প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদক মতিউর রহমানের বক্তব্যের একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা
দেলোয়ার জাহিদ ||
দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্পাদক মতিউর রহমানের লেখা ‘স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’ শিরোনামের নিবন্ধটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। নিবন্ধে তিনি তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা-জীবনের অভিজ্ঞতা, প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শন, রাজনৈতিক চাপ, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা এবং পত্রিকাটির বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, ২৮ বছরের পথচলায় প্রথম আলো বিভিন্ন সময়ে ভুল করেছে এবং ভুল উপলব্ধি করার পর দুঃখ প্রকাশ ও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।
নিবন্ধটির সবচেয়ে আলোচিত বক্তব্য—‘স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’—একদিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের প্রকাশ, অন্যদিকে সম্পাদকীয় আত্মসমালোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির প্রশ্নও উত্থাপন করে। প্রশ্ন হলো, একজন সম্পাদক কি কেবল সবাইকে সন্তুষ্ট করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন, নাকি সংবাদপত্রের ভুল, পক্ষপাত, অসম্পূর্ণতা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের জন্যও তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে?
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বনাম সমালোচনার অধিকার
মতিউর রহমানের বক্তব্যে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান, অজনপ্রিয় সত্য প্রকাশ এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার যে অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয়। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব জনগণকে সন্তুষ্ট করা নয়; বরং সত্য অনুসন্ধান, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা। কোনো সংবাদ বা বিশ্লেষণ রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিপন্থী হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের অসন্তুষ্টি অস্বাভাবিক নয়।
তবে সব সমালোচনাকে স্বার্থান্বেষী প্রতিক্রিয়া কিংবা সত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করাও যুক্তিসংগত নয়। সমালোচকদের মধ্যে সাধারণ পাঠক, সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকও রয়েছেন, যাঁরা সংবাদটির তথ্যগত নির্ভুলতা, ভাষা, উপস্থাপন কিংবা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলতে পারেন। নিরপেক্ষতার দাবি করলেই নিরপেক্ষতা প্রমাণিত হয় না; এর প্রমাণ থাকতে হয় সংবাদ নির্বাচন, তথ্য যাচাই, সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা এবং ধারাবাহিক সম্পাদকীয় আচরণে।
একটি স্বাধীন সংবাদপত্রের যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অধিকার রয়েছে, তেমনি তার প্রকাশিত সংবাদ ও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকারও জনগণের রয়েছে। সত্যের দাবিদার হওয়া এবং নিজের সত্যের দাবিকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে মনে করা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা-জীবনের অভিজ্ঞতা কি সম্পাদকীয় জবাবদিহির বিকল্প?
মতিউর রহমান তাঁর ৫৬ বছরের সাংবাদিকতা-জীবন, ২৮ বছর ধরে প্রথম আলোর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই কর্মজীবন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল। তবে সাংবাদিকতার নৈতিকতার একটি মৌলিক নীতি হলো—অভিজ্ঞতা সম্মানের যোগ্য হলেও তা কোনো পেশাগত সিদ্ধান্তের যথার্থতার চূড়ান্ত প্রমাণ কিংবা জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না। একজন সাংবাদিক পাঁচ বা ছয় দশক পেশায় নিয়োজিত থাকলেও তাঁর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন তথ্যগতভাবে ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে; বিপরীতে, একজন নবীন সাংবাদিকের অনুসন্ধানও নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ হতে পারে। অতএব, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা একজন সম্পাদককে মর্যাদা দিতে পারে, কিন্তু তাঁর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে প্রশ্নাতীত করে না। বরং অভিজ্ঞতা যত দীর্ঘ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব যত বিস্তৃত, স্বচ্ছতা, আত্মসমালোচনা ও জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রত্যাশাও তত বেশি হওয়া যুক্তিসংগত।
ভুল স্বীকারের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসম্পূর্ণতা
মতিউর রহমানের নিবন্ধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রথম আলো ২৮ বছরের পথচলায় বিভিন্ন সময়ে ভুল করেছে এবং ভুল উপলব্ধি করার পর দুঃখ প্রকাশ ও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য পাঠকদের কাছে তাঁর এই Sorry বা দুঃখ প্রকাশকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। কারণ ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম নৈতিক বৈশিষ্ট্য।
তবে এখানেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অনুত্তরিত থেকে যায়—কোন ভুলগুলো হয়েছিল, সেগুলোর প্রকৃতি কী ছিল, কেন সেসব ভুল ঘটেছিল, কীভাবে সংশোধন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পাঠকদের কাছে সংশোধনের বিষয়টি কতটা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছিল? নিবন্ধে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশেষ করে ভুলকে কেবল ‘অনিচ্ছাকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করলেই সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। সাংবাদিকতার ভুল তথ্য যাচাইয়ে অবহেলা, অসম্পূর্ণ অনুসন্ধান, পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ নির্বাচন, বক্তব্য বা ঘটনার প্রেক্ষাপট ভুলভাবে উপস্থাপন কিংবা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের ত্রুটি—বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। ভুলের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলেও তার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি, বিভ্রান্তি কিংবা কারও সম্মানহানির দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এসব ক্ষেত্রে শুধু Sorry বলাই যথেষ্ট নয়; ভুলের প্রকৃতি, দায়ের অবস্থান, সংশোধনের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কানাডার Canadian Association of Journalists (CAJ)-এর ২০২৩ সালের Ethics Guidelines-এ তথ্যের নির্ভুলতাকে সাংবাদিকতার মৌলিক নৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং ভুল হলে তা দ্রুত, দৃশ্যমান ও স্বচ্ছভাবে সংশোধন করার ওপর ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নৈতিক মানদণ্ডে বিবেচনা করলে বলা যায়, একজন সম্পাদকের আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা অবশ্যই প্রশংসনীয়; কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংশোধনী নীতি, স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ক্ষমা প্রার্থনা ভুলের স্বীকৃতি হতে পারে, কিন্তু সংশোধন ও জবাবদিহিই সেই স্বীকৃতির প্রকৃত প্রমাণ।
### সামাজিক অবদান ও সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতা: দুটি পৃথক মূল্যায়নের ক্ষেত্র
মতিউর রহমান তাঁর নিবন্ধে প্রথম আলোর বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, অ্যাসিড-সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষাবৃত্তি, আলোর পাঠশালা, প্রথম আলো ট্রাস্ট, গণিত অলিম্পিয়াড এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গণমাধ্যমের সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তবে একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক অবদান তার প্রতিটি সংবাদকে নির্ভুল প্রমাণ করে না; একইভাবে সংবাদগত কোনো ভুল তার সব সামাজিক অবদানকেও অস্বীকার করে না। সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাফল্য এবং সংবাদ প্রকাশের নৈতিক মান দুটি পৃথক মূল্যায়নের ক্ষেত্র। পাঠকসংখ্যা, জনপ্রিয়তা, সামাজিক উদ্যোগ কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না। বরং একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আরও বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জন্য বৃহত্তর শিক্ষা: আত্মপক্ষসমর্থন নয়, আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিভাজন, মালিকানাগত স্বার্থ, অর্থনৈতিক চাপ, ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রভাব এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এই বাস্তবতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি গণমাধ্যমের নিজস্ব নৈতিক মানদণ্ড শক্তিশালী করাও অপরিহার্য।
সংবাদমাধ্যম শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান নয়; সংবাদমাধ্যম নিজেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। একটি দায়িত্বশীল সংবাদপ্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য সম্পাদকীয় নীতিমালা ও সংশোধনী ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সংবাদ, মতামত, বিশ্লেষণ ও বিজ্ঞাপনের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ করা, পাঠকের অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা রাখা এবং গুরুতর ভুলের ক্ষেত্রে স্বাধীন সম্পাদকীয় পর্যালোচনার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুল সংশোধনের পাশাপাশি তার কারণ ও প্রতিকার প্রকাশের সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে।
এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তৈরি হলে কোনো সম্পাদককে ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে হবে না। বরং তাঁর প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা, পেশাগত সততা ও নৈতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে।
শেষ কথা: সত্য প্রকাশের সাহসের পাশাপাশি নিজের ভুল স্বীকারের সাহসও প্রয়োজন
মতিউর রহমানের ‘স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’ নিবন্ধটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক চাপ প্রতিরোধ এবং ভিন্নমতের অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছে। তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা-জীবনের অভিজ্ঞতা এবং প্রথম আলোর সামাজিক উদ্যোগের বিবরণও নিবন্ধটির উল্লেখযোগ্য অংশ। তবে একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আত্মমূল্যায়নমূলক লেখায় আত্মপ্রশংসার পাশাপাশি আরও গভীর আত্মসমালোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সুযোগ ছিল।
প্রথম আলোর মতো প্রভাবশালী সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠকদের প্রত্যাশা শুধু এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না; বরং প্রত্যাশা হলো, প্রতিষ্ঠানটি নিজের ভুল, সীমাবদ্ধতা, সম্পাদকীয় পক্ষপাত কিংবা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়েও স্বচ্ছ থাকবে। একজন সম্পাদক সবাইকে খুশি করতে পারবেন না—এটি বাস্তবতা। কিন্তু সবাইকে অসন্তুষ্ট না করার নামে সমালোচনার যৌক্তিকতা উপেক্ষা করার অধিকারও তাঁর নেই।
কোনো সংবাদমাধ্যম সত্য প্রকাশের কারণে আক্রমণের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানো নাগরিক দায়িত্ব। আবার সেই সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদন ভুল হলে তা সংশোধনের দাবি জানানোও নাগরিক অধিকার। এই দুটি অবস্থান পরস্পরবিরোধী নয়; বরং স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের জন্য সমানভাবে অপরিহার্য।
আমার বিবেচনায়, সাংবাদিকতার নৈতিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো—একজন সম্পাদক তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা কতটা করতে পারেন, তা নয়; বরং সমালোচনার মুখে নিজের প্রতিষ্ঠানকে কতটা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। সাংবাদিকতা জনগণকে খুশি করার পেশা নয়, কিন্তু জনগণের কাছে সত্যনিষ্ঠ থাকার পেশা। ভুল হলে Sorry বলতে হবে, অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতে হবে, সমালোচনা হলে উত্তর দিতে হবে এবং সত্য হলে তার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
অতএব, সাংবাদিকতার মূলনীতি হওয়া উচিত—সত্যের জন্য আপস নয়, ভুলের জন্য আত্মপক্ষসমর্থন নয়; ক্ষমতার কাছে নতি নয়, সমালোচনার কাছে বন্ধ দরজা নয়। জনপ্রিয়তার চেয়ে পেশাগত সততা এবং আত্মপ্রশংসার চেয়ে আত্মসমালোচনাই হোক দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভিত্তি।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি—দুটিই গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন