প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১১০ দিনের মাথায় তিনি আগাম সংসদ নির্বাচন আহ্বান করেছিলেন বলে জাপানের সানায়ে তাকাইচি। সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সফল প্রমাণিত হয়েছে। ভোটাররা তার অর্থনৈতিক কর্মসূচি এবং অভিবাসন ও চীনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে সুস্পষ্ট জনসমর্থন দিয়েছেন।
পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকের তথ্য মতে, তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তার মিত্ররা জাপানের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩৫২টিতে জয়লাভ করেছে।
এর মধ্যে এলডিপি এককভাবে ৩১৬টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যেই আগাম নির্বাচন ডেকে তাকাইচি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ম্যান্ডেট চেয়েছিলেন। এই সাফল্য তার দুই পূর্বসূরির অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের শাসনামলে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।
রবিবারের জয়ের পর তাকাইচি এনএইচকে-কে বলেন, আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন কারণ তার মতে, ‘জনগণের সরাসরি সমর্থন ছাড়া শুধু পরিস্থিতি সামাল দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সঠিক হতো না।’ তিনি আরো বলেন, তার সরকারের বৈধতা নিয়ে তিনি কিছুদিন ধরেই এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলেন।
দল এখন শক্ত অবস্থানে থাকায়, আগ্রাসী সরকারি ব্যয় কর্মসূচি ও বিস্তৃত জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে তাকাইচির সামনে অভ্যন্তরীণ বাধা খুবই সীমিত থাকবে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে সোমবার জাপানের শেয়ারবাজারে।
ভোটাররা তার সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতিতে সমর্থন দেওয়ায় লেনদেনের শুরুতেই বেঞ্চমার্ক নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বন্ডের দাম কমেছে এবং সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ইয়েন নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘জাপান ফোরসাইট’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোবিয়াস হ্যারিস বলেন, ‘এলডিপির ভেতর থেকে তার পথে বড় কোনো বাধা আসবে না, আর বিরোধীদলগুলোরও তার এজেন্ডা ধীর করার মতো কার্যকর ক্ষমতা নেই। তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো সম্ভবত আসবে বাহ্যিক দিক থেকে— আর্থিক বাজার, ওয়াশিংটন ও বেইজিং।’
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি তার বিজয়ের জন্য তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিলেন, যারা তাকে একজন ক্যারিশম্যাটিক ও গতিশীল নেতা হিসেবে দেখে।
জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের ৫৪ শতাংশের চেয়ে বেশি।
নির্বাচনি প্রচারে অর্থনীতিই ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাকাইচি আগ্রাসী সরকারি ব্যয় কর্মসূচি প্রস্তাব করেছেন যার লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, তবে এটি জাপানের আকাশচুম্বী ঋণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি করেছে।
এখন জনগণ তাকাইচির প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার দিকে তাকিয়ে থাকবে। তার এই চূড়ান্ত জয়ের ফলে তিনি হয়তো জাপানের আইনসভা বা ‘ডায়েট’-এ তার এজেন্ডাগুলো দ্রুত পাস করিয়ে নেওয়ার প্রলোভনে পড়তে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। তবে কেউ কেউ সতর্ক করেছেন যে তার অতিমাত্রায় প্রভাব বিস্তার না করার বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন