রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কথা চলছে। হাসি-ঠাট্টা হচ্ছে। ঢাবিতে আদৌ পড়েছেন কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পক্ষে-বিপক্ষে বয়ান হাজির করার চেষ্টা চলছে। বিপক্ষদল বিদ্রুপ করতে চায়। পক্ষদল ভর্তি রেজিস্ট্রার দেখিয়ে প্রমাণ করতে চায়। সহপাঠীদের যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় তারেক রহমানের ফাইল কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনিও নেটিজেনদেরকে স্মৃতি জানিয়ে গেলেন। ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর ছাত্রজীবনের অল্পদিনের গল্পের স্মৃতি কেমন ছিল? তরুণদের হৃদয় তা জানতে চায়।
এসবে আমার ইন্টারেস্ট নাই। আমার চোখ বাংলাদেশের কথিত শিক্ষিত পণ্ডিতদের কর্মকান্ডে। এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদরে ব্যবহারে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের অনেকেই চোর, ঘুষখোর। ব্যবহার চাড়াল-চন্ডালের মতো। কাঁচা মিথ্যা বলায় ওস্তাদ। সত্যকে মিথ্যা বানাতে, তোষামোদিতে এমনকি দালালিতে তারা ওস্তাদ লেভেলের লোক। স্তাবকতায় সার্টিফিকেট থাকলে তাতেও তারা দেশসেরা হতো! স্ত্রীকে নির্যাতন করে, গৃহকর্মীকে রেইপ করে, চরিত্র নিলামে তুলে- শিক্ষিতদের মধ্যে এই সংখ্যাটি অশিক্ষিতদের চেয়ে বেশি। এই যে দেশের এতো ক্ষতি, বরাতের বারোটা- এর অধিকাংশ শিক্ষিতদের দ্বারাই হয়েছে। এদের অধিকাংশই আবার বিদেশ থেকে ডিগ্রিধারী! এদেশের অর্থ বিদেশে পাচারের পথঘাট তারাই ভালো চেনে।
দুর্নীতিবাজদের তালিকা পড়ুন- প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত। ঋণখেলাপীদের অধিকাংশই সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী। ঘুষখোর, চোরাকারবারি, দুর্নীতিবাজ এবং মজুদদারি - সর্বত্রই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতদের রমরমা বিচরণ। নারীকে হেয় করা, অধীনদের অপমান করা, অন্যের নামে পরচর্চা করা কিংবা সহকর্মীদের ক্ষতি করাতে যাদের নাম অগ্রে আসে তারা উচ্চমার্গের শিক্ষিতই বটে। দেশ নিয়ে যত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, দেশের স্বার্থ বিক্রি করা, ভিন্ন দেশের এজেন্ডা নিজের দেশে বাস্তবায়ন করা- এসবে যাদের নাম জড়িত তাদের কাউকে কম শিক্ষিতের তালিকায় পাওয়া যায় না। স্বার্থ হাসিলে জন্য স্ত্রী-কন্যাকেও যারা বিক্রি করে দিতে পারে, দেশের সার্বভৌমত্ব যাদের দ্বারা অনিরাপদ হয়ে ওঠে কিংবা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা যাদের চালচলনে ব্যাহত হয় তারাও কথিত শিক্ষিতই বটে। তবে মজার ব্যাপার, আরও কিছু শিক্ষিত মানুষ দেশটাকে ঠিক রাখতে জীবন বাজি রাখে। স্যালুট তাদেরকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাবি থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নাই। তবে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে কারো বংশের তালিকা ধরে বিষোদগার করেন না। বক্তৃতার মঞ্চেও কাউকে অপমান করেন না। স্ত্রী'র মাথায় ছাতা ধরতে ভুলেন না। কন্যাকেও সময় দিতে ভুল হয় না। যে মানুষটি প্রধানমন্ত্রী হয়েও বড়দেরকে শ্রদ্ধা করতে, ছোটদেরকে স্নেহ দিতে কার্পণ্য করেন না- সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষার চেয়েও ব্যক্তিত্বের এই শিক্ষাকে আমার কাছে অনেক বড় কিছুই মনে হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এই সংস্কৃতি অনুপস্থিত ছিল। যা তারেক রহমান আবার ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন বলে দৃশ্যমান।
দীর্ঘ পরবাস জীবন থেকে জনাব তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার পরের প্রায় প্রত্যেকটি মুভমেন্ট অবজারভেশনের চেষ্টা করেছি। কখনোই ক্ষমতাকে বড় করে দেখতে দেখেনি। তিনি মানুষকে বড় করে দেখার বোধ নিয়ে এসেছেন। ছোট-বড় কত মানুষকে কাছে ডেকেছেন, কথা বলেছেন, হাত মিলিয়েছেন। সমালোচকগণ বলছে, এসব ভোটের হিসাব! তাদেরকে বলতে ইচ্ছা করে, যদি এসব নিছক ভোটারদের মন জয় করার জন্যেও হয় তবুও যেন দেশের সব রাজনীতিবিদ এটাই অনুসরণ করে। সাধারণ মানুষ আসলে সম্মান চায়। ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা সব আমলে যার যারটা নিজেকেই করতে হয়েছে। কেউ একজন বলেছিল, কেউ যদি দেশান্তরীণ হতেও বাধ্য হয় তবে সে যেন বিশ্বের কোনো এক সভ্য দেশে সময় কাটায়। তাতে অন্তত ভালো কিছু শেখার সুযোগ হবে।
বয়সের ফ্রেমে সাতান্নোর্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাতাশ বছরের তরুণদের আদর্শ হয়ে উঠছেন- এটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। দেশের সামর্থ্য ও সীমানার ষড়যন্ত্রের জন্য সরকারের পথচলা ততটা সহজ হবে না, জনগণের সবপ্রত্যাশা পূরণও সম্ভব হবে না তবে প্রধানমন্ত্রী যে সজ্জন রাজনীতি শুরু করেছেন তা বিবেকবানদেরকে আশাবাদী করে তুলছে। সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষিত-অশিক্ষিতের যে বিতর্ক দিয়ে চারদিকে কালিমা লেপনের চেষ্টা চলছে তা অশিক্ষিত বিবেকের প্রসাধন। প্রকৃতার্থে শিক্ষিতজন এই কু-বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কথিত কতিপয় সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিতদের চেয়ে বহুগুণ ভালোকাজ করে চলছেন। ব্যবহারেই তার পরিচয় দিচ্ছেন।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন