বিয়ানীবাজারে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে ঘর ছাড়া স্বামীর বাড়ির দখলের চেষ্টা

2,627
gb

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার  ||
দুইপুত্র ও কন্যার এরই মধ্যে বিয়ে হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এ পরিবারের অভিভাবক বোরহান উদ্দিন হুট করে কয়েক বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। প্রথম স্ত্রী যুক্তরাজ্যে ও বিয়ানীবাজারের বাড়ি থেকে স্বামীকে বিতাড়িত করেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোরহান উদ্দিনের বাড়ি পৌরশহরের খাসাড়িপাড়ায় এবং স্ত্রী নাজমা বেগমের বাবার বাড়ি শ্রীধরায়। বর্তমানে তারা দাসগ্রামের বসবাস করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশনামাসহ বিয়ানীবাজার থানার একদল পুলিশ নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন বোরহান। আদালতে তিনি অভিযোগ করেন বড়লেখার বড়াইল এলাকার ছালিক উদ্দিনের পুত্র উজ্জল তার বাড়ি দখলে রেখেছে। পুলিশ বাড়িতে ঢুকতে গেলে উজ্জলের মা আছিয়া বেগম বাধা প্রদান করেন। পুলিশের দাবি- বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাত বড়ি ইয়াবা, দুইটি রাম দা ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উজ্জল পালিয়ে যায়। এ সময় উজ্জলের মা আছিয়া বেগম আদালতের নির্দেশনা পত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিছবা উদ্দিন। তিনি বলেন, উজ্জল নামের যুবকটি অসামাজিক কাজে জড়িত রয়েছে। তাকে এলাকাবাসী একাধিকবার বাজে কাজে পেয়ে সামাজিকভাবে শাস্তিও দিয়েছে। তিনি বলেন, গভীর রাত পর্যন্ত উজ্জলের কাছে অপরিচিত লোকজন আসা যাওয়া করে বলে এলাকাবাসী তার কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন। উজ্জলের মা আছিয়া বেগম বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাজমা বেগম আমাকে এখানে রেখেছেন তার বাড়ি পাহারা দিতে। আজ হুট করে পুলিশ বাড়িতে এসে আমাকে ঘিরে ধরে। আমি ভয় পেয়ে যাই। এর পর পুলিশ ঘর তল্লাশি শুরু করে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ যা পেয়েছে এসব আমাদের নয়। নাজমার মা বাড়ি দখলের খবর পেয়ে দাসগ্রাম থেকে খাসাড়িপাড়া ছুটে যান। তিনি বলেন, বোরহান আমাদের সাথে নিমক হারামি করেছে। তার কিছুই ছিল না। এখন থেকে টাকার গরম দেখায়। তিনি বলেন, এ বাড়িটি আমার মেয়ের টাকায় তৈরী হয়েছে। আজ বোরহান পুলিশ নিয়ে বাড়ি দখল করার চেষ্টা করছে। আমরা আইনের আশ্রয় নেব। বোরহান উদ্দিন বলেন, নাজমার সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আমি তাকে অনেক আগে তালাক দিয়েছি। এখন আদালতের কাছে আমার বাড়ি ফিরে পেতে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশনা মেনে এখানে পুলিশ এসেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালাক দিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি এ বাড়ির ঠিকানা। নাজমা উকিল নোটিশ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। সে এখন আমার বউ না। তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বর্তমানে সুপাতলার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। বিয়ানীবাজার থানার এসআই মতিয়ার রহমান আদালতের নির্দেশ মতে বাড়ি তল্লাশি করে জায়গার দলিল খোঁজলেও পাননি জানিয়ে বলেন, দুইটি রাম দা, একটি ছুরি ও সাত বড়ি ইয়াবা পেয়েছি। আদালত বাড়িতে জায়গার দলিল আছে কিনা তল্লাশি করার নির্দেশ দেন। বোরহান উদ্দিন যে ঘর দেখিয়েছিলেন- সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত মালামাল উল্লেখ করে থানায় জিডি করবো। এদিকে নামজার পক্ষ থেকে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও লোকজনকে মারধর করার বিষয়টি উল্লেখ করে বিয়ানীবাজার থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।