জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
সিলেটে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু হচ্ছে। ‘মার্চ ফর বিমান’ নামের এই আন্দোলনে কাজ না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দুটি সংগঠন। আপাতত তারা হেঁটে যাবেন সিলেট বিমান অফিসে এবং সেটি ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট স্থগিতকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন।
বিমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিমানের বিরুদ্ধে অতীতেও প্রচুর আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে।
এবার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বিমানের সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট স্থগিত করাকে কেন্দ্র করে। গত কিছুদিন ধরেই বিমান লোকসানের অভিযোগে সপ্তাহে দু’দিনের এই ফ্লাইটটি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর প্রতিবাদ হচ্ছে সিলেট এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে। দেশের টানে যারা সিলেট এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করেন তাদের জন্য এই ফ্লাইটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানের কর্তারা যদিও ফ্লাইটটিকে লোকসান হিসাবে দেখাচ্ছেন, তবে তা মানতে রাজি নয় প্রবাসীরা।
তাদের মতে, বিমানের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সিলেট বিদ্বেষী একটি মহল যুগযুগ ধরে সিলেটের প্রবাসীদের হয়রানি করতে তুচ্ছ অজুহাতে এমনসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এ অঞ্চলের যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা।
তারা বলছেন, সিলেট-ম্যানচেষ্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট শুরু হয় ২০২০ সালে। শুরু থেকেই এটি একটি লাভজনক রুট। সপ্তাহের রবি ও মঙ্গলবার এ রুটের ফ্লাইটে ভ্রমনকারী সিলেটবাসী মাত্র ১২/১৩ ঘন্টায় ম্যানচেষ্টার বা সিলেট পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু এ ফ্লাইট বন্ধ হলে সেটা ২২ থেকে ২৪ ঘন্টা লাগবে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের।
প্রবাসীদের পক্ষে দেওয়া এক তথ্যে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট- ম্যানচেস্টার রুটে বিমান প্রায় ৩৮ হাজার যাত্রী পরিবহণ করেছে। টিকিটের জন্য চলে কাড়াকাড়ি। ৭/৮শ’ পাউন্ডের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫শ’ পাউন্ডে। অথচ বিমান বলছে- রুটটি অলাভজনক! এটা স্রেফ সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের হয়রানির জন্যই করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
আর তাই তারা মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ওই দিন সকাল ১১টা থেকে নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে জড়ো হয়ে তারা শুরু করবেন ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি।
এরপর তারা সিলেটের আম্বরখানাস্থ বিমান অফিসের সামনে গিয়ে অফিসটি ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তারা কতসময় সেখানে অবস্থান করবেন এ বিষয়ে পরিস্কার কিছু বলেন নি।
এই কর্মসূচি পালনের পরেও যদি বিমান বা সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে পরে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তাদের এই কর্মসূচি সফলে সিলেটের সচেতন প্রতিটি নাগরিকের সহযোগীতা চেয়েছেন প্রবাসীরা।
রবিবার সিলেটে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থান ও আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর’স ফোরাম’র নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর এম জুনেদ আহমদ. সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান ও ওল্ডহাম বিএনপি’র প্রতিষ্টাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, বৃটিশ-বাংলাদেশী প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আখি রহমান।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন