ঝিনাইদহে মিটিং এর নামে স্কুলে থাকেন না প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা

208
gb

আতিক রহমান ঝিনাইদহ থেকে ফিরে

ঝিনাইদহে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা মিটিং এর নামে স্কুলে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে শহরে বিভিন্ন কাজ কর্ম ও ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আসা-নেওয়া অথবা বাড়ীতে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তবে বেশী দেখা যায় পৌর সীমান্তবর্তী, ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী, গ্রামের ভিতরের, রাস্তা খারাপ এলাকার স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। এক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম দেখা যায় কতিপয় দায়িত্ববান ও পৌর এলাকার মধ্যের বেশীরভাগ স্কুল গুলোর প্রধান শিক্ষকদের।

ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাস থেকে প্রধান শিক্ষকরা অফিসের ক্লাস্টার মিটিং, বিভিন্ন মিটিং, খাতায় স্বাক্ষর করানো, ল্যাবট্যাব আনা, ক্লাস রুটিংসহ বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন সময়ে প্রধান শিক্ষকরা স্কুল ফাঁকি দিচ্ছেন। ক্লাসটার মিটিং, অফিস মিটিং ও বিভিন্ন মিটিং এর দিন সকালে মিটিং থাকলে মিটিং সেরে এরপর আর স্কুলে যাননা অথবা বিকালে মিটিং থাকলে সকালে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সকাল ১১ টার দিকে শহরে এসে কাজ কর্ম সেড়ে বিকালে যাচ্ছেন মিটিং এ। ল্যাবট্যাব দেয়ার দিনে দেখা যায় সকাল ১০-১১ টার মধ্যে প্রধান শিক্ষকরা স্কুলের খাতায় স্বাক্ষর করে বাড়ীতে চলে আসেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ল্যাবট্যাব প্রদান করার কথা ছিল বিকাল সাড়ে ৩/৪ টার দিকে। জানুয়ারী মাসের প্রথম থেকে শুরু হয়েছে আরেক ধরনের ফাঁকি। ঐ ফাঁকিগুলোর সাথে যোগ হয়েছে বিভিন্ন নামীদামী স্কুলে সন্তানদের নিয়ে ভর্তি, জামা কাপড় ক্রয়সহ বিভিন্ন কাজ।

বিভিন্ন উপজেলার সহকারী শিক্ষরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকেরা সকালে স্কুলে গিয়ে খাতায় স্বাক্ষর করে চলে আসছেন, এরপর তারা আর ফিরছেন না স্কুলে। আবার কোন কোন প্রধান শিক্ষক আগেরদিন খাতায় স্বাক্ষর করে পরের দিন মিটিং এর কথা বলে সারাদিন স্কুলে উপস্থিত হন না। তবে প্রধান শিক্ষকের বদলে যে শিক্ষকের দায়িত্ব দেন তিনি প্রধান শিক্ষকের চাটুকারিতা করেন। প্রধান শিক্ষকের কথা তিনি কারোর নিকট বলেন না। আবার ঐ শিক্ষকের বিভিন্ন ছুটি ও সুযোগের সময় প্রধান শিক্ষক কিছু বলেন না। আরো কিছু সহকারী শিক্ষক আছেন যারা প্রধান শিক্ষকের সাথে তালে মিলিয়ে চলেন তারাও বিভিন্ন সময়ে ছুটি ও সুযোগ পায়। এতে করে আমরা যারা সাধারন সহকারী শিক্ষক আছি তারা সময় মত সিএল পাচ্ছিনা। বৎসরে ২০ দিন সিএল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও সিএল নিতে গেলে বিভিন্ন কারন দেখায়, দিতে চান না। তারা আরো বলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি স্কুলের মহিলা প্রধান শিক্ষক সময়মত একজন সহকারী শিক্ষকে সিএল না দেওয়ায় ডাক্তার দেখানোর অভাবে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হরিণাকুন্ডেুর কন্যাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম খোকন সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ২/৩ দিন স্কুলে থাকেন। এমন সপ্তাহ আছে একদিনও স্কুলে সম্পুর্ন দিন থাকে না। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সারাদিন হয় উপজেলা না হয় জেলা প্রাথমিক অফিসে থাকেন। তবে এবিষয়ে সাবেক কয়েকজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার হাজিরা খাতায় লাল কালি দিয়েছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আর কোন ব্যবস্থা উপজেলা শিক্ষা অফিস নেইনি বলে ঐ শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাওলানাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর জাহান শিমু স্কুলে ঠিকমত না থাকার কারনে ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে দুই গ্রুপে বিভক্ত আছে। প্রায়ই শিক্ষকেদের তুই তগারি করে গন্ডগোল হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী অনুপাতের চেয়ে শিক্ষক বেশী আছে। রুপ নিয়েছে প্রকট। যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। এমন আরো অনেক ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে তা কেহ জানতে পারছে না।

এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের মোবাইল করলে বলেন ক্লাস্টার মিটিং, অফিসের মিটিং/কাজে বাহিরে আছি। আবার কোন কোন প্রধান শিক্ষক মোবাইল কল পর্যন্ত রিসিভ করেন না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিকট মোবাইল করলে বলেন আমাদের নিকট থেকে কোন ছুটি নেননি অভিযুক্ত শিক্ষকরা। তবে এ ব্যাপারে কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকেজ করেছেন বলে শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান।