ওসমানীনগরে মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দীক আলীর নামে সড়ক চায় এলাকাবাসী

জিবি নিউজ ।।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ থেকে বেঁচে যাওয়া মোঃ সিদ্দীক আলী। তিনি মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামানুসারে গঠিত ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের মৃত সিকন্দর আলী শাহ এর-একমাত্র সন্তান ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধের সময় টগগবগে যুবক সিদ্দীক আলী,তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান রাইফেলস-এ যোগ দিয়ে সাময়িক প্রশিক্ষন সমাপ্তির পর দল বল নিয়ে শক্ত হাতে অস্ত্র ধরেন সুনামগঞ্জ সিলেট সেক্টরের অধীনে বিভিন্ন এলাকায়। এক পর্যায়ে যুদ্ধ চলাকালীন সময় ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে পাক বাহিনীর আঘাতে সে সময় তিনি কিছুটা আহত হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় দ্রুত সেরে উঠে পুনরায় যুদ্ধে অংশ নেন এই বীর।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্যবাতায়ন osmaninagar.sylhet.gov অনুসন্ধান করে জানাযায়, কেবল ওসমানীনগর উপজেলা থেকে প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিয়েছিলেন মোট ২০৪ জন নারী-পুরুষ। তার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাকালীন সময় বিভিন্নভাবে ওসমানীনগরে শহীদ হন ১২৩ জন, পাকিস্তানি শত্রুদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ৮১ জনের মধ্যে তথ্য বাতায়নের তালিকা অনুযায়ী সিদ্দীক আলীর অবস্থান ৫৬ তম। যাহার গেজেট/মুক্তি নং-০৫০১।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় শহীদ হওয়া মুক্তিযোদ্ধা,র মধ্যে,উমরপুর-৭ জন। সাদিপুর,২৪ জন। পশ্চিম পৈলনপুর,৭ জন। বুরুঙ্হা,৫১ জন।
গোয়ালাবাজার ১২ জন ও তাজপুর,২২ জন। তবে দয়ামীর ও উসমানপুর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধের সময় সম্মুখ যুদ্ধে কোন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হওয়ার সরকারী তথ্য বাতায়নে এরকম কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবৎ তাজপুর ও তার আশপাশ এলাকায় সামাজিক সোশ্যাল মিডিয়া(ফেসবুকে) মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দীক আলীর স্মৃতি ধরে রাখা ও মুক্তিযোদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাহার স্মৃতি স্মরপ তাজপুর-নাগেরকোনা সড়ক বীর মুক্তিযুদ্ধা সিদ্দেক আলী,র নামে নাম করন করার জোড় দাবী উঠছে।

দাবী উত্তাপনকারীদের বিভিন্ন স্ট্যাটাসে সিদ্দীক আলীকে রণাঙ্গনেরর বীর উল্লেখ করে লিখেছেন

একাত্তরের রনাঙ্গনের বীর সিদ্দীক আলীদের মতো বীরেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দাসত্ব থেকে এ মাসের ১৬ ই ডিসেম্বর বাংলার বিজয় পতাকা উত্তোলন করেছিল বাঙালী জাতি। এসেছিল আমাদের বহুল প্রত্যাশিত গৌরবোজ্জ্বল বিজয়। তাই বাংলা বা বাঙালী জাতির কাছে এ মাসের কদর অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও অসীম ভক্তির। কাজেই বিজয়ের এ মাসে সিদ্দীক আলীর নামে উপরোক্ত রাস্তাটি নামকরন করা হউক।

অপরদিকে সিদ্দীক আলী শুধু মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না,ছিলেন একজন সফল জনপ্রতিনিধি ও ক্রীড়াবিদ। স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি একাধারে তাজপুর ইউপির একজন সফল ইউপি সদস্য ছিলেন। তখন তিনি সর্বত্র (দাদা) মেম্বার নামে পরিচিত ছিলেন।

সব মিলে সিদ্দীক আলী এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয় ও সামাজিক কমর্কান্ড ও খেলাধুলায় ছিলেন এক নিবেদিত প্রান। তাজপুর ইউনিয়নে কয়েক দফা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন,সিদ্দীক আলী। তিনি তৎকালীন বালাগঞ্জ-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারও ছিলেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধার প্রবাসী পুত্র ফয়সল সিদ্দিকী বলেন,আমরা এক গর্বিত বাবার সন্তান। উপরোক্ত সড়কটি আমার বাবার নামে নামকরণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি কৃতঙ্হ থাকবে এলাকাবাসী।

তিনি ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরন করেন। বিজয়ের এই মাসে মহান এ বীরের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন