চারখাইয়ে তুচ্ছ ঘটনায় দফায়-দফায় সড়ক অবরোধে জনদূর্ভোগ; প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

534
gb

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজারঃ

তুচ্ছ ঘটনায় বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাইয়ে সড়ক অবরোধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছে একটি দূষ্কৃতিকারী মহল। ওই মহলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করলে দফায়-দফায় সড়ক অবরোধ করে তারা। সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় চারখাই বাজারে তারা কয়েক দফা সড়ক অবরোধ করে। তবে সড়ক অবরোধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করলেও প্রশাসন তাদের বিষয়ে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। আইনশৃখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের অন্যান্য বিভাগের রহস্যজনক নীরবতায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ জোন। এ জোনের উপর দিয়ে বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট এবং বড়লেখা উপজেলার যানবাহন চলাচল করে। গত রবিবার চারখাই সড়ক ফের অবরোধ করে রাখা হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ তুলে দিতে সক্ষম হন।
জানা যায়, চারখাইয়ের শিকারপুর গ্রামে দুই পক্ষের ভূমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে চারখাই পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।
এ সময় স্থানীয়দের সাথে এসআই সিরাজের বাগবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে তিনি একজনকে আটক করেন। এর কারণ জানতে এসআই সিরাজের সাথে আলাপ করতে গেলে স্থানীয় স্বচ্ছাসেবকলীগ নেতা লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা চারখাই সড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি অবরোধকারিদের আশ্বাস দেন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে চারখাই বাজারের চিকিৎসক ডা. জোবায়ের আহমদকে অন্যত্র চলে যাওয়ার দাবীতে কয়েক দফা সড়ক অবরোধ করে রাখে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একটি ব্যস্থ সড়কে এভাবে অবরোধ করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রশাসন উল্টো ডা. জোবায়েরের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
চারখাইয়ের সড়ক অবরোধ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী জানান, সড়ক অবরোধ করা অন্যায়। এটা নিয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভেবে দেখা উচিত। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকায় আমরা অনেক সময় অসহায়ত্ববোধ করি। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি সত্যিকারভাবে উদ্বেগের কারণ। আমরা আইনশৃংখলা সভায় এটি নিয়ে আলাপ করবো।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাক সরকার বলেন, সড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টির পিছনে কারা ইন্ধন দেয়, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরণের কিছু করলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবে।