গাইবান্ধা-৫ দির্ঘদিন পর বিএনপিতে এবার শক্ত প্রার্থী

135
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা //

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এবার নিয়ে টানা ৭ বারের এমপি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। বিগত দিনে তার সাথে কোমড় বেধে লড়ার মত অন্যদলে তেমন কোন শক্ত প্রার্থী না থাকায় বেশ সহসাই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারে ভিন্ন। কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সভাপতি ফারুক আলম সরকার বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন চেয়েছেন। তার মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টাও নিশ্চিত। দলীয় নেতৃত্বে বিগত ৪০ বছর পর বিএনপি এমন শক্ত প্রার্থী পাওয়ায় নেতাকর্মি সহ সাধারন সমর্থকরাও বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। দু উপজেলার সর্বত্রই এখন ফারুক আলমের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ১৯৭৯ সালের পর কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় নৌকা ঠেকানোর নামে বাধ্য হয়েই এখানকার বিএনপির সমর্থকরা লাঙ্গলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে জাপা এরশাদের প্রার্থী বেগম রওশন এরশাদ এমপি নির্বাচিত হন। এবারও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জাপার সভাপতি গোলাম শহীদ রন্ধসঢ়;জুকে প্রার্থী করার দাবি ওঠে লাঙ্গল সমর্থকদের মাঝে। জে¦ার লবিংও করেছেন তিনি। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকার টিকিট পেয়েছেন অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। তবে বিষয়টি ভিতরে ভিতরে মেনে নিতি পারছেন না জাপার সমর্থকরা। লাঙ্গলের সমর্থক বোনারপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী জানান, এবার বিএনপির ধার শোধ করার পালা। যেহেতু লাঙ্গলের প্রার্থী নেই, তাই ভোট কোন দিকে যাবে তা নিজের মতো করেই ঠিক করা হবে বলে জানালেন, আরেক সমর্থক নজরুল ইসলাম। অপরদিকে এখানে এতদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি মুলত দুই ধারায় বিভক্ত ছিলো। প্রভাবশালী দুই নেতার দ্বন্ধেসঢ়;দ্ব ফুলছড়ি ও সাঘাটায় নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এরইমধ্যে এক নেতা বর্তমান সাংসদ ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় হতাশ আরেক পক্ষ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনের সমর্থকরা। ভোটের মুখ্য সময়ে তারা একত্র হতে পারবে কিনা তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিজ এলাকা হওয়ায় সাঘাটার দক্ষিণ এলাকায় রিপনের বেশ জনপ্রিয়তা আছে। আবার একই এলাকার বাসিন্দা বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী ফারুক আলম সরকার। রিপনের সমর্থকরা এলাকার টান হিসেবেও দল মত নির্বিশেষে এলাকার প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকার ইস্যুকে কাজে লাগাতে চান ফারুক আলম সরকার। ইতোমধ্যে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নতুন চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। যোগদান করেই এ আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন। গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক ডা: মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ফারুক আলম ছাড়াও তার নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। দলের জন্য এটি একটি ইতিবাচক দিক। এদিকে হঠাৎ করে ফারুক আলমের বিএনপিতে যোগদান ও বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে চায়ের টেবিল সহ সর্বত্রই আলোচনার ঝড় উঠেছে। তার মনোনয়ন নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মইন প্রধান লাবু সহ অনেকে। তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, ইতোপুর্বে ফারুক আলম দুই উপজেলায় অগভীর নলকুপ, স্যানিটেশন ও ছাতা বিতরণ ছাড়াও নানা সামজিক কর্মকান্ডের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি বিএনপি-জামায়াত ছাড়াও অন্যান্য দলের সমর্থন পাবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জোট-মহাজোট, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও নানা পালাবদলের কারণে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের পাল্লাটাই ভারী হয়ে উঠছে। সুষ্ঠু ভোট হলে এবার ধানের শীষের ভাগ্য খুলে যাবে বলে মনে করছেন অনেকে। গাইবান্ধা-৩ আসনে দিলারা খন্দকার শিল্পীর মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর- পলাশবাড়ি) আসনে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী সোমবার পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল ইসলামের কাছে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় সাদুল্ল্যপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হিরু সাধারণ সম্পাদক মো: রেজা মিয়া, পলাশবাড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিএসসি, সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ আলী মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ওসমান গনি দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর করিম প্রধান, পলাশবাড়ি জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি মো: এনামুল খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক নাশিদ সরকারসহ পলাশবাড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।