চীনে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে ‘নিষেধাজ্ঞা’, তথ্য দিলেই পুরস্কার

চীনে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি ও চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। চীনা কতৃপক্ষের চাপের মুখে নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকির পর গত ২ সেপ্টেম্বর তাইওয়ানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন চীনা আইনজীবী রুথ ওয়াং।

তার অপরাধ, চীনের অন্যতম পরিচিত আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটেস্ট্যান্ট চার্চ ‘জায়ন চার্চ’-এর সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াই লড়ছিলেন তিনি। 

 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত জুলাই মাসে ‘জায়ন চার্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা যাজক এজর জিন মুক্তি পেলেও, ২০২৫ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ৮ জন সদস্য এখনও চীনের বন্দিশালায় আটক আছেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বহুল আলোচিত ‘ধর্মের চিনায়ন’ (সাইনাসাইজেশন অব রিলিজিয়ন) নীতি চালু করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় জীবনের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এই নীতি বাস্তবায়নে বেইজিং এখন কেবল স্বাধীন ধর্মীয় অনুসারীদেরই দমন করছে না, বরং তাদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা আইনজীবীদেরও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

 

পরিস্থিতি আরো কঠিন করে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই দেশটির এক ডজনেরও বেশি শহরে ‘অবৈধ’ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের খবর পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শুধু উৎসাহ দেওয়াই নয়, তথ্যদাতাদের জন্য চালু করা হয়েছে আকর্ষণীয় নগদ অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউনান প্রদেশের হংহে এলাকায় ৩৫টি নির্দিষ্ট আচরণকে ‘অবৈধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত বাড়িতে কোনো ধর্মীয় সভার আয়োজন করা, সামাজিক মাধ্যম যেমন উইচ্যাট বা লাইভস্ট্রিমে যাজকদের বাণী দেওয়া, প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় প্রচারপত্র বিলি করা এবং অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষার আয়োজন করা।

 

একইভাবে কিংহাই প্রদেশের হাইদং অঞ্চলে হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যেন তারা প্রতিটি অনুষ্ঠানের ওপর নজর রাখে এবং যেকোনো ‘সন্দেহজনক’ ঘটনার তথ্য প্রশাসনকে জানায়।

তথ্য ফাঁসকারীদের পুরস্কৃত করার এই ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বড় বড় শহরগুলোতেও। যেমন সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরে সরকারের চোখে ‘অবৈধ’ এমন যেকোনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঠিক তথ্য দিতে পারলে ৮০০ রেনমিনবি (প্রায় ১২০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

২০১৩ সালে জিনজিয়াং এবং ২০১৯ সালে গুয়াংডংয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা কঠোর ব্যবস্থার অনুসরণেই এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশটির খ্রিষ্টান, মুসলিম ও তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পরিষ্কার ও ভীতিকর বার্তা পাঠানো হচ্ছে, হান-চীনা সংস্কৃতি ও কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শ মেনে চলা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

 

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া চীনের ‘পাবলিক সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পানিশমেন্ট ল’-এর নতুন সংশোধনী পুরো পরিস্থিতিকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। এই প্রথম আইনের মাধ্যমে তথাকথিত ‘অবৈধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে যেকোনো নাগরিককে ৫ থেকে ১৫ দিনের জন্য প্রশাসনিক আটকে রাখার আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। 

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন