জাতীয় উন্নয়নের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে ‘শিশু উন্নয়ন’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার -জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

188
gb

 হাকিকুল ইসলাম খোকন , নিউইয়র্ক,  :

“বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে ‘শিশু উন্নয়ন’কে স্থান দিয়ে শিশুদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার” -আজ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চলতি ৭৩তম অধিবেশনের তৃতীয় কমিটিতে ‘শিশু অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ‘শিশু উন্নয়ন’কে বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “আমরা শিশুদের জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি যার ফলে আমাদের শিশুরা তাদের সকল সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারছে”। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার ২০১০ সাল হতে সফলতার সাথে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছে আর এ বছর ৪৩.৭৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ৩৪৫.৯২ মিলিয়ন বই যা সম্ভবত বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের ক্ষেত্রে বিশ্বে সর্বোচ্চ”। স্থায়ী প্রতিনিধির বক্তব্যে উঠে আসে প্রাথমিক থেকে শুরু করে ¯œাতক শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২০.০৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া হ্রাস ও শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তিসহ শিশু উন্নয়নে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা। জাতিসংঘ মহাসচিবের রিপোর্টে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা সেবা পৌঁছাতে নৌকায় স্কুল স্থাপন ও ভ্রাম্যমান শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়গুলো তুলে ধরায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি। বর্তমান সরকার মিয়ানমার থেকে জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্যও শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে মর্মে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। রাষ্ট্রদূত মাসুদ তাঁর বক্তব্যে সরকার প্রণীত শিশু বিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০১৭ এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০১৮-২০৩০ সময়ের মধ্যে শিশু বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নিরোধ করতে বর্তমান সরকার আইনটিকে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার স্থান দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে নানাবিধ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, সরকার শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন রোধে আইন প্রনয়ন, সারা দেশে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন, ২৪ ঘন্টা টেলিফোনিক হেল্পলাইন, মোবাইল অ্যাপস ও জাতীয় তথ্য ভান্ডার প্রতিষ্ঠা করেছে। রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদেরকেও তাঁদের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে একই ধরণের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তৃতীয় কমিটির শিশু অধিকার বিষয়ক এই ফলপ্রসূ আলোচনায় বিশেষ করে শিশুদের প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নৃশংসতা ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ‘শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত’ ও ‘শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধিদ্বয়কে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। আগামীকাল ১১ অক্টোবর বিশ্ব নারী শিশু দিবসের প্রাক্কালে শিশু উন্নয়ন ও শিশু অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের পূর্ণ প্রতিশ্রæতির পূনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।