পিস্তল কিনে ফেসবুকে ছবি দিলেন সংসদ সদস্য

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ওরফে শওকত আলী গোলবাগী তার ফেসবুক প্রোফাইলে পিস্তল হাতে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে এমপির দাবি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তার সাথে শত্রুতা করছেন, তাই নিরাপত্তার জন্য তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছেন।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অস্ত্র হাতে এমপি বাবলুর একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে শুক্রবার থেকে এমপির প্রোফাইলে ছবিটি আর দেখা যাচ্ছে না।

 

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান চপল সাহা বলেন, ‘বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু গতকাল তার ফেসবুকে অস্ত্রসহ ছবি পোস্ট করেন। ছবি আমি ডাউনলোড করে রেখেছি। একজন আইন প্রণেতা হয়ে তিনি যে কাজটি করেছেন আইনের চোখে তা অপরাধ।’

‘ছবি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পরে তিনি তা সরিয়ে নেন,’ বলেন চপল সাহা।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের শর্তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে বিনা প্রয়োজনে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। এমপি সাহেব অনেক আগেই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। এ ব্যাপারে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল মতিন জানান, কোনো কারণ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। আগ্নেয়াস্ত্র ধরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া লাইসেন্সের বরখেলাপ।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে অনেকে এই ছবি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বলেন, একজন সংসদ কখনোই তার বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন না। এটা নিয়ে মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬ এর অনুচ্ছেদ ২৫ এর (ক) তে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, অন্যের ভীতি বা বিরক্তির কারণ হতে পারে, এমনভাবে প্রদর্শন করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনেও বলা হয়েছে।

ফেসবুকে পিস্তল হাতে ছবি দেওয়া প্রসঙ্গে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ওরফে শওকত আলী গোলবাগী জানান, এমপি হবার পর তার শত্রু বেড়ে গেছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তার সাথে শত্রুতা করছেন। করোনাকালে সাংবাদিকদের ফলমূল ও লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও সিনিয়র সাংবাদিকরা তার বিপক্ষে। সরকার থেকে এখনও বডিগার্ড দেওয়া হয়নি। তাই তিনি নিরাপত্তার জন্য ঢাকার একটি দোকান থেকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি পিস্তল কিনেছেন। কেনার সময় তার সাথে ১৫-২০ জন ছিল। তাদের কেউ পিস্তল হাতে ছবিটি তুলে ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন।

তার ফেসবুক প্রোফাইলে ছবিটি দেখা যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই ছবি আমার আইডিতে ছিল না।”

২০১৮ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট আসনটি তাদের শরীক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়। তবে মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা আজম খানের স্ত্রী ফেরদৌস আরা খান ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন দেয়।

নির্বাচনে রেজাউল করিম বাবলু ট্রাক মার্কা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। যেহেতু আসনটি বিএনপি শূন্য তাই বিএনপি বাবলুকে সমর্থন দেয়। এতে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন জোটের জাপা প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত করেন রেজাউল করিম বাবলু।

নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠে এমপি বাবলুর বিরুদ্ধে। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় পাঁচ হাজার টাকা দেখান। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে দেখান একটি পুরাতন মোটর সাইকেল যাতে তিনি চলাফেরা করেন। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার দু’মাসের মাথায় ৩৪ লাখ টাকায় প্রাইভেট গাড়ি কেনেন।

তখন এমপি বাবলু দাবি করেছিলেন, গাড়িটি তার বন্ধুরা উপহার দিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটার মালিকরা তাদের ভাটা রক্ষায় এমপিকে গাড়িটি কিনে দেন। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কেউ।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন