ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় কয়েক ঘণ্টায় পদ্মায় বিলীন স্কুলসহ আট বাড়ি

168
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আটটি বাড়ি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে সদর ইউনিয়নের ফাজিল খাঁর ডাঙ্গি গ্রামে।

বিলীন হয়ে যাওয়া স্কুলটির নাম ফাজিল খাঁর ডাঙ্গি সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একইসঙ্গে ওই স্কুলের আশেপাশে আরো আটটি পরিবারের বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বিলীন হয়ে যাওয়ার বাড়ির মালিকরা হলেন, মোতালেব মুন্সী, ইউসুফ পাট্টাদার, খোকন মোল্লা, চুন্নু মোল্লা, ইদ্রিস মোল্লা, আলীম শেখ ও স্বপন শেখ।

এক সময় দুই একর ফসলি জমি এবং নারকেল ও আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
চরভদ্রসন সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ফাজিল খাঁর ডাঙ্গি এলাকায় পদ্মা নদী রুদ্ররূপ ধারণ করে। স্কুলসহ একে একে আটটি বসতবাড়ি ফসলি জমি ও গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিনি বলেন, এ স্কুলটি রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই দফা বালির বস্তা ফেললেও তা কোনো কাজে আসেনি।

ফাজিল খাঁর ডাঙ্গি সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর এ স্কুলটি স্থাপন করা হয়। ১৯৯৩ সালে শিক্ষা চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকৌশল বিভাগ চার কক্ষ বিশিষ্ট এ ভবনটি করে দিয়েছিল। ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৯৭ জন এবং শিক্ষক আছেন পাঁচজন।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে বিদ্যালয়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা পাকা ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তিনি বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, পাঠদান চালু রাখার জন্য আমরা বিকল্প খোঁজ করছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিবপদ দে জানান, বিলীন যাওয়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিকল্পভাবে চালু করার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব না। অপর পাড়ে চর পড়ায় নদীর স্রোত সরাসরি ওই পয়েন্টে হিট করায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে একনেকে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।