হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সৌদি প্রবাসীর আকুতি

প্রতিনিধি, সৌদি আরব :

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ চক্রের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় সর্বশান্ত হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেক প্রবাসীর । এসকল অসৎ কুচক্রী মহলের আক্রোশ থেকে রক্ষা পেতে প্রবাসীবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা । এমনই একজন সৌদি আরবে বাংলাদেশি তৈরী পোষাক আমদানিকারক ও “মেইড ইন বাংলাদেশ” নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী সৌদি প্রবাসী শরিফ উদ্দিন । তিনি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন । তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর উত্তর মোড়াইল বনিক পাড়ার আবেদুর রহমানের সন্তান । সংবাদ সম্মেলনে শরিফ উদ্দিন জানান, তিনি ১৯৯২ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোষাক রপ্তানি ও সৌদি আরবে আমদানী করে আসছেন । কিন্তু হঠাৎ করে ২০১৪ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়িক কাজে তিনি ঢাকায় অবস্হানকালিন সময়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঠিক জুমার নামাজের পূর্বমূহুর্তে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর আসে তাদের বসত বাড়ী দখল নিতে আসে একদল মানুষ কিন্তু প্রতিবেশীদের বাধা পেয়ে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হয় । বাড়ী দখল করতে না পেরে ঐ চক্র পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে থানায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে । যে মামলায় তার অসুস্হ বড় ভাই শাহিন উদ্দিনকে প্রধান তাকে দ্বিতীয় তার বড় ভাবীকে তৃতীয় এবং তাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলার শরীফ ভান্ডারীকে চর্তুথ আসামী করা হয় ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখের মামলা নং- ৮৬ মামলার বাদী কাজী পাড়ার সুমন মিয়া পিতা মৃত ইউনুছ মিয়া তার দায়েরকৃত মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, দলবদ্ধ হয়ে অনধিকার প্রবেশ, চাঁদা দাবি, ক্ষয়ক্ষতি, ভয় ভীতি প্রদর্শন এবং হুকুমের অপরাধ । সুমন মিয়ার দাবী, ২০১২ সালে শাহিন উদ্দিনের কাছ থেকে সাব কবলায় ৪.৬৬ শতক জমির খরিদা সূত্রে মালিকানা প্রাপ্ত হন খোরশেদ আলম মন্টু । তারা খরিদা জমি দখলে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে বিবাদী পক্ষ এসকল অপরাধে লিপ্ত হয়।

শরিফ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাদের বসত বাড়ীতে দুই দাগে মোট ১৮ শতক পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে । তারা পাঁচ বোন চার ভাই তার মা সহ উত্তরাধিকার সূত্রে এই সম্পত্তির অংশীদার মোট নয়জন। সেই হিসাবে ঐ সম্পত্তি সমহারে বন্টন করলে তার ভাই শাহিন উদ্দিন ২ শতকের মালিক । তাই, তিনি দাবী করেন তার ভাই শাহিন উদ্দিন সুস্হ স্বজ্ঞানে এই সম্পত্তি সাব কাবলা করেনি । তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য প্রয়োগে ওয়ারিশের সম্পত্তি গোপন রেখে খোরশেদ আলম মন্টু সম্পত্তি দলিল করে নেয় । তা না হলে ২০১২ সালে খরিদ করা সম্পত্তি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখে দখলে যাওয়ার চেষ্ঠা হয় কিভাবে । তাছাড়া অত্র এলাকার কেউ এই সম্পত্তি বিক্রয়ের বিষয়ে জানেন না । তিনি বলেন, তার ভাই শাহিন উদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে সরকারি চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় । স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি অত্যন্ত দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন । তিনি সম্পত্তি বিক্রি করেন নাই মর্মে তার স্ত্রী মেহেরুন নেছা জান মালের নিরাপত্তার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করেন যার নং ১৪৩৭ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪।

ছেলেদের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহিত দিতে দলিল অনুযায়ী জায়গার বৈধতা নাই মর্মে ডিক্রি পাওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নং ৫২/১৫ তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৫ এবং এর আগে ফৌজদারি কার্য বিধির ১৪৪ ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রিট আদালতে মামলা নং ২০৪/১৫ দায়ের করেন শরিফ উদ্দিনের বৃদ্ধা মা দেলোয়ারা বেগম ।

শরিফ উদ্দিন মামলা থেকে অব্যাহতি ও সুষ্ঠ বিচারের জন্য সৌদি আরবের রিয়াদস্হ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান । তাছাড়া তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি কার্য বিধির ২৬৫(সি) ধারায় মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন । যার নং ২৯০/১৫ তারিখ ১৮ আগষ্ট ২০১৫ । কিন্তু ঐ মামলাটি বিচারাধীন থাকায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি ।

শরিফ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খোরশেদ আলম মন্টু ও সুমন মিয়া আইন আদালতের কাছে পলাতক আসামী । তাদের দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছরে তার দশ লক্ষাধিক টাকা ব্যবসায়িক ক্ষতি সহ শারিরিক ও মানষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন তিনি দিশেহারা । তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকার তৈরী পোষাক আমদানী করে সৌদি আরবে বিপণন করি । আমাদের আয়ের সমস্ত অর্থ বাংলাদেশে রেমিটেন্স হিসাবে পাঠিয়ে বৈদেশিক মৃদ্রার রির্জাভ বৃদ্ধি করে আসছি । অথচ, একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন প্রতিকার পাইনি । তাই, উল্লেখিত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন । সংবাদ সম্মেলনে তাকে সহায়তা করেন, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে তৈরী পোষাক আমদানীকারক রিয়াদ উজির মার্কেটের ব্যবসায়ী, সমাজসেবক সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জাকির । এ সময় রিয়াদে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্হিত ছিলেন ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন