ঝুঁকি নিয়ে চালু হচ্ছে ব্রিটেনের স্কুল সমূহ

88
gb

জিবিনিউজ24ডেস্ক//

ব্রিটেনে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ। এনিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও সরকার চাচ্ছে যেকোন মূল্যে আবারো শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে। আর ব্রিটেনের বৃহত্তম টিচিং ইউনিয়ন এনইইউ স্কুল গুলোতে আরো স্টাফ নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষার জায়গা, যদি করোনার সংক্রমন বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে কী করা উচিত সে সম্পর্কে আরও স্পষ্ট বক্তব্য দাবী করেছে।

তবে ভিন্নমত সরকারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ‍অধ্যাপক ক্রিস হুইটির। তিনি বলছেন শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হবে স্কুলে না গেলে।
তিনি বলেন, ‘‘কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মারা যাওয়ার আশঙ্কা অবিশ্বাস্য রকম কম। কিন্তু স্কুলে না যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তারা শরীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হবে।”

করোনাভাইরাস মহামারীতে ইউরোপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটি যুক্তরাজ্য। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৪৭ হাজার জন।

ভাইরাসের বিস্তার রোধে অন্যান্য দেশের মত সেখানেও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের লাখ লাখ শিশু সেপ্টেম্বরে স্কুলে ফেরার অপেক্ষায় আছে।

অধ্যাপক হুইটি বলেন, আরও অন্তত নয় মাস আমাদেরকে কোভিড-১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘সম্ভবত ২০২০ সালের মধ্যে কোনও টিকা পাওয়া যাবে না। যদিও আগামী শীতের আগে (২০২১-২২) একটি কার্যকর টিকা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।”

বিবিসি জানায়, ইংল্যান্ডে সেপ্টেম্বর থেকে সব বয়সের, সব বর্ষের এবং সব গ্রুপের শিক্ষার্থীদের ‘ফুল-টাইম’ ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ডে এরই মধ্যে স্কুল খুলে গেছে।

চিকিৎসা উপদেষ্টা অধ্যাপক হুইটি বলেন, ‘‘অনেক শিশু স্কুলে যাওয়ার চেয়ে স্কুলে না যাওয়ার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

‘‘এছাড়া যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বেই এখন একটি বিষয় স্পষ্ট। তা হল, শিশুরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে না বা তাদের খুব একটা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে না।”

যেহেতু কোভিড-১৯ এর কোনো কার্যকর টিকা এখনও হাতে পাওয়া যায়নি তাই এখন পর্যন্ত ‘ঝুঁকি মুক্ত কোনো পথ’ নেই। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা কর্মকর্তারা তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের স্কুল খোলার ঝুঁকি এবং লাভ উভয়ের গুরুত্ব বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভিভাবকদের জন্য কী বার্তা?

নানা গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের পর দিন স্কুলে না যাওয়ায় শিশুদের দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভোগার ঝুঁকি অনেক বেশি।

অধ্যাপক হুইটি বলেন, ‘‘সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যে কয়টি শিশু মারা গেছে তাদের প্রায় সবাই আগে থেকে কোনও না কোনও জটিল রোগে ভুগছিল।”

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ১৯ বছরের কম বয়সের ১০ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ২০ বা তার অধিক বয়সে মোট মৃত্যু ৪৬,৭২৫।

ইংল্যান্ডে ১০ ‍লাখের বেশি শিশু জুন মাস থেকে প্রি-স্কুল বা স্কুলে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০টি শিশু এবং ১২৮ জন কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৩০ জায়গায় স্কুলের কর্মীদের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বা অন্য কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। মাত্র দুই জায়গায় শিক্ষার্থীর মাধ্যমে স্কুলে অন্যরা আক্রান্ত হন।

রোববার প্রকাশিত পাবলিক হেল্থ ইংল্যান্ডের (পিএইচই) নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও সেন্ট জর্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শিশুদের স্কুলের চাইতে বাড়িতেই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে সব প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কথা বলেছেন অধ্যাপক হুইটি। নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে সামনের দিনগুলোতে ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন তিনি।

শিশুরা স্কুলে যেতে শুরু করলে আরও বেশি অভিভাবক কাজে ফিরতে শুরু করবেন। সেক্ষেত্রে ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকিও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে হুইটি বলেন, ‘‘আসছে শরৎ ও শীতে ভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়বে। বিষয়টা জনগণের মেনে নেওয়া উচিত।”

তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়লে তা বৃদ্ধ এবং অন্যান্য বয়সের আরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যেতে পারে। হুইটির মতে, অন্তত আরও ৯ মাস মানুষকে এই গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।