রাজীবের সেই কোটি টাকার গাড়ি পড়ে আছে খড়কুটোর মধ্যে!

145
gb

জিবি নিউজ ২৪–

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজিব ছিলেন মোহাম্মদপুরের স্ব-ঘোষিত সুলতান। তিনি যখন রাস্তায় নামতেন তাকে ঘিরে থাকতো বিশাল গাড়ির বহর। আর কর্মী বাহিনী ঘেরা প্রটোকল। মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন গলিতে যখন তার গাড়ি প্রবেশ করতো তখন রাস্তায় সাধারণ মানুষের গাড়ি চলাচল ছিলো নিষিদ্ধ।                                                                 
এক সময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর রাজিব হাতে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। আর এতেই রাতারাতি বদলে যায় তার জীবনযাপন। একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়েও তার জীবনযাপন ছিলো সুলতানি স্টাইলে।

রাজিবের ব্যবহৃত কোটি টাকা দামের গাড়ি ঘেরা থাকত শত শত মোটরসাইকেলের বহর দিয়ে। বহরের অধিকাংশ মোটরসাইকেলে ব্যবহার করা হতো উচ্চ শব্দের হাইড্রোলিক হর্ন। যখন এলাকায় শোভাযাত্রা বের হতো, তখন সেই হর্ন সমস্বরে বেজে উঠত। ফলে অনেক দূর থেকে বোঝা যেত এই রাস্তায় আসছেন ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান।’

কোটি টাকা দামের ল্যান্ড রোভার (ঢাকা মেট্রো-শ ০০-০৬৬৬৪) গাড়িটায় চড়েই মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় মহড়া দিতেন রাজীব। তবে সেই গাড়িটির মালিক রাজীব কিনা- এ ব্যাপারে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকেই রাজিবের ব্যবহৃত গাড়িটিকে অযত্ন আর অবহেলায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এটি যেখানে রাখা হয়েছে সেটি একটি গরুর খামার। আর এর ভেতর রয়েছে খড়কুটো। অনেক দিন ধরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকার কারণে গাড়িটিতে ধুলার আস্তর জমে গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেঁড়িবাধের সড়টির পাশেই বেঙ্গল ফার্মের ‘সাড়া বিল্ডার্স’ নামে একটি সাইনবোর্ডের সামনে এই গাড়িটি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গাড়ির উত্তর সাইটে বাঁশের বেড়ার আড়াল করে রাখা আর দক্ষিণে গরুর খড়ের গাদা। তাই পেছন থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে কোটি টাকা দামের একটি গাড়ি লুকিয়ে রাখা হয়েছে। একই স্থানে আরও একটি গাড়ি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে গাড়িটিতে কোনো কোম্পানির লোগো বা কোনো নম্বর প্লেট লাগানো নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটিও বিশ্ব বিখ্যাত ল্যান্ড ক্রজার মডেলের জিপ।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এরপর ভাটারা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করে তাকে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। পরে আদালতের নির্দেশে দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছেন মোহাম্মদপুরের সুলতান রাজীব।

Attachments area

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন