সিলেটে ৫ রাজাকার পুত্রকে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের চিঠি

উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী তালিকায় বিতর্কিতরা

124
gb

উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বাছাই করা প্রার্থী তালিকায় রাজাকার পুত্রদের নাম থাকা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়েছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে।

প্রতিবেদনে একজনের তথ্য দেয়া হলেও জেলা আওয়ামী লীগের পাঠানো তালিকা দেখে ৪ আওয়ামী লীগ নেতাকে রাজাকারপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

তারা হলেন- জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাসিব মুনিয়া, সহ-দফতর সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল, কানাইঘাট উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ৪নং সাতবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ।

তাদের আগামী উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন না দিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ই-মেইলে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল।

ই-মেইলের কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। অনুরোধপত্রে লেখা হয়েছে- প্রিয় নেতা! আপনি বাংলার ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, তথা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সফল নেতা হিসেবে আবহমান বাংলার ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি ক্ষণজন্মা বঙ্গবন্ধু তনয়া। তাই আপনি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নয়নের মণি। আপনি পৃথিবীর ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন। আপনি অত্যন্ত দুঃসাহসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৪০ বছর পর নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করে বিচারের রায় কার্যকর করার সাহস দেখিয়ে চলেছেন। আপনি জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে জাতি আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহান স্বাধীনতা তথা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং জামায়াত-শিবিরের সন্তান বা তাদের পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্য একান্তভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনি আমাদের সবচেয়ে কাছের লোক। মুক্তিযোদ্ধারা পরিবার-পরিজনসহ আপনার সঙ্গে আছে ও থাকবে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই তালিকায় থাকা বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাসিব মুনিয়া নিজে রাজাকার এবং পিতা আবদুল খালিক শান্তি কমিটির সদস্য (আলবদর), বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল চন্দগ্রামের কুটুচান্দ রাজাকারের সন্তান, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল একাত্তরের থানা শান্তি কমিটির সভাপতি ঘাতক আজির উদ্দিনের সন্তান। কানাইঘাট উপজেলা নিবাসী জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ৪নং সাতবাঁক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশের বাবা আবদুল মন্নান ছিল রাজাকার।

আমরা আশা করব আপনি ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নে ভূমিকা রেখে রাজাকারমুক্ত সংসদ ও রাজাকারমুক্ত নির্বাচনী মনোনয়ন প্রদান করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল যুগান্তরকে জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশার কারণেই আমরা রাজাকারদের সন্তানমুক্ত প্রশাসন ও দল আশা করি। এরই ধারাবাহিকতায় এ অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। অনেক দাবিই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। আশা রাখি এ অনুরোধও তিনি মনোনয়ন দেয়ার সময় রাখবেন।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More