একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমস্যা হচ্ছে উগ্রবাদ ও দেশী-বিদেশী ষঢ়যন্ত্র হাউজ অব কমন্সে ইবিএফ আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা

161
gb

লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরীঃ সকল দলের অংশ গ্রহনে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে উগ্রবাদ এবং দেশী-বিদেশী ষঢ়যন্ত্র। এসব বিষয়ে সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সচেতন নাগরিকদের আরো সতর্কতা অবলম্ভন করতে হবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে ‘‘পার্লামেন্টারী ডেমক্রেসী ইন বাংলাদেশঃ চ্যালেঞ্জিং রেডিক্যালিজম এন্ড ওয়েফরওয়ার্ড’’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকবৃন্দ এঅভিমত ব্যক্ত করেন। আলোচকবৃন্দ বলেন ২০১৮সালের শেষে বা ২০১৯ সালের শুরুতে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের মিত্র জামাতে ইসলামী এবং অন্যান্য উগ্রবাদী সংগঠন গুলোর একগুয়েমী দাবী থেকে সরে না আসলে কোন অবস্থাতেই সুষ্টু নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছেন বর্তমানে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে এমন রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যদের নিয়ে সংবিধানের আলোকে একটি অন্তবর্তিকালীন সরকার গঠন করা হবে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের উপর সরকারের কোন প্রভাব থাকবেনা। একই বক্তব্য সংসদে প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিরও। আলোচকরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচান এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও লক্ষ্য করা গেছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামাতে ইসলামী সহ উগ্রবাদী সংগঠন গুলোর প্রত্যক্ষ মদদে দেশেরে বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হত্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে, নির্বাচন পূর্ব এবং পরবর্তিতে উগ্রবাদী সংগঠন জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যদের দ্বারা এবং তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপির প্রত্যক্ষ মদদে দেশব্যাপী হরতাল অবরোধের নামে বাসে, ট্রেনে অগ্নি সংযোগ, জাতীয় সম্পদের ক্ষতি সাধান এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্জলে হিন্দু মেয়েদের ধর্ষন, হিন্দু সম্প্রদাদের ব্যবসা বানিজ্য এবং বাড়ীঘরে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য। এসব অমানবিক ঘটনার কোনটিরই বিচার হয়নি। এসব বিষয়ে সরকার এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলসমূহ এবং প্রার্থীদের আরো সচেতন হবে হবে। সেই সাথে সকলে যাতে অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরো সচেষ্ট হতে হবে। গতকাল ২৫ অক্টোবর বৃহস্প্রতিবার হাউজ অব লর্ডসের কমিটি রোম ওয়ানে লর্ড পল বিউয়ের আমন্ত্রমে এবং ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইবিএফ) আয়োজিত সেমিনারে অনুষ্টানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইবিএফ লন্ডন সাপ্টারের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমেদ উল্লাহ, কীনোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান, আলোচনায় অংশ নেন ড. সেগফিল্ড ওল্প জার্মান পলিটিশিয়ান সাইনটিষ্ট ও গবেষক সাউথ এশিয়া ইন্সটিটিউট ইউনিভারসিটি হ্যাডবার্গ জার্মনী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মি শাহরিয়ার কবীর, মিস রোবেরতা বোনারর্জি ফাউন্ডার এন্ড প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউরোপীয়ান ফাউন্ডেশন ফর ডেমক্রেসী এন্ড ওয়ার্ক উইথ কাউন্টার টেররিজম প্রজেক্ট (সিইপি) হেড অব ব্যাসেল্ধসঢ়;স চাপ্টার, সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী জিম ফ্রিজপেট্রিক এমপি ভাইস চেয়ার অল পার্টি পার্লামেন্টারী গ্রæপ অন বাংলাদেশ, মার্টিন ফার্মপটন কুইন মেরী ইউনিভারসিটি লন্ডন। লন্ডন সময় বিকেল তিনটা থেকে চারটা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত দেড়ঘণ্টা ব্যাপী এই সেমিনারে বৃটেনে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের সকল বক্তাই তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেন বাংলাদেশে উন্নয়ন, উগ্রবাদ প্রতিরোধ ও সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সরকার, সংসদের প্রধান বিরোধী জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্য দলসমূহকে সংবিধানের আলোকে আরো নমনীয় হতে হবে সেই সাথে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সব রাজনৈকি দল সমূহকে আরো সচেষ্ট হতে হবে। অনুষ্টানের শেষ পর্বে দর্শক সাড়ি থেকে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন মিঃ লাকুহান, জাকারিয়া আহমদ, অজয়ন্তা দেব রায়, প্রীয়জিত সরকার।