যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকার সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ ঘোষণা করেছে। এর অর্থ হলো, নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশটিতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।
মূলত উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই হামলাকে একটি সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে দেখছে।
তবে সরকার জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই একটি ঘটনাই নয়, বরং দেশজুড়ে চরমপন্থী (ইসলামপন্থী ও অতি-ডানপন্থী) তৎপরতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত হুমকির কারণেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর আগে ম্যানচেস্টারের সিনাগগের বাইরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাগুলো জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শুধু ব্যক্তি নয়, বরং ইহুদি দাতব্য সংস্থার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন শত্রু রাষ্ট্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়দের উস্কানি ও অর্থ প্রদানের মাধ্যমে এই সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকার এখন ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় অতিরিক্ত ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ ও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনসহ কঠোর আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া লন্ডনসহ সারা দেশে রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সশস্ত্র অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে। ঘৃণা প্রচারকারীদের দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং ইহুদি-বিদ্বেষ ছড়ানো দাতব্য সংস্থাগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, তবে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন।
সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন