ব্রিটেনে ‘গাড়ি হামলাকারীকে’ জিজ্ঞাসাবাদ করছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড

273
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সামনের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ধাক্কা দেওয়া গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সন্ত্রাস বিরোধী কমান্ড।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঙ্গে একটি গাড়ি ধাক্কায় বেশ কয়েকজন পথচারী আহত হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যকে উদ্ধৃত করে আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ বলছে, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলটি ঘেরাও করে রাখে।

এই ঘটনায় অন্তত ৩ জন আহত হন। সশস্ত্র পুলিশ তৎক্ষণাত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটকের সময় খুবই শান্ত ছিলো চালক। তাকে হাতকড়া পড়িয়ে লন্ডনের দক্ষিণের একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ‍সহকারী কমিশনার নিল বাসু এই ঘটনার তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, আটককৃত ব্যক্তি পুলিশকে সহায়তা করছে না। তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে হামলাকারীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা। তবে তিনি এ বিষয়ে আমাদের সহায়তা করছে না। বাসু বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনও গোয়েন্দা তথ্য নেই। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এটা ইচ্ছাকৃত হামলা মনে হচ্ছে।’

ঘটনার বিস্তারিত বলতে গিয়ে বাসু বলেন, ‘স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে একটি রুপালি রংয়ের ফর্ড ফিয়েস্তা গাড়ি সাইকেল ও পথচারীদের ধাক্কা দিয়ে পার্লামেন্ট হাউসের বাইরের দেওয়ারে আঘাত আনে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরমধ্যে একজন নারী এখনও চিকিৎসাধীন। আরেকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামলার পর ব্রিটিশ সরকারের কোবরা এমারজেন্সি কমিটি বৈঠকে বসে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, ‘ঘটনায় হতাহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। আমি তাদের সঙ্গে আছি। একইসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমি।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ও লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও জরুরি সার্ভিসের প্রশংসা করেছেন। গত বছর লন্ডনে সিরিজ সন্ত্রাসী হামলার পর এই ঘটনাকে বড় ধরনের হুমকি বিবেচেনা করা হচ্ছে। সেজন্য পার্লামেন্ট হাউসের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত বছর মার্চে এখানে এক গাড়ি হামলায় চারজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই হামলা চালিয়েছিলেন আইএস অনুপ্রাণিত খালিদ মাসুদ নামে এক ব্রিটিশ। গাড়ি হামলার পর ছুরিকাঘাতে এক পুলিশকেও হত্যা করেন তিনি।

মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলিভাবেই চিন্তা করছেন। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কিছু বলছেন না।

লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবারের হামলার পর তারা দুইজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আরেকজন হালকা আঘাত পেয়েছেন।

হামলার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনও হামলার পর এমন দৃশ্য খুবই স্বাভাবিক। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানায়, তারা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস টহল পুলিশ বাড়াচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তারা গাড়িটিকে অনেক গতিতে চলতে দেখেছেন। একজন বলেন, ‘এটা ইচ্ছাকৃত মনে হয়েছে, দুর্ঘটনা মনে হয়নি। গাড়ির ছাদ থেকে ধোঁয়াও উঠতে দেখা গেছে।

ব্যস্ততম সময়েই এই ঘটনাটি ঘটে। ওয়েস্টমিনিস্টার স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পার্লামেন্টে কোনও এমপিও যাচ্ছেনা না। ২০১৭ সালে পার্লামেন্টের সামনে হামলার পরই লন্ডনে সতর্কাবস্থা জারি। মার্চে ওয়েস্টমিনিস্টারে হামলার পর মে মাসে আরিয়ানা গ্রান্দের কনসার্টে হামলায় নিহত ২২ জন। এছাড়া জুনে লন্ডন ব্রিজের কাছে গাড়ি হামলাতেও প্রাণ হারান আটজন।