পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ডান চোখে বর্তমানে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টি অবশিষ্ট আছে বলে তার আইনজীবীরা দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষ সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার এ অবস্থা হয়েছে। এই সপ্তাহে কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া তার আইনজীবী সালমান সাফদার বলেন, তিন থেকে চার মাস আগে সাবেক এই ক্রিকেটার ঝাপসা ও ঘোলা দেখার সমস্যা অনুভব করতে শুরু করেন।
সাফদার জানান, কারা সুপারিনটেনডেন্টকে বিষয়টি জানানো হলেও তাকে কেবল চোখের ড্রপ দেওয়া ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছিল, ২৪ জানুয়ারি ইসলামাবাদের পিআইএমএস হাসপাতালে খানের ২০ মিনিটের একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সে সময় মন্ত্রী আতা তারার বলেছিলেন, খান ‘ভালো ও সুস্থ’ আছেন।
সাত সপ্তাহ পর প্রথম বাইরের দর্শনার্থী হিসেবে কারাগারে গিয়ে সাফদার বলেন, তার মক্কেলের ডান চোখে রক্ত জমাট বাঁধার (ব্লাড ক্লট) সমস্যা ধরা পড়েছে, যা গুরুতর ক্ষতি করেছে এবং তার দৃষ্টি সীমিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার তিনি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি ও বিচারপতি শাহিদ বিলাল হাসানের কাছে খানের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেন।
সাফদার বলেন, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা না পাওয়ায় খান দৃশ্যত উদ্বিগ্ন ও গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি দাবি করেন, খানের চোখ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল দিয়ে পরীক্ষা করানো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া এবং কারাগারে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে আটক খান যেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং তার দুই ছেলে কাসিম ও সুলায়মানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পান।
সাফদারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খানের কারাকক্ষে সাধারণ আসবাবপত্র, ১০০টি বই, দুটি ডাম্বেল, একটি জায়নামাজ এবং একটি অচল টেলিভিশন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রীষ্মকালে কক্ষটি অত্যন্ত গরম ও আর্দ্র হয়ে ওঠে, ঘন ঘন পোকামাকড় ও মশা ঢুকে পড়ে এবং গরমের মাসগুলোতে তিনি দুই থেকে তিনবার খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
খান একজন ‘মুশাকাতি’ (সহকারী বন্দি) পান, যিনি তার কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। এ ছাড়া দিনের বেলায় তিনি ১২ বাই ৩০ ফুট আকারের একটি লনে হাঁটাচলা করতে পারেন। পাকিস্তানের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে ইমরান খানকে ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, তার জিম সরঞ্জাম ও একজন রাঁধুনির সুবিধা রয়েছে।
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তার সরকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারের মতো বড় অবকাঠামো ও সামাজিক কর্মসূচি চালু করেছিল।
২০২৩ সালের আগস্টে তিনি কারাবন্দি হন এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ ১০০টিরও বেশি মামলার মুখোমুখি হন। তিনি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
তার কারাবাসের পর সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যার জবাবে কর্তৃপক্ষ কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। হাজারো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন