এশা প্রসঙ্গঃ শ্লীলতাহানীই কি তবে শ্রেষ্ঠ বিচার?

535
gb

সোনিয়া জামান::

একজন যদি আপনাকে ভেংচি মারে তাহলে তার মুখ ভেঙে দেয়াটাই আপনার কাছে যোগ্য শাস্তি? একজন যদি আঙুল তুলে কথা বলে তাহলে এককোপে তার হাতটাকে দশ হাত দূরে ছিটকে ফালানোটাই আপনার কাছে যোগ্য শাস্তি বলে মনে হয়? আমি এশার কথা বলছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে তুমুল সমালোচিত এশা। এশা সত্যিই পায়ের রগ কেটেছে কিনা এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর লেখালিখি চলছে অনলাইনে, আর বাস্তবেও বহু মানুষ ক্ষিপ্ত। কিন্তু আসল সত্যিটা কি?

রাজনৈতিক কূটকাচাল নিয়ে আমি বলতে যাবো না। তবে শুনলাম পায়ের রগ কাটার দায়ে অভিযুক্ততার ভিত্তিতে আসল সত্যিটা বের করার জন্য তদন্ত চলছে। আপাতত যদি ধরে নেই যে সেই ওই নৃশংস কান্ডটা করেছে তবে নিঃসন্দেহে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেটা অন্যায় সেটা সবসময়ই অন্যায়। এই অন্যায়, অপরাধের শাস্তি দেশের আইন দেয়ার কথা। একটা অন্যায়ের জবাব দিতে গিয়ে আরেকটা অন্যায় করা কখনোই সুবিবেচকের কাজ নয়। এটা বর্বরতা, অমানবিকতা। একটা মেয়ের পোশাক নিয়ে টানা হেঁচড়া করা, গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করা কখনোই কোনও সভ্য মানুষের কাজ নয়। অথচ এশার প্রতি লাঞ্ছনার পক্ষে একদল জাহির করছে। অন্যায়ের পক্ষে ইন্ধন জোগাচ্ছে। চারদিক থেকে নৃশংস, কামলোলুপ থাবা তাকে নিষ্পেষিত করে ফেলতে চাইছে। তারা যদি মানুষ হতো তবে এশার কুকর্ম, নৃশংসতার বিরুদ্ধে তারা বিচার চাইতে পারতো, আন্দোলন করতে পারতো।

কিন্তু তার প্রতি যা করা হয়েছে সেগুলো বর্বরতা, অমানবিকতারই নামান্তর। ন্যায়বিচারের দিকে না গিয়ে আইন নিজের হাতে নিয়ে ওরা নিজেদের চরম বর্বর, পৈশাচিক, বেআইনী দিকটাই তুলে ধরলো। । যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তারা কখনও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হতে পারেনা। সে যেই হোক না কেন! ন্যায় অন্যায়ের মাঝে দল টানাটানি কাঁদাছোড়াছুড়ি দলকানারাই করতে পারে। আমি কোনও দলের পক্ষ হয়ে বলছি না। আমার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বলছি। আমি অবাক হই কিছু মুক্তচিন্তক-মুক্তমনাদেরকেও যখন ওইদলে দেখতে পাই। অমন বর্বরতাকে কি করে সাপোর্ট করছেন তারা? বিষয়টা কি তাদের কাছে শরীয়াহপন্থী মুমিনদের মতো আচরন বলে মনে হচ্ছে না? এশাকে ধর্ষনের প্রকাশ্যে হুমকি দেয়া হয়। অনলাইনে নোংরা লেখালিখি করে আক্রমণ করা হয়। অথচ এগুলো আপনাদের কাছে মজার বলে দেখছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াটাকে আপনি এত রসালো চোখে কিভাবে দেখছেন? একটা মেয়ের শ্লীলতাহানীকে কিভাবে এতোটা রসিয়ে উপভোগ করছেন? আপনি কি আদৌ মানুষ? আপনার মাঝেও তো দেখছি ধর্ষকের বসবাস। ছিঃ কিভাবে পারেন!!!

নারীদের ন্যায়বিচারের পক্ষে যারা কাজ করেন তাদের কি মনে হয় না একবারও যে, এশার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে! যাহোক— অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া যেমন অন্যায়, তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াটাও অন্যায়। আমার মতে, সবকিছুর সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্ত শেষে এশা অপরাধী বলে প্রমাণিত হলে এশার নামে মামলা হোক, এশা কৃত নৃশংসতার চরম শাস্তি আদালত নিশ্চিত করুক। আর এশার পোশাক নিয়ে যারা টানা হেঁচড়া করেছে, গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করেছে তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা হোক। নারী নিপীড়ন, লাঞ্ছনা, শ্লীলতাহানী করার দায়ে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করুক আদালত।