বাঁশের সাঁকোয় ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত

249
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা  ||

গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গিদারী গ্রামের কালির বাজার এলাকায় মানস নদীর উপর ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। স্থানীয়রা ১ যুগ আগে নিজেরাই প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বিকল্প বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করলেও বর্তমানে সে বাঁসের সাঁকোটিও ভেঙেগিয়ে মানুষ চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার লোকজন বাধ্য হয়ে সাঁকোর নিচ দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে সাঁকোর নিচ দিয়ে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে তা অসম্ভব বলে দাবী করেন এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ।সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গত ১ যুগ ধরে জন প্রতিনিধিরা সাঁকো মেরামতের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও এখন পর্যন্ত সাঁকোটি নির্মানে কোন দরকারি পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। ফলে আমাদের স্বপ্ন অধরায় রয়েগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন প্রতিবারই নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকোটি মেরামত ও নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে। কবে ব্রিজ হবে, তাও জানেন না কেউ।
নুরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার ১০ হাজার মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার প্রায় আরও ৩/৫ মানুষ এবং কয়েক হাজার যানবাহান এ সাঁকোটি দিয়ে যাতায়াত করে। এরপরও ওই স্থানটিতে কোন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে মানুষের দুর্ভোগ রয়েই গেছে।
ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, ওপাড়ে স্কুল-বাজার, জনবসতি সবই আছে। এপাড়েও স্কুল ও মানুষের বসতি রয়েছে। কাজের প্রয়োজনে দুই পাড়ের মানুষই পারাপার হই কিন্তু এখানে কোনো ব্রিজ হয়নি। চেয়ারম্যান আসে, চেয়ারম্যান যায়, কেউ আর ব্রি তৈরি করে দেয়না। খালি ভোটের সময় ভোট নেয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ১ যুগ ধরে এ ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষ একটি ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগে আছেন। এ নিয়ে আমরা বহুবার আন্দোলন ও মানবন্ধন পর্যন্ত করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে কোন ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। এ বিষয়ে গিদারী ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হারুনুর রশিদের সাথে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য একনেকে অনুমোদন হয়েছে। অর্থ পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। ছবি ০২