১২ মাসের মধ্যে আট মাসই থাকে জলাবদ্ধ

311
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:কেবল বর্ষাকাল নয়, বছরের ১২ মাসের মধ্যে আট মাসই জলাবদ্ধ হয়ে থাকে রাস্তাটিতে। আর বর্ষা মৌসুমেতো কথাই নেই।

তখন কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর থেকে তপইয়া-মনপাল হয়ে ষোলদনা গ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটারের বেহাল সড়কটিতে জলাবদ্ধতার জন্য প্রায় সারা বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১০ গ্রামের অন্তত ৪০ হাজার মানুষকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় মনপাল এবং তপইয়া গ্রামের বাসিন্দাদের।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর থেকে তপইয়া-মনপাল হয়ে ষোলদনা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এবং রামপুর থেকে মনপাল হয়ে রাজাপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা যুগ যুগ ধরে বেহালে পড়ে রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে  মনপালের সঙ্গে কৃষ্ণপুর, তপইয়া, রাজাপুর, রামপুর, ষোলদনা, মামীশ্বর, কৃষ্ণপুরসহ ১০ গ্রামের মানুষ। বর্ষায় এসব গ্রামের রাস্তাগুলো কখনো হাঁটু পানি, আবার কখনো কোমর সমান পানিতে ডুবে থাকে। এ ছাড়া বছরের বাকি চার মাসেও রাস্তাটিতে  চলাচলে নেই কোনো স্বস্তি। খানাখন্দে ভরা থাকায় প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহন আটকে থাকে। ফলে গ্রামগুলোর স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পুরো বছরই কষ্ট সহ্য করতে হয়।

মনপাল গ্রামের শিক্ষক মাসুদুল হক বলেন, ‘আশপাশের গ্রামের রাস্তা পাকা হলেও মনপালে নেই কোনো পাকা সড়ক। এতে এই গ্রামের মানুষের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। ‘ একই গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান খোকন বলেন, ‘মনপাল-তপইয়ার রাস্তা এত খারাপ যে গ্রামে রিকশাও আনা যায় না। বর্ষায় নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। এ বছর এলাকার রাস্তাগুলো গত আট  মাস ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে। ‘

তপইয়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘কৃষ্ণপুর থেকে তপইয়া-মনপাল হয়ে ষোলদনা সড়ক পাকাকরণের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি সহসা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। ‘

স্থানীয় উত্তরদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘মনপাল ও তপইয়ার রাস্তার অবস্থা আসলেই খারাপ। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধ হয়েও রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অপরিল্পিতভাবে মাছ চাষ করায়ও রাস্তা ভেঙে পড়ছে। এ বিষয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ‘

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ওই এলাকার রাস্তাগুলোর খারাপ অবস্থা সম্পর্কে জেনেছি। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি এগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারবো। ‘