উদ্ধার হওয়া সেই লাশ বৃষ্টির, লিমনের লাশ দেশে আসবে ৪ মে

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে যে লাশ উদ্ধার করেছিল, সেটি নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডার পুলিশ। 

 

শুক্রবার (১ মে) বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় লাশটি বৃষ্টির। 

 

জানা গেছে, বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ‍্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ‍্যমে বৃষ্টির লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে।

 

অপরদিকে জামিল আহমেদ লিমনের লাশ ফ্লোরিডার অরল‍্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২ মে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, দুবাই হয়ে লাশ ঢাকায় পৌঁছাবে ৪ মে।

 

বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। এর আগে তিনি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন।

 

গত ১৬ এপ্রিল লিমনের টাম্পার বাসা থেকে তাকে সর্বশেষ দেখা যাওয়ার পর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার বাসা থেকেই নাহিদার লাশের নমুনা সংগৃহীত করা হয়। 

 

এদিকে লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশামকে গ্রেফতারের পর তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন আদালত। তারা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে টোয়েন্টিএইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার পর কীভাবে লিমনের লাশ পলিথিনের ট্র্যাশ ব্যাগে ভরে ফেলে আসা হয়েছে তার বিবরণ উঠে এসেছে আদালতের নথিতে।

 

এ জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তদন্তকারীদের দাবি, তার বাসার ভেতরেই দুজনকে হত্যা করা হয়। পরে শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষ্য ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেখা যায়, হিশাম আবুগারবিয়েহ ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ক্লিনিং সরঞ্জাম দিয়ে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করেন এবং আগে থেকে কিনে রাখা বড় কালো আবর্জনা ফেলার পলি ব্যাগে লিমনের লাশ ভরে ফেলেন। পরে লাশটি ব্রিজের উত্তর পাশে ফেলে আসা হয়।

 

গোয়েন্দারা যখন কালো রঙের ওই ভারি আবর্জনা ফেলার ব্যাগ খুঁজে পান, তখন সেখান থেকে পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

 

আদালতের নথিতে বলা হয়, আবুগারবিয়েহ নিহত দুজনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্র্যাশ কম্প্যাক্টরে (আবর্জনা বা বর্জ্যকে সংকুচিত করে ফেলার বৈদ্যুতিক যন্ত্র) ফেলে দেন। সেখানে যে রক্তের নমুন পাওয়া গেছে, তাতে বৃষ্টি ও লিমন দুজনের উপস্থিতির বিষয়েই নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।

 

লোকেশন ট্র্যাক করে লিমন ও বৃষ্টির মোবাইল ফোনের কাছাকাছি এবং লিমনের মরদেহ ফেলে আসার স্থানে হিশামের ফোনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এমনকি ওই ফোনের মাধ্যমেই তিনি অনলাইনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কিনেছেন

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন