সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা: ৮৩ ব্যাংক হিসাবে ১৯ কোটি টাকা, শ্যালকের হিসাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য

ঢাকা-//

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৪৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, মনিরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা মোট ৮৩টি ব্যাংক হিসাব আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা ছিল বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

হিসাবগুলোর মধ্যে মনিরুল ইসলামের ১১টি, তাঁর স্ত্রী সায়লা ফারজানার পাঁচটি, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

দুদকের আবেদনে মনিরুলের হিসাবে ৭৮ লাখ টাকার বেশি এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্যালকের ৪০ ব্যাংক হিসাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

দুদকের ২৬ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে শাহীনের নামে প্রায় ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

শাহিনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাবে একই সময়ে ৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

৫০টির বেশি ফ্ল্যাটের অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ৫০টির বেশি ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে।

তবে ৫০টি ফ্ল্যাটের মালিকানা ও প্রকৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিষয়টি অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের আদালতে দাখিল করা আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দুটি দাতব্য সংস্থা—কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ এবং শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থা দুটিকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এ অভিযোগেরও তদন্ত ও বিচারিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

দুটি মামলা, তদন্তের অপেক্ষায় আরও প্রশ্ন

গত ২৬ অক্টোবর দুদক মনিরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়েরের তথ্য প্রকাশ করে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানিলন্ডারিং। দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলাগুলো করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একজন সরকারি পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের সঙ্গে এত বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন কীভাবে যুক্ত হলো? এসব অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন