আরিফ ও কামরানের ‘গ্রিন সিগন্যাল সিলেটে আলোচনায়

1,355
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্তমান মেয়র। অন্যদিকে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সাবেক মেয়র। এ দু’জনের আবার দলীয় পরিচয়ও রয়েছে। কামরান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আ’লীগের সভাপতি; আরিফ বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য, ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি। সিসিকের আগামী নির্বাচনে এ দুই প্রার্থীই আছেন আলোচনার তুঙ্গে। দলীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী হতে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ মিলেছে বলে আরিফ ও কামরানের দাবি। এ নিয়ে সিলেটে চলছে নানা আলোচনা। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী আওয়ামী লীগ-বিএনপির অন্যান্য নেতারা বলছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দলের মনোনয়ন বোর্ডই প্রার্থী ঠিক করে দেবে।

আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন। মেয়র পদে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারাই আছেন দৌড়ঝাপের মধ্যে; অন্য কোন দলে এ নিয়ে তেমন নড়াচড়া নেই।

সিসিকের গেল নির্বাচনে পরাজিত হন টানা দুইবারের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তবে পরাজয় তাকে টলাতে পারেনি। মেয়র পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য তার দরজা ছিল উন্মুক্ত। গেল কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে দলীয় কর্মকাÐে সক্রিয় ছিলেন কামরান। বিগত উপজেলা, পৌর ও ইউপি নির্বাচনে সিলেটজুড়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন তিনি। গত জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শেষে আগামী সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং মানুষের কাছে যেতে কামরানকে নির্দেশ দেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের জন্য এমন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে কামরান নতুন উদ্যমে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আমি নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছি, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছি। আমি আশাবাদী, দলীয় মনোনয়ন তথা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব।’

কামরান ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার দাবি করলেও তা মানতে নারাজ মেয়র পদে লড়তে আগ্রহী আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা। তন্মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। তারা বলছেন, নির্বাচনের এখনও কয়েক মাস বাকি। মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বসবে, সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে কে প্রার্থী হবেন। এর আগে কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে দাবি করতে পারেন না। দলীয় মনোনয়ন পেতে বিগত কয়েক বছর ধরে তৎপরতা চালাচ্ছেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আসাদ উদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে আজাদুর রহমান আজাদ সিসিকের টানা তিনবারের কাউন্সিলর। তিনিও আছেন মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে।

আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় মনোনয়ন বোর্ড বসে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত দেখবে, তাদের কর্মকান্ড দেখে, জনপ্রিয়তা যাচাই করবে তারপর মনোনয়ন দেবে। ছাত্রজীবন থেকে ক্লিন ইমেজ রক্ষা করে চলেছি। উন্নয়ন ও শান্তির জনপদ গড়তে নগরবাসী আমাকে প্রার্থী হিসেবে চাইছে।’

আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘মানুষের সেবা করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। নগরবাসীর সুখে-দুঃখে সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আমাকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে উদ্ধুদ্ধ করছে। তৃণমুল থেকে মুজিব সৈনিক হিসেবে ওঠে এসেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

এদিকে সিসিকের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ফের নির্বাচনে লড়তে চান। সে লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতায় রয়েছেন তিনি। সিসিকের গেল নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে মেয়রের চেয়ারে বসা আরিফ নগরীর উন্নয়নে বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসন, ছড়া-খাল উদ্ধার, যানজট নিরসনে সড়ক প্রশস্তকরণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন প্রভৃতি কাজের মাধ্যমে ইতিবাচক একটি ইমেজ তৈরী করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন আরিফ। ওই সময় আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে খালেদা জিয়া নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দাবি আরিফের।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলের চেয়ারপার্সনের আমাকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেছেন তিনি।’

আরিফ দলীয় প্রধানের নির্দেশনা পাওয়ার দাবি করলেও সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী বিএনপি নেতারা এমন দাবিকে এখনই গ্রাহ্য করছেন না। আরিফকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে না দিয়ে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক, সিসিক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। প্রার্থী হতে আগ্রহী এসব নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে সবকিছু বিবেচনা করে দল প্রার্থী ঠিক করবে।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘মেয়র পদে প্রার্থী হতে দলের নেতাকর্মীসহ সবাই অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। আমিও রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সবধরনের কর্মকান্ডে ব্যস্ত রয়েছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস।’