Bangla Newspaper

মৌলভীবাজারের ৩ উপজেলার ১৩২টি গ্রামে পানি বন্ধী

76

মো: মাহবুবুর রহমান রাহেল

টানা বৃষ্টিতে ও ভারতীয় ঢলে মনু নদী ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে এবং বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারের ৩ উপজেলার ১৩২টি গ্রামে পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর, হাজিপুর, টিলাগাও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। রাজনগর উপজেলার কামারচাক, টেংরা ও মনসুর নগর ইউনিয়নের ৪২ টির গ্রাম। তার মধ্যে কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর, মুন্সিবাজার ইউনিয়ন ও পৌরসভাধীন প্রায় ৩০ টি গ্রাম। কমলগঞ্জের কিছু এলাকা থেকে পানি নামলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রাজনগরের ২২ টি এবং কুলাউড়ার ৪০ টি গ্রাম।

বন্যা প্লাবিত এলাকায় এখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি ত্রাণ।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় ১১৫ টন চাল ও দেড় লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এর মধ্যে কমলগঞ্জে ৪৫ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা, কুলাউড়াতে ৫০ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা, রাজনগরে ১৫ টন চাল ও ২০ হাজার টাকা এবং শ্রীমঙ্গলে ৫ টন চাল ও ১০ হাজার টাকা।

বরাদ্ধ ঘোষণার সাথে সাথে জেলা কমলগঞ্জে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক। তবে শুরু হয়নি অন্যদুটি উপজেলায়।

সরজমিনে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, পানিবন্দী ও নদীভাঙ্গন কবলিত এ সকল ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়াতে মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এসকল এলাকার ফসলি মাঠ, টিউবওয়েল, স্কুলেও পানি ঢুকে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। গো খাদ্যর সংকট । মালামাল ও গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। চরম খাদ্য সংকটে না খেয়ে আছেন বন্যাকবলিতরা।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গতকাল থেকে তাদের ত্রাণ দেয়া হবে বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেহ তাদের দেখতে আসেনি।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার জানান, আজ নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে কোন ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছেনা। তবে বিকেলের মধ্যে আশা করছি ত্রাণ দিতে পারব।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বানী জানান, শুকনো খাবার ইতিমধ্যে এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে বৃষ্টির জন্য বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা হয়তো।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তোফায়েল ইসলাম জানান, ১১৫ টন চাল ও নগদ দেড় লক্ষ টাকা প্রাথমিক ভাবে যে ত্রাণ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আজকের বিকেলের মধ্যে সে ত্রাণ এলাকাগুলোতে পৌঁছে যাবে

Comments
Loading...