নবীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র্র দাস গ্রন্থাগার মফস্বলের আলোর বাতিঘর

31

উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)থেকে: বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে তথা মফস্বল অঞ্চলে যে সকল ছোট ছোট গ্রন্থাগার প্রান্তিক মানুষের পাঠ চাহিদা পূরণ সহ সমাজকে আলোকিত করতে আলোর বাতিঘর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে একটি ্য়ঁড়ঃ;বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থার্গায়ঁড়ঃ;। গ্রন্থাগারটি পূর্বে এলাকার বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের ব্যক্তিগত একটি সংগ্রহশালা হলেও বর্তমানে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি গ্রন্থাগার। ্য়ঁড়ঃ;বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থার্গায়ঁড়ঃ; হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে ১.৫ কিলোমিটার পশ্চিমে মুক্তাহার গ্রামে অবস্থিত। গ্রন্থাগারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর। এর পাঠ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তি মেজর (অব:) সুরঞ্জন দাস। গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতার বাড়ির বাংলো ঘরে। অস্থায়ী ভবনে পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ৭নম্বর করগাঁও ইউনিয়নের একমাত্র ও নবীগঞ্জ উপজেলার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনে একমাত্র নিবন্ধনকৃত গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারে মোট বইয়ের পরিমান ৫ শত ৫০ টি এবং এর সদস্য সংখ্যা ১শত ১১ জন। আছে পূর্ণঙ্গ একটি মানসম্মত গঠনতন্ত্রও। পাঠকদের অধিকাংশই হাইস্কুল ও কলেজের ছাত্র। তাই বই পড়তে আগ্রহ বড়াতে সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে না কোনও চাঁদা। শুধু নিয়মিতভাবে বই পড়া ও গঠনতন্ত্রের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখলেই দেয়া হয় সদস্য পদ। বই পড়া কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে ছাত্রদের নিয়ে একটি ্য়ঁড়ঃ;পাঠক ফোরাম্য়ঁড়ঃ; এবং ছাত্র ও স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠন করা হয় ্য়ঁড়ঃ;ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ফোরাম্য়ঁড়ঃ; নামক দুইটি সহযোগী সংগঠন। ্য়ঁড়ঃ;বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থার্গায়ঁড়ঃ; থেকে বছরে একটি সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগীতা, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আগামীতে সেরা পাঠক সম্মাননা, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা এবং গ্রন্থাগারের মুখপাত্র হিসেবে বার্ষিক সংকলন ্#৩৯;মুক্তার্ক্ষ#৩৯; প্রকাশনার পরিকল্পনা রয়েছে পরিচালনা পরিষদের। গ্রন্থাগারটি পরিচালনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম করতে সমূহ ব্যায় ভার বহন করেন গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা। গ্রন্থাগারে বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন করেন সাবেক সংসদ সদস্য জনাব এম.এ মুনীম চৌধুরী বাবু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সহ বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্টজনেরা। গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ১৯ নভেম্বর ২০১৮ ইংরেজি তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রতিষ্ঠানটিকে নিবন্ধন প্রদান করে। গ্রন্থাগারটি বিকাল ৪ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং এতে খন্ডকালীন একজন গ্রন্থাগারিক দায়িত্ব পালন করছেন। আলাদাভাবে একটি ভবন নির্মান করে গ্রন্থাগারটিকে পরিপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তাহার-নবীগঞ্জ সড়কে জমিও রেখেছেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গ্রন্থাগারটি আগামী দিনে আলাদা ভবনে কার্যক্রম চালুসহ সার্বিকভাবে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এ ব্যাপারে গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম পরিচালনায় ও সার্বিক উন্নয়নকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য
Loading...