মৌলভীবাজারে চার কোটি টাকা ব্যায়ে পৌর বাস টার্মিনাল আজ ও চালু হয়নি, অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো

158

নজরুল ইসলাম মুহিব \

মৌলভীবাজার শহরকে যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং রাস্তার উপর যত্রতত্র গনপরিবহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসার পরিকল্পনায় আট বছর আগে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে চালু করা হয় মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে উদ্বোধনের আট বছর পার হলে ও পুরাপুরিভাবে চালু হয়নি মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল। সরকারের ৪ কোটি টাকার অবকাঠামো এখন পরিত্যক্ত অন্যদিকে মৌলভীবাজার শহরে বুকে রাস্তা দখল করে তার উপর গড়ে উঠেছে বাসস্ট্যান্ড যা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য শহর এলাকার সড়ক থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে যোগিডহর নামক এলাকায় প্রায় ৪ কেটি টাকা ব্যয়ে পৌর বাস টার্মিনালের নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। কিন্তু পরিবহন মালিকদের অনীহাসহ নানা কারণে বাস টার্মিনাল তখন চালু করা যায়নি। পরে জেলা প্রশাসন পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০১০ সালের ১ নভেম্বর থেকে বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। চালুর পর ঢাকা-মৌলভীবাজার, সিলেট-হবিগঞ্জ, কুমিল্লা সহ আন্ত:জেলার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে কিছুদিন চলাচল করে । কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বাসগুলো টার্মিনাল থেকে সরে আবার ও পৌরসভার ভিতরের প্রধান রাস্তায় অবৈধ স্ট্যান্ডে চলে আসে সেই থেকে আজ অবধি টার্মিনালটি আর ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে এই টার্মিনাল। অযতœ আর অবহেলায় নষ্ট হয় অবকাঠামো। ব্যবহার হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ইট-বালু রাখার জায়গা হিসেবে। দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত পরে থাকায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো। ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ দিকে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের যত্রতত্র বাসস্ট্যান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। শ্রীমঙ্গল রোডে প্রধান সড়কের দুই পাশে ‘ঢাকা বাসস্ট্যান্ড’ নামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে জেলার প্রধান বাস স্ট্যান্ড। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট, ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের। সরেজমিনে দেখা যায়, যানবাহন ও মানুষশূন্য টার্মিনালটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। টার্মিনালের পার্কিং এলাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজের ইট বালু পাথর বিটুমিন সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। টার্মিনাল ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে নির্মাণসামগ্রী পাহারার জন্য রাতে কয়েকজন শ্রমিক থাকেন। টার্মিনালের মেঝের টাইলস ভেঙে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কক্ষের কাচের দরজা খোলা। যানবাহন না আসার কারণে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার নামে বরাদ্দ করা কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। বিশাল আয়োজনে নির্মিত বাসস্ট্যান্ডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। স্থানীয়রা ব্যবসায়ী সাদিক আহমদ জানান, বাস টার্মিনালের ভেতরে বাস ঢোকে না শুধু হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের নিদিষ্ট বাস রাস্তার মধ্যে একটু সময় থামে। আর কোনো বাস এই টার্মিনালে থামে না। উদ্বোধনের পরপর এই বাস স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র এলাকায় অনেক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছিল কিন্তু চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় তিন একর জায়গার মধ্যে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এতে জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯ টাকা। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ মছচ্ছিল আলী বলেন, টার্মিনাল এমন এক এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে দূরপাল­ার কোনো গাড়ী যায় না। চালকেরা যেতে চান না। সাধারণ মানুষও সেখানে যেতে চান না। এই টার্মিনালে নেমে শহরে যেতে আরও ২০-৩০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। কারো সাথে আলাপ আলোচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ এটি নির্মাণ করেছে যার ফলে এই অবস্থা। মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, ‘আমার পূর্বসুরি মেয়র এটি পরিকল্পিতভাবেই নির্মাণ করেছিলেন। যারা বলছেন এটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে তারা ডাহা মিথ্যা বলছে। এটি ব্যবহার করার জন্য আমি বাস চালক ও মালিকদের অনুরোধ করছি।’