সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ইউকের আল্টিমেটাম গেজেট প্রকাশ করুন,

না হয় যুক্তরাজ্য থেকে বৃহত্তর আন্দোলন ঢাবি ভিসির পদত্যাগ দাবী

343
gb

আবদুল্লাহ আল মামুন ||

এম আবদুর রহিম:
কোটা পদ্ধতি বাতিল সিদ্ধান্তের গেজেট প্রকাশ করুন , না হয় যুক্তরাজ্য থেকে সর্বস্থরের জনসাধারনকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর অন্দোলন ঘোষণা করবে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ইউকে। ৮ জুলাই রোববার ইউনিয়নের হোয়াটচ্যাপলেস্থ কার্যালয়ে তাৎক্ষনিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক অখতরুজ্জামান ছাত্রদের জঙ্গি সাথে তুলনা করে দেয়া রুচিহীন ও ঘৃণ্য বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবী জানানো হয় । অথবা ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভিসিকে পদত্যাগ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করার আহবান জানানো হয় ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র ছাত্র সমাজের সাথে প্রতারণা করেছেন। ছাত্ররা তার বক্তব্যকে বিশ্বাস করে মাদার অব এডুকেশন উপাধি দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন । কিন্তু দীর্ঘ ৪ মাস অতিবাহীত হওয়ার পরও তিনি তার বক্তব্যের গেজেট প্রকাশ না করায় শুধু ছাত্র সমাজ না, সমগ্র জাতির সাথে প্রতারনা ও বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন । আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গেজেট প্রকাশ না করলে যুক্তরাজ্য থেকে বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের মতো আপামর ছাত্র সমাজ তাদের যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়ন করতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেখ হাসিনা তার দলীয় ক্যাডার ছাত্র লীগকে সাধারন ছাত্রদের উপর লেলিয়ে দিয়েছেন । আন্দোলনকে কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষে ভিসিকে ব্যবহার করছেন । ছাত্রীদের নির্যাতন ও ছাত্রদের উপর পৈশাচিক কায়দায় দলীয় ক্যাডার ও পুলিশ দিয়ে হামলা করা হচ্ছে।ছাত্রদের ধরে নিয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব কিছু ৫২ ভাষা আন্দোলনকে হার মানিয়েছে ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, কালের স্বাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জৈনক আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বেদড়ক পিটিছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় পেটানোর সময় অনেক মানুষ পাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। একটা কুকুর বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তাহলে কি এসব নামধারী ক্যাডাররা কুকুর থেকেও অধম।রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের একজন ছাত্রী তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। পরিপ্রেক্ষিতে ঐ ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রকার অপবাদ এবং ইয়াবা সেবনকারী উল্লেখ করে পুলিশ থানা নিয়ে নির্যাতন চালায়। এটার নামকি স্বাধীনতা। কোটা আন্দোলন কারীদের কি এভাবে হেনস্থা হতে হবে। আপনারাই বলুন!
আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধনাকী কিছু কথা বলতে চাই। আপনি বার বার উল্লেখ করেন-আপনি ছাত্র আন্দোলন করেছিলেন। আমরাও জানি আপনি ছাত্র নেতৃত্ব দিয়েছেন। তখনকার পরিস্থিতি এবং বর্তমান নির্যাতন হিসাব করলে বুঝবেন আপনার পৈশাচিক অবস্থান কোথা গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার কথার উপর বিশ্বাস করেই ছাত্রদের আন্দোলন বন্ধ করে। বিনিময়ে আপনি প্রতারণা করবেন? মাদার অব ডেমেক্রেসী মানে প্রতারণা হলে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে লজ্জাবনত হবে। আজও ছাত্রদের সেই বিশ্বাস আছে, আপনার দিকে চেয়ে কোটা সংস্কার যৌক্তিক দাবি আন্দোলনকারীগণ। আপনার বক্তব্যের গেজেট প্রকাশ করুন এবং ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধ করুন। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস প্রধানমন্ত্রী অজানা নয়। বায়ান্ন, একাত্তরের মতো ২০১৮তে ছাত্রদের বাধ্য করবেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কোটা আন্দোলনকারীদেরকে জঙ্গী বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইস্যুটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত চেষ্টা করছেন। আমরা অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবাঢক এস এইচ সোহাগ। নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন রাসেলের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ফাউন্ডার আতাউল্যা ফারুক, নির্বাহী সদস্য ফয়সল জামিল, আবদুর রহিম, নূর হোসেন, কানিজ ফাতেমা, আকলিমা ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, লুৎফুর রহমান লিংকন, লুবা চৌধুরী, ফজলে রহমান পিনাক, আকলিমুর রাজা চৌধুরী মান্না, মনোয়ার মোহাম্মদ, পারভেজ আযম, আবুল হোসেন নিজাম, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দি, মো: আবদুল ওয়াহাব রুবেল, নাজমুল হুদা মাসুদ প্রমুখ।