সিলেটে বিএনপির অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা: সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সভা

435
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন অফিসে বিএনপি নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি উল্টিয়ে অবমাননা করায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে আজ বাদ মাগরিব স্থানীয় শিবেরবাজারে প্রতিবাদ সভার ডাকও দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান- গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও হাটখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিনের যুক্তরাজ্য গমণ উপলক্ষে ইউনিয়ন অফিসের হলরুমে হাটখোলা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিলো। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। ইউনিয়ন অফিস হলরুমে অনুষ্ঠান থাকায় সেখানে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো ছিলো। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিএনপির কিছু কর্মী বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি উল্টিয়ে ফেলে। সেটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানতে পেরে তাৎক্ষনিক সেখানে প্রতিবাদ করেন। পরে আবার অনুষ্ঠান চলাকালিন সময়েই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঠিক করে রাখা হয়।

হাটখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান- বিএনপির ওই অনুষ্ঠানে প্রথমে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নামানো হলেও পরে আবার সেটি উল্টিয়ে সেখানে রাখা হয়। বিষয়টি আমাদের কর্মীদের জানাজানি হলে ছবি তুলে আনা হয়। বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও রাস্ট্রপ্রধান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ছবি উল্টিয়ে রেখে অবমাননা করায় আমরা তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ মিছিল করি। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় অনুষ্ঠান করে আবার সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি উল্টিয়ে রাখা অবমাননার সামিল। নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পণ্ড করার কথা বললেও আমরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায়ের স্বার্থে তাদের শান্ত করি। এ বিষয়ে জালালাবাদ থানায় একটি অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আজ শনিবার বাদ মাগরিব শিবেরবাজারে প্রতিবাদ সভারও ডাক দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সংবর্ধিত অতিথি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও হাটখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান- এমন ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমাকে কুলসিত করতে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সবার কাছে সম্মানিত। তাকে অবমাননা করা নিশ্চয়ই অন্যায়।

যারা কাজটি করেছে, তারা অন্যায় করেছে। কারণ যখন যে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবে, তাঁরই ছবি অফিসে টানানো থাকে। আমি আমার মাথার উপরে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে প্রতিদিন অফিস করি। কই, আমি তো কখনো তা নামাইনি। কিন্তু কিছু উশৃঙ্খল কর্মী আমাদের অগোচরে কাজটি করেছে। আমরা যখন সেটি জানতে পেরেছি, তাৎক্ষনিক সেটি ঠিক করে রেখেছি এবং আমি সাথে সাথে মাইকে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছি। এমন ঘটনার জন্য আমি মর্মাহত। আশা করি এ সবাই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।