শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

192
gb

জিবি নিউজ 24ডেস্ক//

শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। জ্বালানি সংকটে পড়ে গতকাল রবিবার (২২ জুলাই) রাত ১০টা ২০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

এর আগে খনির উৎপাদিত কয়লার মজুদ ও বিক্রয়ের মধ্যে বড় ধরনের তারতম্য ধরা পড়ে। এর পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিকটন। যার মূল্য ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরির ঘটনায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে সিস্টেম লসের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক অর্থ মো. তোফায়েল আহম্মেদ ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং আপারেশন) ডি এম জোবায়ের।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (পনিং অ্যান্ড এক্সপেরেশন) ও প্রকল্প পরিচালক (উত্তর-দক্ষিণ খনি সম্প্রসারণ প্রকল্প) এ বি এম কামরুজ্জামান গতকাল রবিবার জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য আবু সাঈদ গত ১৮ জুলাই কয়লা খনি পরিদর্শনে এলে কয়লা মজুদের পরিমাণে গরমিলের খবর প্রথম প্রকাশ পায়।

এ ছাড়া একইদিন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেছিলেন, খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চত্বরের কয়লার মজুদ ক্রমে শূণ্যের কোঠায় পৌঁছাতে থাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি রবিবার যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে খনির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়লা শুরু হয় ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ জুন থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ১২১০ নম্বর ফেইজের কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৬ জুন থেকে ১৩১৪ ফেইজের উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়।

কয়লা মজুদের তারতম্য প্রসঙ্গে প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন বলেন, ‘প্রথম থেকেই ইয়ার্ডের কয়লার প্রকৃত মজুদ ও রেজিস্ট্রারে তোলা কয়লা মজুদের হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করা হয়নি। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ কয়লার সিস্টেম লস এ হিসাবের আওতায় না নেওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’