বাবরি মসজিদ মামলার রায় আজ; ভারতজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

59
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

আজ শনিবার বাবরি মসজিদ মামলার রায় দিতে চলেছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। লাগাতার ৪০ দিন শুনানি শেষে এই মামলার রায় হতে যাচ্ছে। আজ ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলার রায় দেবে।

জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর সঙ্গে এই সাংবিধানিক বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির। এই রায়কে ঘিরে যাতে কোনও রকম অশান্তির সৃষ্টি না হয় সে কারণে উত্তর প্রদেশসহ ভারতজুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলকে শান্তি বজায় রাখা আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে টুইট করে মোদি বলেন, আগামীকাল অযোধ্যা মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। গত কয়েক মাস ধরে এই মামলার লাগাতার শুনানি চলছিল। গোটা দেশের নজর ছিল এই মামলার ওপর। সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে আহ্বান শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

আরও একটি টুইটে তিনি বলেন, অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে, তাতে কারও হার-জিত হবে না। দেশবাসীর কাছে আবেদন, এই মামলায় যা রায়ই আসুক, দেশের পরম্পরা অনুযায়ী শান্তি বজায় রাখাটাই আমাদের মূল কর্তব্য হবে।

আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সেই অনুযায়ী তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে প্রতিদিন শুনানি হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর এই মামলার শুনানির পর রায় সংরক্ষিত রাখেন প্রধান বিচারপতি।

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান বিচারপতি। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজেন্দ্র কুমার এবং ডিজি ওমপ্রকাশ সিংহ। এই বৈঠককে ঘিরেই জোর জল্পনা শুরু হয়, তাহলে কি দুয়েকদিনের মধ্যেই বাবরি মসজদি মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হলো।

এদিকে, এই রায়কে ঘিরে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেজন্য সমস্ত রাজ্যগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। আগামী সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

জানা গেছে, একই নির্দেশ জারি হয়েছে কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশেও। পাঁচ বিচারপতিরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লখনউ ও অযোধ্যাতে দুটো হেলিকপ্টার জরুরি ভিত্তিতে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিকেও কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। রাজধানীর সংবেদনশীল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More