ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মৎস্য ও রেণু পোনার ব্যবসায় অনেকে স্বাবলম্বী

3,330
gb

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ||

কালীগঞ্জ উপজেলায় অনেকেই মাছের পোনার ব্যবসা করে নিজেদের দরিদ্রতা ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মৎস্য চাষ পুকুরে ডিম ফেলে পোনার ব্যবসা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বারোবাজার, মিঠাপুকুর, ঈশ্বরবা, আজমতনগর, সিমলা, চাঁদবা, শিবনগরসহ একাধিক গ্রামে পোনার ব্যবসা চলছে। উপজেলার আজমতনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিজের অন্যের কাছ থেকে মোট ৭০ বিঘা পুকুর লিজ নিয়ে দীর্ঘ ২৫৩০ বছর ধরে মৎস্য চাষ রেণু পোনার ব্যবসা করছেন। ঈশ্বরবা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ২০২৫ বছর ধরে মৎস্য চাষ পোনার ব্যবসা করছেন। তাদের ব্যবসায় লাভ দেখে অনেকেই পোনা মৎস্য চাষ শুরু করেছেন। ব্যবসা কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকার অনেক পরিবারের আয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক পুকুর বাঁওড় থেকে মাছ ধরার জন্য প্রায় দেড় হাজার জেলে রয়েছেন। একটি পুকুরে মাছ ধরতে তাদের আয় হয় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। ছাড়া তারা পুকুর থেকে ৭০৮০ টাকা কেজি হিসেবে মাছ ক্রয় করে বাইসাইকেলে গ্রামে গ্রামে মাছের পোনা ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি হিসেবে  বিক্রি করে ৫০০৬০০ টাকা প্রতিদিন আয় করে তারা জীবনজীবিকা নির্বাহ করেন। কালীগঞ্জের রেণু পোনা মাগুরা, কুষ্টিয়া, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ছোটবড় রেণু পোনা ক্রয় করে তাদের এলাকার চাহিদা পূরণ করে থাকেন। মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুকুর বাঁওড় ভেসে গেলে মৎস্য অধিদফতর থেকে উৎপাদনকারীদের কোনো সাহায্য করা হয় না। সরকারিভাবে ঋণের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে তার তুলনায় পোনা উৎপাদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সে ঋণ সবার কপালে জোটে না। তার পরও কালীগঞ্জে মৎস্য চাষ রেণু পোনার ব্যবসা করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী।