আওয়ামী লীগের ইশতেহার ঘোষণা।। নগর সুবিধায় গ্রাম হবে শহর

264
gb
# সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা।।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ অঙ্গীকার নিয়ে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচেনের ইশতেহার ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৮০ পৃষ্ঠার এই ইশতেহারে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থান, গত দুই মেয়াদে সরকারের সাফল্য এবং আগামী দিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংসদ আব্দুর রাজ্জাক। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ছাড়াও কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগের ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার এসেছে, তার শুরুতেই রয়েছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থান নিশ্চত করার প্রতিশ্রুতি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, জামায়াত ইসলামের ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের রাজনীতি করা মানুষগুলোর ইচ্ছাকৃত উস্কানিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বারবার আক্রান্ত হয়েছে দেশে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘রামুর বৌদ্ধমন্দিরে হামলা, সাতক্ষীরায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এমন অঘটন এড়াতে এবং সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দানে সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।’ এ ছাড়াও সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক সকল আইন ও অন্যান্য অন্যায় ব্যবস্থাপনার বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। নিজের ও দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসী আপনাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।”

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”

তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ ‘টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ‘কথা নয়, কাজে’ বিশ্বাস করে।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ।

“বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে।“

গৌরবের এই সময়কালে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ‘গ্লানিকর’ হবে বলেও মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা।

সকাল ১০টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রকাশের অনুষ্ঠান। শুরুতেই আওয়ামী লীগের শাসনমালের উন্নয়ন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।