আনসার আহমেদ উল্লাহ //
লন্ডন, ২০ এপ্রিল: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দলটির কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। গত ১৬ এপ্রিল পূর্ব লন্ডনের একটি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির এমপি রুশনারা আলী ও ডন বাটলারসহ স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম এবং সকল কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত ইশতেহারে মোট ২৫টি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সুশাসন, আবাসন, শিক্ষা, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সুশাসন ও আর্থিক স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে লেবার পার্টি যথাযথ শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পূর্ববর্তী ব্যর্থতা সংশোধন এবং স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করেছে। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম দুই বছর কাউন্সিল ট্যাক্স স্থির রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আবাসন খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ সামাজিক আবাসন নির্মাণ বা পুনঃক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ১০,০০০ পরিবারকে সহায়তা করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো আবাসন আধুনিকীকরণ এবং হাউজিং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রাথমিক স্তর থেকে জিসিএসই পর্যন্ত ইংরেজি ও গণিতে টিউশন সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনামূল্যে স্কুল মিল বজায় রাখা এবং শিক্ষা ভাতা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুব সেবা ও শিশু উন্নয়নে বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে পাড়াভিত্তিক পুলিশিং জোরদার, সিসিটিভিতে বিনিয়োগ, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি এবং পুনর্ব্যবহার কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগেও জোর দেওয়া হয়েছে। সমাজ ও কল্যাণের অংশ হিসেবে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে গৃহসেবা চালু রাখা, দারিদ্র্য দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী মেলা, ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণসংলাপ এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ‘মেয়রকে জিজ্ঞাসা করুন’ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা তাদের সমর্থন জানাবেন এবং দলটি বিজয়ী হবে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন