টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও তার অংশীদার সংস্থাগুলো শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় পরিবারের ভিতরে ঘটে যাওয়া অপরাধের তদন্ত ও সুরক্ষায় “উচ্চাকাঙ্ক্ষী” এবং “শক্তিশালী” অংশীদারিত্ব গড়ে তোলায় প্রশংসিত হয়েছে।
একটি যৌথ লক্ষ্যভিত্তিক এলাকা পরিদর্শন (জয়েন্ট টার্গেটেড এরিয়া ইন্সপেকশন বা সংক্ষেপে জেটিএআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের কণ্ঠস্বর অর্থাৎ তাদের বক্তব্য তদন্ত প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে পরিবারের ভিতরে শিশু যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে বহু-সংস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই জেটিএআই পরিদর্শন ২০২৬ সালের ৯ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনটি পরিচালনা করেন অফস্টেড, কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন (সিএকিউসি), হিজ ম্যাজেস্টির ইন্সপেক্টরেট অব কনস্টেবুলারি অ্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসেস (এইচএমআইসিএফআরএস) এবং হিজ ম্যাজেস্টির ইন্সপেক্টরেট অব প্রোবেশন (এইচএমআইপি)-এর পরিদর্শকরা।
স্কুল অফস্টেড পরিদর্শনের মতো এই পরিদর্শনে কোনো গ্রেডিং (যেমন: আউটস্ট্যান্ডিং, গুড) দেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে ইতিবাচক কাজের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে এবং উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও তার অংশীদারদের প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
“শিশুদের কণ্ঠস্বর প্রায় সবসময় অনুশীলনের কেন্দ্রে রাখা হয়। এই জটিল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, অনুশীলনকারীরা শিশুদের নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করাতে সফলভাবে কাজ করেন। দক্ষ সম্পর্কভিত্তিক কাজ প্রায়শই খুব সফলভাবে শিশুদের চাপ ছাড়াই তাদের আবেগীয় চাহিদা প্রকাশ করতে সাহায্য করে। অংশীদার সংস্থাগুলোর কর্মীরা পেশাদারী সম্পৃক্ততার আবেগীয় প্রভাব সম্পর্কে সংবেদনশীলতা দেখিয়েছেন, বিশেষ করে প্রাথমিক সুরক্ষা কার্যক্রমের সময়।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: “টাওয়ার হ্যামলেটস একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী বহু-সংস্থার সুরক্ষা অংশীদারিত্ব, যেখানে স্থানীয় বৈচিত্র্যময় কমিউনিটিসহ শিশুদের দ্বারা অনুপ্রাণিত স্পষ্ট অগ্রাধিকার রয়েছে। নেতৃত্ব শিশু যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা বা ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য সেবার কার্যকারিতা সম্পর্কে দৃঢ় ধারণা রাখেন।”
প্রতিবেদনে সংস্থাগুলোর মধ্যে “শক্তিশালী যোগাযোগ”, ভাগাভাগি করে শেখা, প্রতিফলিত অনুশীলন এবং সামাজিক যত্ন, শিশু ও কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য সেবা (সিএএমএইচএস) এবং যৌন নির্যাতন রেফারেল সেন্টারে শিশু যৌন নির্যাতন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানেরও প্রশংসা করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের মান আরও উন্নত করা এবং অংশীদারিত্ব মিটিংয়ের মিনিটস ও অ্যাকশন পয়েন্টগুলো দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করা।
কাউন্সিল ও তার অংশীদার সংস্থাগুলো উন্নয়নের এসব ক্ষেত্র মোকাবিলায় একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করবে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “বরাতে শিশু নির্যাতনের সব অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকি। প্রতিবেদনে কাউন্সিল ও আমাদের অংশীদারদের টিমের ভালো অনুশীলনের অনেক উদাহরণ তুলে ধরায় আমি গর্বিত। যেসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন, সেখানে আমরা কঠোর পরিশ্রম করব এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা শিগগিরই এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।”
ডেপুটি মেয়র এবং এডুকেশন এন্ড লাইফলং লার্নিং বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার বলেন, “পরিদর্শনে এত বড় প্রশংসা পাওয়ায় আমাদের টিম ও অংশীদারদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করব, যাতে বরাতে শিশু যৌন নির্যাতন মোকাবিলায় আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারি।"
তিনি আরো বলেন, "এই সর্বশেষ অংশীদারিত্ব পরিদর্শন আমাদের উচ্চমানের স্থানীয় অনুশীলনের আরেকটি প্রমাণ। এটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘আউটস্ট্যান্ডিং’ রেটিংপ্রাপ্ত আইএলএসি পরিদর্শন এবং ২০২৫ সালের জুনে ইতিবাচক এসইএনডি (SEND) পরিদর্শনের উপর ভিত্তি করে আরও এগিয়ে যাবে।”
বার্টস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্টের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ শেন ডি গ্যারিস বলেন, “শিশু সুরক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। এই প্রতিবেদন টাওয়ার হ্যামলেটসে অংশীদারিত্বের শক্তিকে তুলে ধরেছে। এনএইচএস কর্মীদের অবদানে আমি গর্বিত। তাদের সহানুভূতিশীল ও দক্ষ কাজের মাধ্যমে শিশুরা শোনা, সুরক্ষিত ও সহায়তাপ্রাপ্ত হয়। অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা সেবা আরও শক্তিশালী করতে পারব এবং শিশুদের জন্য ফলাফল উন্নত করতে পারব।”
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন