জেরা করাকালীন অসুস্থ আইনজীবী টি এম আকবরের মৃত্যু

1,056
gb

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাক্ষিকে জেরা করতে থাকাবস্থায় বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি টি এম আকবর হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

পুরান ঢাকার বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে অবস্থিত ঢাকার অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ আদালতে মামলার বিচার চলছে।

ওই মামলার আসামি ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানের আইনজীবী ছিলেন টি এম আকবর।

আজ বৃহস্পতিবার মনিরুল ইসলামের পক্ষে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক নুর আহম্মেদকে জেরা করছিলেন তিনি। এ অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ ডায়েস থেকে নিচে পড়ে যান। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জেষ্ঠ্য আইনজীবীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারক ড. মো. আখতারুজাজামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানি মুলতবি রেখে আগামী ১২ অক্টোবর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে এদিন এ মামলার আরেক আসামি বিআইডব্লিউটি-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।

টিএম আকবরের সহযোগী আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া পরে জানান, চিকিত্সার জন্য তাকে সরাসরি বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাদ আসর ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্টিত হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারম্নন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া চার্জশিটের অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলায় তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক। অন্যরা জামিনে আছেন।