ সাধারণত কৃষি নির্ভর এখানকার মাটি খুবই উবর্র। ধান, পাট, গম, আলু, পিয়াজ, আম উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল। আধুনিক সভ্যতার যুগে উপজেলায় রয়েছে হেলিপ্যাড ১টি, পুলিশ স্টেশন ১টি, খাদ্যগুদাম ২টি, ৩৫ কিঃমিঃ সীমান্ত এলাকার মধ্যে বিওপি ৭টি ডাকবাংলো জেলাপরিষদ ১টি ও সড়ক বিভাগ ১টি, প্রধান পোষ্ট অফিস ১টি শাখা ১৩টি,, নদী রয়েছে ১টি। উপজেলার শোভা বর্ধন ও স্মৃতি রক্ষায় সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আব্দুল জলিল ২০১১সালের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার জিরো পয়েন্টে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে একটি বিজয় স্তম্ভের উদ্বোধন করেন। যা উপজেলায় মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে দন্ডায়মান। এ উপজেলায় সাধারণত বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের বাস। সাজানো গোছানো সাপাহার উপজেলা সদরে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে সদরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পানি জমে থাকে ফলে পথ চলতে গিয়ে পথচারীরা হর হামেশায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। সদরের গুরুত্বপূর্ন সরকারী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথটির উভয় পার্শ্বে কোন পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না থাকায় সারা বছরই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে কর্দমাক্ত অবস্থায় হাাঁটু পানি জমে থাকে। হাজারো কষ্টের মধ্য দিয়ে ছাত্রী, শিক্ষক সহ সকল পথচারীদের চলতে হয় ওই পথে।
শিক্ষা ও বিনোদনঃ
শিক্ষার বিষয়ে উপজেলায় যথেষ্ট উন্নতি হলেও বিনোদনের বিষয়ে তেমন কিছুই অগ্রগতি নেই। উপজেলায় খেলা ধুলার মানোন্নয়নে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মিজানুর রহমান ২০০০সালের দিকে উপজেলা সদরের পূর্বপার্শ্বে গোডাউনপাড়া এলাকায় সরকারী সম্মত্তিতে একটি স্টেডিয়াম নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহন করে সেখানে একটি বিশাল সাইবোর্ড ও টাঙ্গীয়ে দেন। কিন্তু এলাকার কিছু স্বার্থন্নেসী ব্যক্তি ওই জায়গার উপর রীট করে তা স্থগীত করে দেন ফলে সরকারী ভবে আজও সেখানে কোন স্থাপনা তৈরী হয়নি। এছাড়া উপজেলা পরিষদ এর অভ্যন্তরে শিশু কিশোরদের বিনোদনের জন্য সরকারী ভাবে একটি ছোট্র শিশু পার্ক নির্মান করা হলেও বর্তমানে তার কোন অস্তিত্বই নাই। উপজেলাটি সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় এখানে নেশার প্রচলন একটু বেশী। মাঝে মধ্যেই সরকারী ভাবে নেশা বা মাদক বিরোধী অভিযান জোরালো ভাবে পরিচালনা করা হলেও এখানকার যুব সমাজ অতি সহজেই নেশায় আশক্ত হয়ে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবী এখানে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করে এলাকার যুব সমাজকে রক্ষা করা হোক। অপর দিকে উপজেলা সদরে বেশ
কিছু বহুতল ভবন ও বেশ কিছু অত্যাধুনিক শপিংমল, মার্কেট, সরকারী বে-সরকারী বানিজ্যিক ব্যাংক, এনজিও প্রতিষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কল কারখানা, হাজার হাজার বসত বাড়ী থাকলেও তাদের নিরাপত্তার জন্য কোন অগ্নীনির্বাপক ব্যাবস্থা নাই। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সুদুর পতœীতলা উপজেলা সদর হতে ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন ঘটনা স্থলে পৌঁছার পূর্বেই সব কিছুই নিঃশেষ হয়ে যায়। উপজেলার লোকসংখ্যা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলায় অগ্নীনির্বাপক ব্যাবস্থার জন্য একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন উপজেলাবসীর প্রাণের দাবী।