ফ্রান্সে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ‘অগ্রহণযোগ্য, নির্বোধ ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিচ্ছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতার সফরকালে এক ভাষণে ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এআই দিয়ে ভুয়া ছবি ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে ফ্রান্সের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে উদাহরণ হিসেবে টেনে অভিবাসন নীতি ও প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্স বর্তমানে অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের দ্বারা লুণ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ম্যাখোঁ বলেন, ‘অন্যদের পাশাপাশি তার (ট্রাম্পের) ক্ষেত্রেও এই সমালোচনা প্রযোজ্য।
’ ম্যাখোঁ আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই-নির্মিত এমন সব দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যা ফ্রান্সে কখনোই ঘটেনি। অনেকে দাবি করছে যে অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের দল আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও মিথ্যাচার।
বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া এই নগর সহিংসতার মূল কারণ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, শিক্ষা খাতের উদ্বেগ এবং সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থার অবনতি। এর প্রতিবাদে প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁসহ বড় বড় শহরগুলোতে সপ্তাহব্যাপী তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়, যা একপর্যায়ে পুলিশি সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও দোকানে লুটপাটে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বেশ কিছু অঞ্চলে রাত্রিকালীন কারফিউ এবং জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফরাসি বিচারমন্ত্রী গ্রাল্ড ডারমানিন জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শত শত সন্দেহভাজনকে দ্রুত বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ইউনেফ’ ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন করে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ৫ নভেম্বর বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু জানিয়েছেন, পূর্বের সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে।
এদিকে ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা, সংঘর্ষ ও স্থানীয় কারফিউ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দেশটিতে অবস্থানরত ও নতুন করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে প্যারিসস্থ ভারতীয় দূতাবাস। ভারতীয়দের জনবহুল এলাকা, বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভের স্থানগুলো এড়িয়ে চলার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশাবলী মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন