সাপাহারে ভন্ড কবিরাজের সাজানো অপহরণে একটি পরিবার সর্বশান্ত

545
gb

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর সাপাহারে রিনাআক্তার (১২)নামের ৫ম শ্রেণী পড়–য়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে অসহায় এক চা-দোকানদারের নিকট থেকে লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করেছে দুলাল নামের এক ভন্ডকবিরাজ। সম্প্রতি উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মোড়ে হঠাৎপাড়ার দুখুমিয়ার পুত্র ভন্ড কবিরাজদুলাল মৌলভী চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটিয়েছে।জানা গেছে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মোড়ের অদুরে হঠাৎপাড়ার দুখু মিয়ার কওমী মাদ্রাসাপড়–য়া ছেলে দুলাল লেখা পড়ার পাশাপাশি নিজকে জ্বীনের কবিরাজ দাবী করে বিভিন্নস্থানে ঝাঁড় ফু সহ কবিরাজি করে আসছিল। এমনই অবস্থায় ওই মোড়ে ইউনুস আলীনামের এক চায়ের দোকানদারের পরিবারের সাথে দুখু মিয়ার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি
হয়। ঘনিষ্ঠতার জেরে আজ থেকে প্রায় ১৭দিন পূর্বে আগের দিনের মত এক রাতেচাওয়ালার অবুঝ শিশু কন্যা রিনা ও তার এক ছোট ভাই দুখু মিয়ার বাড়ীতে রাত্রী যাপন করে।দুষ্ট কবিরাজ দুলাল ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ওই রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনার ভাইকেবিছানায় রেখে রিনা আক্তারকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে সকালে রিনার মাকে ডেকে বলে যেআজ রাতে রিনাকে জ্বীনে তুলে নিয়ে গেছে তাকে ফেরত পেতে হলে এ কথা কাউকে বলাযাবেনা বললে দু’দিনের মধ্যেই তোমার স্বামী মারা যাবে। ভন্ড কবিরাজের কথা শুনে ভয়েরিনার মা তার স্বামীকেবুঝিয়ে ঘটনাটি বলেন সে সাথে অন্যকাওকে ঘটনাটি না বলারজন্যও অনুরোধ করেন। সহজ সরল চা দোকানদার ও তার স্ত্রী এটি জ্বীনের ঘটনা ভেবে কাওকেকিছু না বলে কবিরাজ দুলালের সাথে সারাক্ষন যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এরই মধ্যে ভন্ড ও
চালাক কবিরাজ দুলাল তার মেয়েকে ফেরাতে হলে অনেক টাকার দরকার তা না হলে জী¡নেরাতাকে কিছুতেই ফেরত দিবেনা বলে চা-দোকানদার ও তার স্ত্রীকে জানালে মেয়েকে ফেরতপেতে তারা বিভিন্ন এনজিও হতে লোন নিয়ে কয়েক দফায় মোট ৯৬হাজার টাকা
কবিরাজ দুললের হাতে দেয়। এর পরেও মেয়েকে ফেরত না দেয়ায় সম্প্রতি চা-দোকানদারইউনুস আলী তার স্ত্রীর সাথে বাক বিতন্ডতায় লিপ্ত হলে ঘটনাটি জানা জানি হয়। এর পরস্থানীয় লোকজন কবিরাজ দুলালকে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভয়ভীতি দেখালেগত ১৬ফেব্রæয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দুলাল তার নিজ বাড়ী হতে১৭দিন জিম্মিকরে রাখা শিশু কন্যা রিনা আক্তার কে তার মা-বাবার নিকট প্রদান করেন।এ বিষয়ে কবিরাজ দুলালের সাথে কথা বলতে মঙ্গলবার সকালে তার বাসায় গেলে সে পলাতকথকায় তার পিতাকে না পেয়ে তার মা’র সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার কথা অস্বিকারকরেন কিন্তু জিম্মিকরে রাখা রিনাকে শুক্রবার ফেরত দেয়া ও রিনার পিতা-মাতার নিকট থেকেতার ছেলের ৪০হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। অপর দিকে চা-দোকানদার রিনারপিতা-মাতার সাথে কথা বলতে গেলে মঙ্গলবার সকাল হতে তাদের চায়ের দোকানটি বন্ধ
থাকায় তাদের সাথে কথা বলা যায়নি।এবিষয়ে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শামসুুল
আলাম চৌধুরী জানান যে এখনও এসংক্রান্ত বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ আসেনিঅভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যাবস্থাগ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান তবে স্থানীয়ভাবেআগামী বৃহস্পতিবারে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ওই মোড়ে দরবার বসার কথা রয়েছে বলেস্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক মোজাম জানিয়েছেন। চা-দোকানদার ইউনুসআলীর বাড়ী উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামে, দীর্গ দিন থেকে সে নিশ্চিন্তপুর মোড়ে একটিদোকান ঘর ভাড়া নিয়ে পিছনে আবাসীক ও সামনে চয়ের দোকান করে স্ত্রী-পরিবার সসেখানে বসবাস করে আসছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া ওই ভন্ড কবিরাজ দুলালইতোপূর্বে ওই গ্রামের অনেকের সাথে ভন্ডামী করে অনেক টাকা আতœসাত করেছে,এমনকি এক গৃহবধুকে টাকা দ্বিগুন হওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রথমে ১০হাজার টাকা
২০হাজার টাকায় রুপান্তর করে পরবর্তীতে ওই গৃহ বধুর ৫০হাজার টাকা চিটিং করেআতœসাত করেছে বলেও ওই এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন।